বেহাল সড়ক

সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি

বুধবার , ৯ অক্টোবর, ২০১৯ at ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ
36

সীতাকুণ্ডের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন ছলিমপুর সিডিএ আবাসিক এলাকা। রয়েছে স্কুল, মাদ্রাসা ও মসজিদসহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এখানে যাতায়াতের একমাত্র সড়কজুড়ে অসংখ্য ছোট-বড় গর্ত। পিচ উঠে গিয়ে ইট-সুরকি পর্যন্ত নেই। গাড়ি চলে হেলেদুলে। পায়ে হেঁটে চলাচল ও সম্ভব নয়। যানবাহন যেতে চায় না লক্কর-ঝক্কর সড়কটি দিয়ে। কিছু স্থানে গাড়ি থেকে নেমে ওই অংশ পার হতে হয় আবাসিক এলাকায় বসবাসকারীদের। প্রায় এক কিলোমিটার সড়কের পুরোটাই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। একাধিকবার সিডিএ চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন নিবেদন করেও কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন আবাসিক এলাকায় বসবাসরত বাসিন্দারা। অথচ আবাসিক এলাকা থেকে সরকার প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব নিচ্ছেন।
গতকাল সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের পূর্বে ৩০ ফুট প্রসস্ত সড়কটি সম্পূর্ণ চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। রাস্তার দুইপাশে ময়লা অবর্জনার স্তুপ। মহাসড়কের সংযোগ থেকে পুরো রাস্তায় রয়েছে খানা খন্দক। হেলেদুলে চলে গাড়ি। ফৌজদারহাট রেলস্টেশন ও জলিল গেইট যাওয়ার একমাত্র রাস্তা। আবাসিক এলাকার ১২’শ ৮টি প্লটের বসবাসকারী এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে। উন্নত সুযোগ সুবিধার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) প্লটগুলো বিক্রি করেছিলো। অথচ আবাসিক এলাকায় চলাচল রাস্তাটিও এখন দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। আবাসিক এলাকায় অবস্থিত স্কুল, মসজিদ, মাদ্রাসাসহ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পথের কাটা হয়েছে সড়কটি।
সিডিএ আবাসিক এলাকা জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম বলেন, সড়কটির দুর্দশা ও বেহাল অবস্থার কারণে সমস্যায় পড়তে হয় নামায পড়তে আসা মুসল্লিদের। আর একটু বৃষ্টি হলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা প্লটের মালিক আলহাজ্ব মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, সড়কটি নিয়ে কারও মাথাব্যথা নেই। যত ভোগান্তি চলাচলকারীদের। অথচ এই সড়ক দিয়ে স্কুল কলেজ মাদরাসার শিক্ষার্থীসহ ট্রেন যাত্রীরা স্টেশনে আসা-যাওয়া করে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্বারগণ একাধিকবার সড়কটি মেরামত করার অনুরোধ জানান। তারা সিডিএ রোড হওয়ার কারণে সড়কটি সংস্কার করছেন না। আর সিডিএ কর্তৃপক্ষও তিন যুগ ধরে কোন সংস্কার করছে না। তিনি আরও জানান সন্ধ্যা হলেই রাস্তাটি চলে যায় অন্ধকার রাজ্যে। নেই কোন লাইটিং এর ব্যবস্থা।
সিডিএ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে ভাটিয়ারি ও জঙ্গল ভাটিয়ারি মৌজায় সিডিএ’র সিলিমপুর আবাসিক প্রকল্প অবস্থিত। ১৯৬০-৬১ এবং ১৯৮০-৮১ সালে দুই দফায় সিলিমপুর প্রকল্পের জন্য ১৯৬ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। এ প্রকল্পে প্লট বরাদ্দ দেওয়া শুরু হয় আশির দশকে। দু’দফায় প্রায় এক হাজার ২০০ প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়। ২০১৩ সালে বাড়ানো হয় আরও ৭০টি প্লট। আবাসিক এলাকায় প্লট বাড়লেও বাড়েনি কোন সুযোগ সুবিধা।
ছলিমপুর সিডিএ কল্যাণ সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আরজু খান বলেন, আশির দশকে প্লট বরাদ্দ দেওয়ার পর রাস্তাগুলো নির্মাণ করা হয়। পর্যায়ক্রমে আবাসিক এলাকার পরিধি বেড়েছে। তার সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বসতি সংখ্যাও।
দীর্ঘ তিন যুগ পেরিয়ে গেলেও সংস্কার হয়নি সড়কগুলো। আমরা সমিতির পক্ষ থেকে বারবার রাস্তাটি সংস্কারের দাবি জানালেও কোন প্রতিকার হচ্ছে না। রাস্তাগুলো এখন চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তিনি রাস্তাটি দ্রুত সংস্কারের দাবিও জানান সিডিএ কর্তৃপক্ষের কাছে।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক (সিডিএ) চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ বলেন, বিষয়টি আমাকে স্থানীয় প্লটের মালিকরা জানিয়েছেন। বর্তমানে ওই প্রকল্পের পিডি ছুটিতে আছে। তিনি ছুটি শেষে অফিসে আসলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
বাঁশখালী

