বেড়েছে পাসের হার কমেছে জিপিএ-৫

এসএসসির ফল প্রকাশ ।। চট্টগ্রামে ৭৮ দশমিক ১১ শতাংশ উত্তীর্ণ

সবুর শুভ

মঙ্গলবার , ৭ মে, ২০১৯ at ৫:৪৬ পূর্বাহ্ণ
792

এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড পাসের হারে এবার ‘কিছুটা’ উঠে দাঁড়িয়েছে। তবে পিছিয়ে পড়েছে জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে। গতবারের তুলনায় এবার পাসের হার ২ দশমিক ৬১ শতাংশ বাড়লেও জিপিএ-৫ কম পেয়েছে ৭০১ জন। আট বছর আগে ২০১২ সালে এই বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষার পাসের হার ছিল ৭৯ দশমিক ০১ শতাংশ। এরপর নানা উত্থান-পতন শেষে গতবছর দাঁড়ায় ৭৫ দশমিক ৫০ শতাংশে। তবে এবারের ফলাফলে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৮ দশমিক ১১ শতাংশে। গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১২টায় চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করে। এরপর কেন্দ্রে কেন্দ্রে ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এসময় বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মাহবুব হাসান, সচিব প্রফেসর শওকত আলম, কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর জাহেদুল হক, বিদ্যালয় পরিদর্শক প্রফেসর আবু তাহের ও উপপরিচালক (হিসাব ও নিরীক্ষা) নারায়ন নাথ উপস্থিত ছিলেন। একই সময় দেশের অন্যান্য শিক্ষাবোর্ডের অধীনেও এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়।
ফলাফল সম্পর্কে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মাহবুব হাসান বলেন, এবার জিপিএ-৫ এর সংখ্যা কমলেও পাসের হার বেড়েছে। এ ফলাফলে বসে না থেকে আমাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে অনেকদূর। এক্ষেত্রে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদেরকে আরো তৎপর হতে হবে। এ তৎপরতার কারণে সামনে আরো ভালো ফলাফলের প্রত্যাশা শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের। মোহাম্মদ মাহবুব হাসান বলেন, প্রকাশিত ফলাফলে কোনো প্রকার ভুলত্রুটি পরিলক্ষিত হলে কিংবা অসঙ্গতি থাকলে তা ফলাফল প্রকাশের পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে বোর্ড কর্তৃপক্ষকে (পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক) লিখিতভাবে জানাতে হবে। ৭ মে থেকে আগামী ১৩ মে পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এসএমএস-এর মাধ্যমে উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করা যাবে।
গতবারের ফলাফলে পাসের হার সাত বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ছিল। ২০১৭ সালে পাসের হার ছিল ৮৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ। এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৭ হাজার ৩৯৩ জন। গতবার এ সংখ্যা ছিল ৮ হাজার ৯৪। এবার কমেছে ৭০১ জন।
গতবারের ফলাফলে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা সবক্ষেত্রেই পাসের হার কমেছিল চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে। এবার সবক্ষেত্রে পাসের হার বেড়েছে। বিজ্ঞান বিভাগে গতবার পাসের হার ছিল ৯০ শতাংশ। এবার বেড়ে হয়েছে ৯১ দশমিক ৪৬ শতাংশ। মানবিকে গতবার পাসের হার ৬০ দশমিক ১৩ শতাংশ। এবার বেড়ে হল ৬৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে গতবারের পাসের হার ৭৮ দশমিক ৮৬ শতাংশ। এবার হয়েছে ৮০ দশমিক ৮৫ শতাংশ।
