বেনাপোল বন্দরে একদিনে ১৮ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়

আখাউড়া স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি শুরু

মঙ্গলবার , ১১ জুন, ২০১৯ at ১০:৫৯ পূর্বাহ্ণ
37

ঈদুল ফিতরের টানা এক সপ্তাহ ছুটি শেষে বেনাপোল বন্দরে আবারো কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। এতে বেড়েছে পণ্য খালাস। একদিনে আমদানি পণ্য থেকে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে ১৮ কোটি ১১ লাখ টাকা। গতকাল ১০ জুন সকালে বেনাপোল বন্দর এলাকা ঘুরে পণ্য খালাসে ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যস্ততা দেখা যায়।
ব্যবসায়ী ও বন্দর সূত্রে জানা যায়, যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়াতে দেশের স্থলপথে যে পণ্য আমদানি হয় তার ৭০ শতাংশ হয়ে থাকে বেনাপোল বন্দর দিয়ে। বিশেষ করে এ বন্দর থেকে শিল্প কারখানায় ব্যবহৃত যন্ত্রাংশ ও কাঁচামালের আমদানি বেশি। পণ্য খালাসের কাজে বন্দর, কাস্টমস, সিঅ্যান্ডএফ, ট্রান্সপোর্ট ও বিভিন্ন ইনস্যুরেন্স কোম্পানির প্রায় ৫ হাজার কর্মকর্তা, কর্মচারী নিয়োজিত রয়েছে। প্রতিবছর সরকার এ বন্দর দিয়ে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আহরণ করে থাকে। খবর বাংলানিউজের।
বেনাপোল আমদানি-রপ্তানি ব্যবসায়ী সমিতির সহ সভাপতি আমিনুল হক জানান, এবার ঈদুল ফিতরের আগে ও পরে মিলে প্রায় এক সপ্তাহ বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এতে ব্যবসায়ীরা পণ্য খালাস নিতে পারেনি। তাই ঈদের ছুটি শেষে সব ব্যবসায়ীরা তাদের প্রয়োজনীয় পণ্য খালাস নিচ্ছেন। এতে সরকারের রাজস্ব আয় বেড়েছে।
বেনাপোল বন্দরের উপ পরিচালক (প্রশাসন) আব্দুল জলিল বলেন, বর্তমানে বেনাপোল বন্দরে সপ্তাহে ৬ দিনে ২৪ ঘণ্টা আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য হয়ে থাকে। ব্যবসায়ীরা যাতে বন্দর থেকে দ্রুত তাদের প্রয়োজনীয় পণ্য খালাস নিতে পারেন তার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে সব ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বেনাপোল কাস্টমসের সহকারী কমিশনার উত্তম চাকমা বাংলানিউজকে জানান, সরকারি ছুটি শেষে অফিস খুলেছে। কর্মকর্তা-কর্মচারী যারা ছুটিতে বাড়িতে গিয়েছিলেন তারা কর্মস্থলে ফিরেছেন। পণ্য খালাসে সবাই ব্যস্ত সময় পার করছেন। রাজস্ব গ্রহণকারী বেনাপোল সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজার এআরএম রকিবুল হাসান জানান, ৯ জুন বেনাপোল বন্দরে আমদানি পণ্য থেকে সরকারের কোষাগারে ১৮ কোটি ১১ লাখ টাকা রাজস্ব জমা পড়েছে। যা অন্যান্য সময়ের চাইতে প্রায় দ্বিগুণ বলে জানান তিনি।
বেনাপোল বন্দরের ট্রাফিক পরিদর্শক মনির হোসেন মজুমদার বলেন, ঈদ শেষে বন্দর থেকে পণ্য খালাসের চাপ অন্যান্য সময়ের চেয়ে একটু বেশি। খালাসকৃত পণ্যের মধ্যে রয়েছে শিল্প কারখানায় ব্যবহৃত মেশিনারিজ যন্ত্রাংশ, কাঁচামাল, ও খাদ্যদ্রব্য সামগ্রী। রফতানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে পাট ও পাটজাত দ্রব্য, মাছ, গার্মেন্টস সামগ্রী ও ক্যামিকেলসহ বিভিন্ন পণ্য।
জানা যায়, শবে কদর ও ঈদের ছুটি মিলে ২ জুন থেকে ৭ জুন পর্যন্ত বেনাপোল বন্দরে পণ্য খালাস কার্যক্রম বন্ধ ছিল। ৮ জুন অফিস খুললেও ঈদের আমেজ না কাটায় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে কর্মব্যস্ততা কম ছিল। ১০ জুন থেকে বন্দরে স্বাভাবিক কর্মব্যস্ততা ফিরে আসে।
এদিকে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা ৬ দিন বন্ধ থাকার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ঈদকে সামনে রেখে ৪ জুন থেকে শুরু হয়ে ৯ জুন পর্যন্ত এ বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও আখাউড়া-আগরতলা আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে ভারত-বাংলাদেশের বৈধ পাসপোর্টধারী যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক ছিল।
আখাউড়া আমাদানি-রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঈদের ছুটি শেষে সোমবার থেকে পুনরায় বন্দরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এতে স্থানীয় শ্রমিকদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের সেভেন সিস্টার খ্যাত সাতটি প্রদেশে মাছ, পাথরসহ বিভিন্ন পণ্য রপ্তানি করা হয়।
অন্যদিকে পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরও ৯ দিন বন্ধ থাকার পর গতকাল থেকে পুনরায় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পঞ্চগড় জেলা আমদানি-রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মেহদী হাসান খান বাবলা বাংলানিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

x