প্রতিনিয়ত বৃষ্টির ফলে বাঁশখালীর প্রধান সড়কে অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হওয়ার কারণে দুর্ভোগে পড়ছে সাধারণ জনগণ। যার ফলে প্রতিদিন বিভিন্ন স্থানে প্রতিনিয়ত ঝড়বৃষ্টি এবং প্রধান সড়ক থেকে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন এর মত পর্যাপ্ত ড্রেন ও কালভার্ট না থাকার কারণে সড়কের দু,পাশে পানি জমে সৃষ্টি হচ্ছে বড় বড় গর্ত আর ভেঙে গেছে প্রধান সড়কের দু,পাশ। আর এ গর্তের প্রতিনিয়ত ঘটছে নানা ধরনের দুর্ঘটনা । একদিকে সড়ক সম্প্রসারণ কাজ চলমান থাকলে ও নতুন করে সড়কে গর্ত সৃষ্টি ও দু,পাশ ভেঙ্গে পড়ায় আবারো দুর্ভোগে পড়বে বাঁশখালীর সর্বস্তরের জনগন । বর্তমানে প্রতিদিন বৃষ্টি হওয়ায় এবং প্রধান সড়কের গর্ত গুলোতে প্রতিনিয়ত পানি জমে থাকায় গর্তগুলো দিন দিন বিশালাকার ধারণ করে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিগত কয়দিন আগে সওজের পক্ষ থেকে প্রধান সড়কের কয়েকটি গর্ত ভরাট করলে ও তা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তার অন্যতম কারণ গর্ত ভরাট করে যাওয়ার পর আবারো ও সেগুলো গর্তে পরিণত হচ্ছে।
বাঁশখালীর প্রধান সড়কের সাথে অধিকাংশ দোকান পাট এত বেশি লাগানো দোকানের অধিকাংশ মালামাল রাস্তার উপর রাখে ব্যবসায়ীরা । তার উপর প্রধান সড়কের উপর ৮/১০ টি বাজার বসে প্রতিনিয়ত । জানা যায়, বাঁশখালীর যেসব এলাকায় বাজার অবস্থিত এবং প্রতিনিয়ত যানজট সৃষ্টি হয়ে দীর্ঘ ভোগান্তির কারণ হয় সেসব এলাকায় ১৮ ফুট থেকে ২৪ ফুট চওড়া করা হবে। সেগুলো হল কালীপুরের গুনাগরী এলাকা বৈলছড়ি ইউনিয়নের বৈলছড়ি বাজার ও চেচুরিয়া বাজার এলাকা, বাঁশখালী পৌরসভার জলদী মিয়ার বাজার এলাকা, চাম্বল ইউনিয়নের চাম্বল বাজার এলাকা, শীলকূপের টাইম বাজার এলাকা ২৪ ফুট চওড়া করা হবে। বাঁশখালীর প্রধান সড়কের পুকুরিয়া থেকে পুইছড়ি প্রেম বাজার পর্যন্ত সর্বত্র অসংখ্য গর্তে ভরে যাওয়ায় যান চলাচলে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে । অপরদিকে সড়কের দুপাশে ভেঙে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে প্রধান সড়ক।
উল্লেখ্য, বাঁশখালী প্রধান সড়কের যে স্থানে সরু ও বাঁকা এ রকম প্রায় ৭.৫ কিলোমিটার সড়কে দু,পাশে ৩ ফুট করে সম্প্র্রসারণ কাজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বছর ২১ মার্চ পটিয়া জনসভায় অপরাপর উন্নয়ন কাজের সাথে উদ্বোধন করেন। প্রায় ২৭ কোটি টাকা ব্যয়ে বাঁশখালীর প্রধান সড়ক ৭.৫ কিলোমিটার সড়কে দু,পাশে ৩ ফুট করে সম্প্রসারণ, চারটি কালভাট নির্মাণ রয়েছে। সড়কের দু,পাশে ১৮ ফুট থেকে শুরু করে তা ২৪ ফুট করা হবে। যেসব বাঁকে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা সংঘটিত হয় সেসব বাঁকগুলো ২৪ ফুট প্রশস্ত ও চওড়া করা হবে। তা হলো পুকুরিয়া ইউনিয়নের চাঁদপুর ও চন্দ্রপুর পাহাড় এলাকা, বৈলগাঁও মোড় এলাকা, পুর্ব বৈলগাঁও প্রাথমিক বিদ্যালয় ও খাদি মুড়া এলাকা, সাধনপুর ইউনিয়নের বণিক পাড়া, ব্রাহ্মণপাড়ার টেক ও লটমণি এলাকার টেকগুলো সোজা করা হবে। এছাড়া সাধনপুর ইউনিয়নের বাণীগ্রামে ২টি ও চাম্বল ইউনিয়নের চাম্বল এলাকায় ২টি করে ৪টি কালভার্ট নির্মাণ করা হবে। ইতিমধ্যেই পুকুরিয়া ও চাম্বলে প্রধান সড়কের উপর দুটি ব্রীজ নির্মাণ করা হয়।
বাঁশখালীর প্রধান সড়কের সম্প্রসারণ ও মেরামত সর্ম্পকে জানতে চাইলে দোহাজারী সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুমন সিংহ দৈনিক আজাদী বলেন, বর্তমানে বাঁশখালীর সড়কগুলো বিভাগীয় মেরামত কার্যক্রমের আওতায় সংস্কার কাজ করা হচ্ছে । এ সড়কের টইটং পর্যন্ত সংস্কার করার জন্য অচিরেই টেন্ডার করা হবে তখন আর এ সমস্যা থাকবেনা বলে তিনি জানান।