জিপিএ-৫ ও পাসের হারে ২০১৬ সালের এসএসসির ফলাফলে চমক ছিল চোখে লাগার মতো। ২০১৭ সালে সেই চমক ফিকে হয়ে গিয়েছিল অনেকটা। ২০১৮ সালে এসে তা আরো বিবর্ণ হয়। এবার পাসের হার বাড়ার কারনে কিছুটা প্রাণ ফিরল ফলাফলে। তাই সার্বিকভাবে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা পাসের হার নিয়ে একদিকে যেমন কিছুটা স্বস্তিতে। অন্যদিকে জিপিএ-৫ এর ছন্দপতন নিয়ে খানিকটা অস্বস্তিতে। সবমিলিয়ে এবারের এসএসসির ফলাফলকে স্বস্তি ও অস্বস্তির মিশেল বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
শিক্ষাবোর্ডের পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড প্রতিষ্ঠার ২০ বছরের ইতিহাসে ২০১৪ সালে পাসের হার ছিল সর্বোচ্চ ৯১ দশমিক ৪০ শতাংশ। ২০১৬ সালে পাসের হার ছিল ৯০ দশমিক ৪৫ শতাংশ। ২০১৭ সালে পাসের হার ৮৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ। এসএসসি পরীক্ষায় ২০১৫ সালে পাসের হার ছিল ৮২ দশমিক ৭৭ শতাংশ। ২০১৩ সালে পাসের হার ৮৮ দশমিক ০৪ শতাংশ। ২০১২ সালের ফলাফলে ৭৯ দশমিক ০১ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছিল।
গতবার এসএসসির ফলাফলে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে মোট ৮ হাজার ৯৪ পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়। ২০১৭ সালে পেয়েছিল ৮ হাজার ৩৪৪ পরীক্ষার্থী। এবার পেয়েছে ৭ হাজার ৩৯৩ শিক্ষার্থী। ২০১৬ সালে এ সংখ্যা ছিল ৮ হাজার ৫০২ জন। ২০১৫ সালের ফলাফলে ৭ হাজার ১১৬ জন। ২০১৪ সালে রেকর্ড সংখ্যক ১০ হাজার ৮৮৪ জন জিপিএ-৫ পাওয়ার কৃতিত্ব ছিল চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের। ২০১৩ সালের ফলাফলে এ সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ৩৫৮ জন। ২০১২ সালে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৫ হাজার ১২১।
এবারের এসএসসিতে পরীক্ষা দেয়ার জন্য বসেছিল ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৯২ জন। গতবার ছিল ১ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৮ জন। ২০১৭ সালে ১ লাখ ১৭ হাজার ৮৯৭ জন শিক্ষার্থী। আর শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এবার বেড়ে হয়েছে ৩০টি। গতবার ছিল ২৭। ২০১৭ সালে ছিল ৫৬ টি। ২০১৬ সালে ৮৮। গতবারের সাথে তুলনা এবার এ ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে মাত্র ৩টি।
এবারের ফলাফল থেকে জানা গেছে, এসএসসি পরীক্ষায় চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীনে মোট ১ হাজার ৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৪৯ হাজার ৯৯২ জন। এর মধ্যে অংশ গ্রহণ করেন ১ লাখ ৪৯ হাজার ৬০৬ জন। এবারের পরীক্ষায় অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা হচ্ছে ৩৮৬ জন। ফলাফলে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা তিন বিভাগেই পাসের হার গতবারের চেয়ে বেড়েছে।
বিজ্ঞান বিভাগে এবার পাসের হার হচ্ছে ৯১ দশমিক ৪৬ শতাংশ। গতবার ছিল ৯০ শতাংশ। ২০১৭ সালে ৯২ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০১৬ সালে ৯৫ দশমিক ৯১ শতাংশ। ২০১৫ সালে এ বিভাগে পাসের হার ছিল ৯৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ। ২০১৪ সালে বিজ্ঞানে পাসের হার ৯৩ দশমিক ৮৭ শতাংশ ছিল। গতবারের তুলনায় এবার বিজ্ঞানে পাসের হার বেড়েছে ১ দশমিক ৪৬ শতাংশ।
