বৃষ্টির সাথে বাতাস হলেই উপড়ে পড়ে গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি

কাজী মোশাররফ হোসেন, কাপ্তাই

বুধবার , ১৭ জুলাই, ২০১৯ at ১০:২২ পূর্বাহ্ণ
12

কাপ্তাই উপজেলায় গত ৬ জুলাই থেকে টানা ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। ভারী বৃষ্টির সাথে একটু বাতাস হলেই কাপ্তাই সড়কের পাশে পাহাড়ের পাদদেশে লাগানো গাছপালা এবং বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে পড়ে। গাছ ও বৈদ্যুতিক খুঁটির সাথে পাহাড়ও ধসে পড়ে সড়কের উপর। যার ফলে কাপ্তাই চট্টগ্রাম সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। গত ১০ দিনে অন্তত ৬বার বিভিন্ন স্থানে সড়কের উপর পাহাড় ধস এবং গাছপালা ও বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে পড়ে। কাপ্তাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আবদুল লতিফ জানান , একবার সড়কের উপর পাহাড় ধসে পড়লে এবং গাছ ও খুঁটি উপড়ে পড়লে কয়েক ঘন্টা যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। গত ৭ জুলাই, ৯ জুলাই এবং সর্বশেষ গত ১৩ জুলাই কয়েক স্থানে গাছপালা ও খুঁটিসহ বড় ধরণের পাহাড় ধস হয়। পাহাড় ধসের ফলে মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় বলেও তিনি জানান।
বিএন স্কুল ও কলেজের উপাধ্যক্ষ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম জানান, পাহাড় ধস হলেই সড়কে যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়। এরকম পরিস্থিতিতে কাপ্তাই জেলা নৌ স্কাউটসের পক্ষ থেকে একাধিকবার সড়ক পরিষ্কার করে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। অবশ্য উপজেলা প্রশাসন, ফায়ার ব্রিগেড, পুলিশ ফোর্স এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে ভূমিকা রাখেন বলেও তিনি জানান। এ ব্যাপারে কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশ্রাফ আহমেদ রাসেল জানান, কাপ্তাই চট্টগ্রাম সড়কটির বেশিরভাগ অংশ একেবারে পাহাড় ঘেঁষে তৈরি করা হয়েছে। এই পাহাড়ের পাদদেশেই বিভিন্ন গাছপালা রোপণ করা হয়েছে। এর পাশেই বসানো হয়েছে বৈদ্যুতিক খুঁটি। বৃষ্টির সাথে বাতাস হলে একটি স্থানে যদি গাছ উপড়ে পড়ে সাথে সাথে বৈদ্যুতিক খুঁটিও উপড়ে পড়ে। গত কয়েক দিনে কাপ্তাই সড়কের উপর একাধিকবার গাছপালা ও বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে পড়ে সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয় বলেও তিনি জানান। অবশ্য প্রশাসন দ্রুততম সময়ের মধ্যে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয় বলেও তিনি জানান। বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে কাপ্তাই সড়কের একেবারে তীর ঘেঁষেই বৈদ্যুতিক খুঁটি বসানো হয়েছে। তাই বিভিন্ন সময়ে গাছপালা উপড়ে পড়লে অথবা পাহাড় ধস হলে বৈদ্যুতিক খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভবিষ্যতে বৈদ্যুতিক ক্যাবল গুলো মাটির নিচ দিয়ে নেওয়া যায় কিনা সে ব্যাপারে উর্দ্ধতন মহলে আলোচনা চলছে বলে বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়।

x