বৃষ্টির কাছে যেখানে অসহায় আত্মসমর্পণ ক্রিকেটের

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বুধবার , ১২ জুন, ২০১৯ at ৬:২০ পূর্বাহ্ণ
42

২০২২ সালে যখন মধ্য প্রাচ্যের দেশ কাতারে ফুটবল বিশ্বকাপের আসর বসবে তখন সেখানে থাকবে প্রচন্ড তাপদাহ। তাই মধ্য প্রাচ্যের তেল সমৃদ্ধ দেশটি পরিকল্পনা করছে সম্পূর্ণ কাভার্ড স্টেডিয়াম নির্মাণ করে সেখানে কৃত্রিমভাবে বাতাসের ব্যবস্থা করা হবে। যাতে গরমটা কম অনুভুত হয়। বর্তমানে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠানরত ক্রিকেট বিশ্বকাপে তেমন কিছু কাভার্ড স্টেডিয়াম থাকলে বোধহয় বেশ ভাল হতো। কারণ যে হারে বৃষ্টিতে পন্ড হতে বসেছে বিশ্বকাপের ম্যাচ, তাতে সে রকম স্টেডিয়াম ছাড়া এই বিশ্বকাপ সম্পন্ন করার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। কিন্তু সেটাতো আর সম্ভব নয়। তাই এভাবে রোদ-বৃষ্টির সাথে লুকোচুরি খেলতে খেলতে হয়তো শেষ করতে হবে এবারের বিশ্বকাপ। ইংল্যান্ডে এ সময়টাতে নাকি সচরাচর বৃষ্টি কম থাকে। কিন্তু এবারে আবহাওয়া যেন বিদ্রোহ করে বসল। বিশ্বকাপের এবারের আসরে বৃষ্টি যেন পিছু ছাড়ছেই না। গত দুদিনে আকাশের এই দুরবস্থার কারণেই হয়নি কোনো ম্যাচের ফলাফল। বৃষ্টি যেন এবারের বিশ্বকাপে সব মাত্রাকেই ছাড়িয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত বৃষ্টির কারণে পরিত্যক্ত হয়েছে তিনটি ম্যাচ। যা কিনা একটি রেকর্ড।
অথচ বিশ্বকাপের সবে ১৬টি ম্যাচ গেল গতকাল পর্যন্ত। এখনো অনেক পথ পাড়ি দিতে বাকি। এরই মধ্যে তিনটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ার পাশাপাশি একটি ম্যাচ হয়েছে কার্টেল ওভারে। বৃষ্টির কারণে এর আগে কোনো বিশ্বকাপে এতগুলো ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়নি। এর আগে ১৯৯২ ও ২০০৩ আসরে বৃষ্টিতে সমান দুটি করে ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছিল। কিন্তু এবারে এরই মধ্যে তিনটি ম্যাচ ভেসে গেছে বৃষ্টিতে। ১৯৯২ সালে অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ আসরে ভারত এবং শ্রীলঙ্কার মধ্যকার ম্যাচটি প্রথম পরিত্যক্ত হয়। বৃষ্টি শেষ হওয়ার পর সেবার হেলিকপ্টার আনা হয় মাঠ শুকানোর জন্য। কিন্তু কোনো মতেই আর খেলা মাঠে গড়ানো যায়নি। দ্বিতীয় যে ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়েছিল সে ম্যাচে প্রতিপক্ষ ছিল ইংল্যান্ড এবং পাকিস্তান। প্রথম ইনিংসের খেলা ঠিক মতো শেষ হলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ৮ ওভার হওয়ার পরই নামে বৃষ্টি। ফলে বাকি খেলা আর মাঠে গড়ায়নি। বিশ্বকাপের এবারের আসরটিও সেবারের মতো রাউন্ড রবিন পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
২০০৩ দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে বাংলাদেশ এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার ম্যাচটি প্রথম পরিত্যক্ত হয়। প্রথম ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাট করতে পারলেও বাংলাদেশ ব্যাটিং করার সময় আট ওভারের পর নামে বৃষ্টি। আর মাঠে গড়ায়নি খেলা। একই বিশ্বকাপে পরিত্যক্ত হওয়া পরের ম্যাচটি ছিল পাকিস্তান এবং জিম্বাবুয়ের মধ্যে । সেদিন ম্যাচ শুরু হওয়ার আগে থেকেই বৃষ্টি নামতে থাকে। পরে কার্টেল ওভারে