মানবিক বিভাগে এবার পাসের হার বেড়েছে। এ বিভাগে এবারের পাসের হার হচ্ছে ৬৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ। গতবার ছিল ৬০ দশমিক ১৩ শতাংশ। ২০১৭ সালে ৭৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ। ২০১৬ সালে ৮৩ দশমিক ৮২ শতাংশ। ২০১৪ সালে পাসের হার ৮৫ দশমিক ৯৯ শতাংশ। গতবারের তুলনায় এ বিভাগে এবার পাসের হার বেড়েছে ৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ।
একইভাবে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে এবারের পাসের হার হচ্ছে ৮০ দশমিক ৮৫ শতাংশ। গতবার ছিল ৭৮ দশমিক ৮৬ শতাংশ। এর আগে ২০১৭ সালে ৮৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ। এক্ষেত্রে পাসের হার এবার বেড়েছে ১ দশমিক ৯৯ শতাংশ। ২০১৬ সালে ছিল ৯১ দশমিক ৬২ শতাংশ। ২০১৪ সালে পাসের হার ৯২ দশমিক ৯৪ শতাংশ থাকলেও ২০১৫ সালের ফলাফলে কমে হয়েছিল ৮২ দশমিক ৯৫ শতাংশ।
এবার বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৩৩ হাজার ৫২৭ জন। এর মধ্যে ছাত্র অংশ নেয় ১৭ হাজার ৭৪৭ জন। ছাত্রী অংশ নেয় ১৫ হাজার ৭৮০ জন। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পাস করেছে ৩০ হাজার ৬৬৩ জন। এর মধ্যে ছাত্র হচ্ছে ১৬ হাজার ১৫৫ জন এবং ছাত্রী সংখ্যা ১৪ হাজার ৫০৮ জন। পাসের হার ৯১ দশমিক ৪৬ শতাংশ। এবার বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ছাত্রদের পাসের হার ৯১ দশমিক ০৩ শতাংশ। ছাত্রীদের পাসের হার হচ্ছে ৯১ দশমিক ৯৪ শতাংশ।
মানবিক বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল মোট ৫০ হাজার ৮৮৯ জন। পরীক্ষায় এ বিভাগ থেকে অংশ নেয় ১৫ হাজার ৮০৮ জন ছাত্র এবং ছাত্রী ৩৫ হাজার ৮১ জন। পাস করেছে মোট ৩৩ হাজার ৪৮১ জন। এর মধ্যে ছাত্র সংখ্যা ৯ হাজার ৭৯৯ জন। আর ছাত্রী হচ্ছে ২৩ হাজার ৬৮২ জন। মানবিক বিভাগে এবার পাসের হার হচ্ছে ৬৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ। ৬০ দশমিক ১৩ শতাংশ। ছাত্রদের পাসের হার ৬১ দশমিক ৯৯ শতাংশ। ছাত্রীদের পাসের হার হচ্ছে ৬৭ দশমিক ৫১ শতাংশ।
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে এবার পরীক্ষায় অংশ নেয় মোট ৬৫ হাজার ১৯০ জন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র হচ্ছে ৩৫ হাজার ৯০ জন। আর ছাত্রীদের সংখ্যা ৩০ হাজার ১০০ জন। পাস করেছে ৫২ হাজার ৭০৭ জন। পাস করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র হচ্ছে ২৭ হাজার ৮৮৪ জন। ছাত্রীদের সংখ্যা হচ্ছে ২৪ হাজার ৮২৩ জন। এবার পাসের হার হচ্ছে ৮০ দশমিক ৮৫ শতাংশ। গতবার ছিল ৭৮ দশমিক ৮৬ শতাংশ। এক্ষেত্রে ছাত্রদের পাসের হার হচ্ছে ৭৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ। ছাত্রীদের পাসের হার ৮২ দশমিক ৪৭ শতাংশ। এবারের এসএসসিতে মোট পরীক্ষার্থী পাস করেছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৮৫১ জন।
এবারের ফলাফলে চট্টগ্রাম বোর্ডে ৭ হাজার ৩৯৩ জন জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগ থেকেই রয়েছে ৬ হাজার ৯৫৪ জন, মানবিক থেকে ২৭ জন ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে ৪১২ জন।