বোয়ালখালী
দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে বোয়ালখালী উপজেলার জনগুরুত্বপূর্ণ আলী আহমদ কমিশনার সড়ক।
অলি বেকারি থেকে আরম্ভ করে সৈয়দপুর গোরস্থানের টেক পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় ৮ কিলোমিটার অংশে রয়েছে বেশ কয়েকটি স্কুল-কলেজ মাদ্রাসা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র, গ্রামপঞ্চায়েত কার্যালয়। সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন ২০ হাজারেও অধিক লোকজনের যাতায়াত। প্রতিদিন এটি দিয়ে চলাচল করে থাকে অংসখ্য টেক্সি, রিকশা, মিনি ট্রাক, কিন্তু খানাখন্দ মাড়িয়ে চলাচল করতে গিয়ে হর-হামেশাই ঘটছে ছোটখাট দুর্ঘটনা।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় পুরো সড়কজুড়ে পিচের আস্তরণ উঠে গিয়ে অংসখ্য খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। সামপ্রতিক বর্ষণে ওই সব গর্তে পানি জমে কাদা-পানিতে একাকার হয়ে প্রায় ডোবায় পরিণত হয়েছে। এটি দিয়ে এখন চলাচল দুস্কর ুহয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। জনগুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটি অবিলম্বে সংস্কারের দাবি তুলেছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বেশ কয়েক বছর আগে সামান্য কার্পেটিং হলেও তা এতই নিম্নমানের ছিল যে দিন কয়েক যেতে না যেতেই রাস্তার অবস্থা বেহালদশায় পরিণত হয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এস এম জসিম উদ্দীনের সাথে কথা বললে তিনি সড়কটির দুরবস্থার সত্যতা স্বীকার করে দৈনিক আজাদীকে বলেন, সড়কটি সংস্কারের ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর বোয়ালখালীর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো: ফারুকুল ইসলাম বলেন, পল্লী সড়ক রক্ষণা-বেক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। একটি প্রস্তাব তৈরির কাজ চলছে। প্রস্তাবটি গৃহীত হলে অচিরেই এটির সংস্কার কাজ আরম্ভ হবে।

x