খেলা ৩৮ ওভারে নেমে এলেও প্রথম ইনিংসের ১৪তম ওভারের সময় আবার বৃষ্টি নামে। ফলে আর খেলা অনুষ্ঠিত হতে পারেনি। অপমৃত্যু ঘটে আরো একটি ম্যাচের। এছাড়া ১৯৯৬ বিশ্বকাপে কেনিয়া এবং জিম্বাবুয়ের ম্যধকার ম্যাচটি হতে পারেনি বৃষ্টির কারণে। ১৯৯৯ বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ড-জিম্বাবুয়ে ম্যাচটির পরিনতিও একই হয়েছিল। ২০১১ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়া এবং শ্রীলঙ্কার মধ্যকার ম্যাচটি কেড়ে নেয় বৃষ্টি। আর গত আসরে বাংলাদেশ এবং অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার ম্যাচটি ধুয়ে যায় বৃষ্টিতে। আর এবারের আসরে এরই মধ্যে তিনটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়ে গেছে বৃষ্টির কারণে। যেখানে বৃষ্টির প্রথম শিকার পাকিস্তান এবং শ্রীলংকার মধ্যকার ম্যাচটি। গত ৭ জুন এই ব্রিস্টলেই ম্যাচটি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বৃষ্টির কারণে টসই করতে পারেনি ম্যাচের আম্পায়াররা। এরপর বৃষ্টির দ্বিতীয় শিকার দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার মাচটি। গত ১০ জুন সাউদাম্পটনে ম্যাচটি মাচেটি মাঠে গড়ালেও শেষ হতে পারেনি। সে ম্যাচে মাত্র ৭.৩ ওভার খেলা হতে পেরেছে। এরপর বৃষ্টির বাগড়ায় পরিত্যক্ত ঘোষণা করতে হয় ম্যাচটি। অপমৃত্যু ঘটে আরো একটি ম্যাচের। সেই ব্রিস্টলেই বৃষ্টির সবশেষ শিকার বাংলাদেশ এবং শ্রীলংকার মধ্যকার ম্যাচটি। যা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল গতকাল। কিন্তু বৃষ্টির কাছে আরো একবার অসহায় আত্নসমর্পন ক্রিকেটের। এই ম্যাচেও মাঠে নামা হয়নি দু দলের। টস করতেও নামতে পারেনি আম্পায়াররা। এরই মধ্যে তিনটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়ে গেছে বৃষ্টির কারণে। সামনে আরো কয়টা ম্যাচ চলে যায় বৃষ্টির পেটে সেটা সময়ই বলে দেবে। তিনটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হলেও একদিক থেকে ভাগ্যবান বলতে হবে শ্রীলংকাকে। গত ৪ জুন কার্ডিফে অনুষ্ঠিত শ্রীলংকা এবং আফগানিস্তানের মধ্যকার ম্যাচটি বৃষ্টির কবলে পড়লেও শেষ পর্যন্ত ৫০ ওভারের পরিবর্তে ৪১ ওভারে অনুষ্ঠিত হয় ম্যাচটি। আর সে ম্যাচেই একমাত্র জয়টি পায় শ্রীলংকা। এবারের বিশ্বকাপে বৃষ্টির কারণে ম্যাচ পরিত্যক্ত হওার পাশাপাশি অনুশীলনেও বিঘ্ন ঘটছে দল গুলোর। কার্ডিফে ইল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি খেলার পর বাংলাদেশ দুদিন মাঠে নামতে পারেনি অনুশীলনের জন্য। কারন বৃষ্টির বাধা। ফলে একদিকে যেমন প্রস্তুতি নিতে পারছেনা দল সমুহ তেমনি অন্যদিকে উদ্বেগ আর উৎকন্ঠায় থাকতে হচ্ছে ম্যাচ নিয়ে। কারন সময় যতই গড়াচ্ছে ততই দল গুলোর উদ্বেগ আর উৎকন্ঠা বাড়ছে। কারণ সামনের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ গুলো শেষ করতে পারবে কিনা দল গুলো তা নিয়ে বাড়ছে দুশ্চিন্তা। একেতো এবারের বিশ্বকাপের ফরমেটটা বেশ লম্বা। দশটি দল একে অপরের বিপক্ষে খেলবে। প্রতিটি দলের খেলতে হবে নয়টি করে মাচ। আর সেখানে যদি একাধিক ম্যাচ এভাবে বৃষ্টির পেটে চলে যায় তাহলে তা দল গুলোর জণ্য হবে বড় হতাশার। কারন কখন বৃষ্টি এসে হামলা করে ম্যাচ পন্ড করে দেয় তার কোন নিশ্চয়তা নেই। তাই ক্রিকেট যেন বড় অসহায় এখানে।

x