গতবার বিজ্ঞান থেকে জিপিএ-৫ পায় ৭ হাজার ২৮৫ জন। মানবিক থেকে ২৬ ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে পায় ৭৮৩ জন। ২০১৭ সালে ৮ হাজার ৩৪৪ জন জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগ থেকেই ৭ হাজার ৪৩৩ জন, মানবিক থেকে ৪৩ জন ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে ৮৬৮ জন ছিল। ২০১৬ সালে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৮ হাজার ৫০২ জন। ২০১৫ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৭ হাজার ১১৬ জন। মানবিক থেকে ১৭ এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে পেয়েছিল ৭৫৭ জন শিক্ষার্থী। ২০১৪ সালের ফলাফলে বিজ্ঞানে এ সংখ্যা ছিল ৭ হাজার ৩৯১ জন, মানবিক বিভাগ থেকে ১১৬ জন ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে ৩ হাজার ৩৭৭ জন জিপিএ-৫ পেয়েছিল।
ফলাফলে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের মধ্যে ছাত্র হচ্ছে ৩ হাজার ৬৫২ জন এবং ছাত্রী হচ্ছে ৩ হাজার ৭৪১ জন। এই বিভাগ থেকে জিপিএ-৪ থেকে ৫ পর্যন্ত পেয়েছে মোট ১৪ হাজার ১৮০ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৭ হাজার ৩৮৬ জন এবং ছাত্রী হচ্ছে ৬ হাজার ৭৯৪ জন। জিপিএ-৩ দশমিক ৫ থেকে ৪ পর্যন্ত পেয়েছে ৫ হাজার ৯৫৯ জন পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্র ৩ হাজার ২১৪ এবং ছাত্রী হচ্ছে ২ হাজার ৭৪৫ জন। জিপিএ-৩ থেকে ৩ দশমিক ৫ পর্যন্ত পেয়েছে ২ হাজার ৮৭২ জন পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্র হচ্ছে ১ হাজার ৫৯৪ জন এবং ছাত্রী হচ্ছে ১ হাজার ২৭৮ জন। জিপিএ-২ থেকে ৩ পর্যন্ত পেয়েছে ৬৯৭ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৪১৬ জন এবং ছাত্রী ২৮১ জন। এবার জিপিএ-১ থেকে ২ পর্যন্ত পাওয়া শিক্ষার্থী ১ জন ছাত্র।
মানবিক বিভাগ থেকে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৭ জন। এর মধ্যে ৩ জন ছাত্র এবং ২৪ জন ছাত্রী। জিপিএ-৪ থেকে ৫ পর্যন্ত পেয়েছে ১ হাজার ৬৪৪ জন। এর মধ্যে ছাত্র হচ্ছে ৩৩৬ জন এবং ছাত্রীর সংখ্যা ১ হাজার ৩০৮ জন। জিপিএ-৩ দশমিক ৫ থেকে ৪ পর্যন্ত পেয়েছে ৫ হাজার ২৪৪ জন। এর মধ্যে ছাত্রের সংখ্যা ১ হাজার ২০৩ জন এবং ছাত্রীর সংখ্যা ৪ হাজার ৪১ জন। ৩ থেকে ৩ দশমিক ৫ পয়েন্ট পর্যন্ত পেয়েছে ১১ হাজার ৫৫০ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৩ হাজার ১৬৫ এবং ছাত্রী ৮ হাজার ৩৮৫ জন। জিপিএ-২ থেকে ৩ পর্যন্ত পেয়েছে ১৪ হাজার ৬১৭ জন। এর মধ্যে ছাত্র হচ্ছে ৪ হাজার ৯৩৯ জন এবং ছাত্রী ৯ হাজার ৬৭৮ জন। জিপিএ-১ থেকে ২ পর্যন্ত পেয়েছে ৩৯৯ জন পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্র ১৫৩ জন এবং ছাত্রী হচ্ছে ২৪৬ জন।
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে অংশ নেয়া পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪১২। এর মধ্যে ছাত্র হচ্ছে ১০৫ জন এবং ছাত্রী ৩০৭ জন। জিপিএ-৪ থেকে ৫ পর্যন্ত পেয়েছে ৮ হাজার ৮২১ জন পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্র হচ্ছে ৩ হাজার ৪৭৪ জন এবং ছাত্রী হচ্ছে ৫ হাজার ৩৪৭ জন। জিপিএ-৩ দশমিক ৫ থেকে ৪ পর্যন্ত পেয়েছে মোট ১৩ হাজার ২০১ জন পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্র ৬ হাজার ৪৭৬ জন এবং ছাত্রী ৬ হাজার ৭২৫ জন। জিপিএ-৩ থেকে ৩ দশমিক ৫ পর্যন্ত পেয়েছে ১৬ হাজার ১৮২ জন। এর মধ্যে ছাত্র ৯ হাজার ৪৯ জন এবং ছাত্রী ৭ হাজার ১৩৩ জন। জিপিএ ২ থেকে ৩ পর্যন্ত পেয়েছে ১৩ হাজার ৮২৭ জন পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে ছাত্র ৮ হাজার ৫৯৫ জন এবং ছাত্রী হচ্ছে ৫ হাজার ২৩২ জন। জিপিএ ১ থেকে ২ পর্যন্ত পেয়েছে মোট ২৬৪ জন। এর মধ্যে ছাত্র ১৮৫ জন এবং ছাত্রী ৭৯ জন।
চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবার মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৬৫২ ছাত্র। গতবার ছিল ৩ হাজার ৯২২ জন। ২০১৭ সালে ৪ হাজার ৫৩ জন। ২০১৬ সালে ছিল ৩ হাজার ৯৩২ জন ছাত্র। ২০১৫ সালে জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের মধ্যে ছিল ৩ হাজার ৬১৬ জন ছাত্র। ২০১৪ সালে পেয়েছিল ৫ হাজার ৫৭৯ জন ছাত্র। এবার জিপিএ-৫ পাওয়া ছাত্রীদের সংখ্যা হচ্ছে ৩ হাজার ৭৪১ জন। গতবার ছিল ৪ হাজার ১৭২ জন। ২০১৭ সালে ৪ হাজার ২৯১ জন। ২০১৬ সালে ছিল ৩ হাজার ৭৩৪ জন। ২০১৫ সালে পেয়েছিল ৩ হাজার ৫০০ জন। ২০১৪ সালে ৫ হাজার ৩০৫ জন ছাত্রী জিপিএ-৫ পেয়েছিল। এবার জিপিএ-৪ থেকে ৫ পর্যন্ত পেয়েছে ১১ হাজার ১৯৬ জন ছাত্র এবং ১৩ হাজার ৪৪৯ জন ছাত্রী। জিপিএ-৩ দশমিক ৫ পয়েন্ট থেকে ৪ পর্যন্ত পেয়েছে ১০ হাজার ৮৯৩ জন ছাত্র ও ১৩ হাজার ৫১১ জন ছাত্রী। জিপিএ-৩ থেকে ৩ দশমিক ৫ পর্যন্ত পেয়েছে ১৩ হাজার ৮০৮ জন ছাত্র ও ১৬ হাজার ৭৯৬ জন ছাত্রী। জিপিএ-২ থেকে ৩ পর্যন্ত পেয়েছে ১৩ হাজার ৯৫০ জন ছাত্র ও ১৫ হাজার ১৯১ জন ছাত্রী। জিপিএ-১ থেকে ২ পর্যন্ত পেয়েছে ৩৩৯ জন ছাত্র ও ৩২৫ জন ছাত্রী।
এদিকে ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তুলনামূলকভাবে সব সময় খানিকটা পিছিয়ে থাকা তিন পার্বত্য জেলায় এবার ভাল ফল হয়েছে। তাছাড়া কঙবাজার এগিয়েছে গতবারের তুলনায়।
এবার কঙবাজার জেলার পাসের হার হচ্ছে ৭৮ দশকিম ৪৮ শতাংশ। গতবার ছিল ৭৪ দশমিক ২৯ শতাংশ। ২০১৭ সালে ৮৫ দশমিক ৯২ শতাংশ। রাঙামাটি জেলার পাসের হার এবার ৬৮ দশমিক ৭২ শতাংশ। গতবার ছিল ৬২ দশমিক ৭২ শতাংশ। ২০১৭ সালে ৬৩ দশমিক ৫১ শতাংশ। খাগড়াছড়ি জেলার এবারের পাসের হার ৬৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ। গতবার ৫০ দশমিক ৫২ শতাংশ। ২০১৭ সালে ৬২ দশমিক ৬৩ শতাংশ। বান্দরবান জেলার এবার পাসের হার হচ্ছে ৬৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ। গতবার ৫৭ দশমিক ৯২ শতাংশ। ২০১৭ সালে ৭৯ দশমিক ৬০ শতাংশ।
ফলাফলের বিষয়ে চট্টগ্রাম সিটি সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল হিসেবে এবার ভালো ফল হয়েছে। গতবার আমার স্কুল (বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা) থেকে ৭৬ জন জিপিএ-৫ পেলেও এবার তা বেড়ে হয়েছে ৮৭ জন। এটা মেয়েদের এগিয়ে যাওয়াকেই নির্দেশ করে বলে জানান এ শিক্ষাবিদ। এবার নগরে পাসের হার কমেছে গতবারের তুলনায়। এবার পাসের হার হচ্ছে ৮৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ। গতবার ছিল ৮৫ দশমিক ২২ শতাংশ। তবে নগরীর বাইরের স্কুলগুলোতে পাসের হার বেড়ে হয়েছে ৭৮ দশমিক ৬০ শতাংশ। গতবার ছিল ৭৭ দশমিক ২৬ শতাংশ।
চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে এবার ছাত্রদের পাসের হার হচ্ছে ৭৮ দশমিক ৪৩ শতাংশ। গতবার ছিল ৭৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ। এবার ছাত্রীদের পাসের হার ৭৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ। গতবারের ফলাফলে ৭৫ দশমিক ১৯ শতাংশ।

x