বৃষ্টিতে কাপ্তাইয়ে ঈদের কেনাকাটায় ধস

কাজী মোশাররফ হোসেন, কাপ্তাই

বৃহস্পতিবার , ১৪ জুন, ২০১৮ at ৫:৪৯ পূর্বাহ্ণ
7

কাপ্তাই ও এর আশপাশের ছোট বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুলো সারা বছর অপেক্ষায় থাকে কখন রমজান মাস আসবে। কারণ রমজান মাসে তাদের বিকিকিনি বাড়ে। তবে রমজানের শেষ কয়েকদিন বেচা কেনায় ধুম পড়ে। সকাল থেকে সারা রাত মার্কেটগুলো খোলা থাকে। নারী পুরুষ শিশু কিশোর সবাই পছন্দের জামা কাপড়, পায়জামা পাঞ্জাবি, স্যান্ডেল ইত্যাদি কেনায় ব্যস্ত থাকেন। প্রতিবছর রমজান মাসে ব্যবসায়ীদের ভালো বেচাকেনা হলেও এবার ব্যবসায় ধস নেমেছে। আর এই ধসের জন্য দায়ী বৃষ্টি। বৈরি আবহাওয়ায় বেচাকেনা জমছেনা। বৃষ্টিতে নষ্ট হবার আশঙ্কায় অনেক ব্যবসায়ী পছন্দের জামাকাপড় শো করতে পারছেন না। আবার অনেক ক্রেতা বৃষ্টি আর ভাংগাচোরা সড়কের কারণে ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে কাপ্তাই নতুন বাজার, দোভাষী বাজার, মধ্য দোভাষী বাজার, লিচুবাগানের বড়বড় সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সবখানেই বেচা কেনায় মন্দা চলছে। মধ্য দোভাষী বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী জানান ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার জন্য আমরা সড়কের উপর সামিয়ানা টাঙ্গিয়ে দিয়েছি। এই সামিয়ানার নিচে ঘোরা ফেরা করে ক্রেতারা ইচ্ছামত পছন্দের জিনিসটি কিনে নিতে পারতেন। কিন্তু বৃষ্টি আর সাথে দমকা হাওয়ায় সব ভেস্তে গেছে। রাস্তার উপর ময়লা আবর্জনার স্তুপ জমায় অনেকে স্বাচ্ছন্দে ঘোরাফেরাও করতে পারছেননা। মরিয়ম বেগম নামের এক নারী জানান তিনি পরিবারের ৫ সদস্য নিয়ে বাঙ্গালহালিয়া থেকে লিচুবাগান এসেছেন ঈদের কেনাকাটা করার জন্য। কিন্তু বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন দোকান ঘুরে পছন্দের জামা কাপড় কিনতে পারছেন না। তাই সবার মন খারাপ। তবে লিচুবাগানের সবচেয়ে বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আল ইমারতে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। বিশাল মার্কেটে রোদ বৃষ্টির কোন ছোঁয়া লাগতে পারেনা। এখানে অনেককে দেখা গেছে স্বচ্ছন্দে ঘুরেফিরে কেনাকাটা করতে। তবে এই মার্কেটে জিনিস পত্রের দাম বেশি রাখা হচ্ছে বলেও কেউ কেউ অভিযোগ করেন। আর অনেকের মতে তারা বেশ কয়েকটি দোকান ঘুরে কেনাকাটা করতে চাচ্ছেন। কিন্তু বেরসিক বৃষ্টি সেই সুযোগ দিচ্ছেনা।

দোভাষী বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সহসভাপতি জানান, আমরা এখনো হতাশ হতে চাইনা। ঈদের বাকি আরো প্রায় ৩/৪ দিন আছে। এর মধ্যে যদি আবহাওয়া অনুকূলে চলে আসে তাহলে ব্যবসায় আবার চাঙ্গা ভাব ফিরে আসবে। তাছাড়া চাঁদ রাততো আছেই। সারা রমজান মাসে যত বেচা কেনা হয় চাঁদ রাতে তার চেয়ে চার গুণ বেশি বেচা কেনা হয় বলেও তিনি জানান।

x