বুয়েট শিক্ষার্থীদের অভিযোগ জানানোর ওয়েবপেইজ বন্ধ করলো বিটিআরসি

আজাদী অনলাইন

বৃহস্পতিবার , ১০ অক্টোবর, ২০১৯ at ৮:৪৯ অপরাহ্ণ
309

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বিভিন্ন হলে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ জানাতে দুই বছর আগে চালু করা ওয়েবপেইজটি বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন-বিটিআরসি।

একটি অনলাইনে রিসার্চ প্রজেক্ট হিসেবে ‘ইউ রিপোর্টার’ নামে একটি ওয়েবপেইজ খুলে ২০১৭ সালের ৩১ মার্চ থেকে সেখানে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ নেয়া হচ্ছিল। ৯ অক্টোবর পর্যন্ত র‌্যাগিংসহ বিভিন্ন বিষয়ে ১৬৬টি অভিযোগ জমা পড়েছিল সেখানে।

একাধিক ইন্টারনেট গেইটওয়ে (আইআইজি) প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা বলেছেন, বুধবার সন্ধ্যার পর নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির নির্দেশনা পাওয়ার পর বুয়েটের ওই ওয়েব লিংক বন্ধ করে দেয়া হয়। বিডিনিউজ

বুয়েটের হলগুলোতে ‘র‌্যাগিংয়ের’ নামে ক্ষমতাসীন দল সমর্থিত ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীদের নির্যাতন নিয়মিত ঘটনা হলেও বিষয়টি বড় আকারে সামনে আসে তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদ খুন হওয়ার পর।

শেরে বাংলা হলের আবাসিক ছাত্র আবরারকে গত রবিবার রাতে অন্য একটি কক্ষে ডেকে নিয়ে যায় বুয়েট ছাত্রলীগের কয়েকজন। গভীর রাতে তার লাশ পাওয়া যায় হলের সিঁড়িতে।

ফেসবুকে মন্তব্যের সূত্র ধরে শিবির সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে আবরারকে লাঠি ও ক্রিকেট স্টাম্প দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয় বলে ইতোমধ্যে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে।

বুয়েট ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরাই যে মদ খেয়ে আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করেছে তা উঠে এসেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের এই ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনের নিজস্ব তদন্তেও।

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে এবং ‘ইউ রিপোর্টার’ নামের ওয়েবপেইজটিতে আসা অভিযোগগুলো নিয়ে বুধবার রাতে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে অনলাইন নিউজপোর্টাল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম কিন্তু পরে ওই পোর্টালটি আর খোলা যাচ্ছিল না।

ওয়েবলিংকটি বন্ধ করার ‘ব্লক’ করার জন্য আইআইজি ও আইএসপিগুলোকে পাঠানো বিটিআরসি’র চিঠির একটি কপি রাতে প্রকাশ করা হয় বুয়েট শিক্ষার্থীদের একটি ফেসবুক পেইজে।

সেখানে জরুরি ভিত্তিতে ওই ওয়েবলিংক বন্ধ করে ই-মেইল করে বিষয়টি বিটিআরসিকে জানাতে বলা হয়।

ওই নির্দেশনাটি পাঠানো হয়েছে বিটিআরসি’র সিনিয়র অ্যাসিসট্যান্ট ডিরেক্টর ইঞ্জিনিয়ার আসিফ ওয়াহেদের নামে।

কেন ওই ওয়েবলিংক বন্ধ করতে হলো, বিটিআরসিকে কে ওই পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দিল তা জানতে বুধবার একাধিকবার ফোন করা হলেও আসিফ ওয়াহেদ তা ধরেননি।

বিটিআরসি চেয়ারম্যান জহুরুল হককে ফোন করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

‘ইউ রিপোর্টার’ প্রজেক্টে যুক্ত বুয়েট শিক্ষক এবিএম আলিম আল ইসলাম বলেছিলেন, তৃতীয় বিশ্বের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ব্যক্তিরা তাদের না বলা কথা যাতে বলতে পারে, সেটাই ছিল তাদের এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য।

প্রাথমিকভাবে তা বুয়েট শিক্ষার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হলেও তৃতীয় বিশ্বের সবার জন্য এটা উন্মুক্ত করতে কাজ চলছিল।

সিএসই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আলিম জানিয়েছিলেন, কয়েক মাস আগে তাদের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মো. মোস্তফা আকবর শিক্ষার্থীদের জমা দেয়া কিছু অভিযোগ একত্রিত করে প্রতিবেদন আকারে বুয়েটের ছাত্র কল্যাণ দপ্তরে পাঠিয়েছিলেন কিন্তু নির্যাতন থামেনি।

‘ইউ রিপোর্টার’-এর ওয়েবলিংক বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বৃহস্পতিবার যোগাযোগ করা হলে বুয়েট শিক্ষক আলিম বলেন, ‘অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তে’ তারাও ওই প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন।

যে ওয়েবসাইট নির্যাতিত শিক্ষার্থীদের অভিযোগগুলো তুলে ধরার সুযোগ করে দিয়েছিল তা কেন বন্ধ করে দিতে হলো এই প্রশ্নে কোনো মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন এই শিক্ষক।

x