বুধবার ৫৮৪ টন পেঁয়াজ গেছে দেশের বিভিন্ন স্থানে

টেকনাফে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের টিম

জাবেদ ইকবাল চৌধুরী, টেকনাফ (কক্সবাজার)

বুধবার , ২ অক্টোবর, ২০১৯ at ৮:১৩ অপরাহ্ণ
151

দেশের চাহিদা মেটাতে মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানি ও বাজার নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে টেকনাফ স্থলবন্দরে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি দল।

আজ বুধবার (২ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে বাণিজ্য মন্ত্রালয়ের (বস্ত্রসেল)-এর যুগ্ম সচিব তৌফিকুর রহমানের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল টেকনাফ স্থলবন্দরে একটি বৈঠক করেন। এসময় কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (জেনারেল) মাসুদুর রহমান মোল্লা, টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রবিউল হাসান, কক্সবাজার চেম্বার অভ কমার্সের সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী খোকা, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আলম, টেকনাফ ল্যান্ডপোর্ট লিমিটেড-এর এজিএম জসিম উদ্দিন চৌধুরী, স্থলবন্দরের সিএন্ডএফ এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এহতেশামুল হক বাহাদুর, ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হাসেম, যদু চন্দ্র দাস, এম আবছার সোহেল উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে দুপুরে উখিয়া-টেকনাফের সংসদ সদস্য শাহিন আক্তার ও সাবেক সাংসদ আবদুর রহমান বদি এবং জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন টেকনাফ স্থলবন্দর ঘুরে দেখেন। এসময় ব্যবসায়ীরা বন্দর কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরেন।

এদিকে একই দিন বুধবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মিয়ানমার থেকে আমদানীকৃত ৫৮৪ মেট্রিক টন পেঁয়াজ টেকনাফ স্থলবন্দর হতে দেশের অভ্যন্তরে সরবরাহ করা হয়।

এছাড়া শ্রমিকের অভাবে খালাসের অপেক্ষায় নাফনদে ভাসছে ২১ হাজার ৭৫ বস্তার (৮৪৩ মেট্রিক টন) কয়েকটি পেঁয়াজের ট্রলার।

টেকনাফ শুল্ক স্টেশন সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মিয়ানমার থেকে আসা ৫৮৪.৭৩২ মেট্রিক টন পেঁয়াজ ট্রলার থেকে খালাস করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠিয়ে দেয় ব্যবসায়ীরা। এর মধ্যে এমএ হাশেমের ১০০ মেট্রিক টন, যদু চন্দ্র দাসের ১১৮ মেট্রিক টন, মোহাম্মদ জব্বারের ৭৯. ৩৮২ মেট্রিক টন, মোহাম্মদ সাদ্দামের ৫৯.৮৮০ মেট্রিক টন, মোহাম্মদ কামালের ৫৯.৮৮০ মেট্রিক টন, মোহাম্মদ কাদের গ্লোবালের ৭৯.৯৫০ মেট্রিক টন, মোহাম্মদ শুক্কুরের ২৬ মেট্রিক টন, মোহাম্মদ কামরুলের ৫৯.৮৮০ মেট্রিক টন পেঁয়াজ রয়েছে।

এছাড়া শ্রমিকের অভাবে খালাসের অপেক্ষায় নাফনদে ভাসছে ২১ হাজার ৭৫ বস্তার (৮৪৩ মেট্রিক টন) কয়েকটি পেঁয়াজের ট্রলার।

এর মধ্যে রয়েছে মোহাম্মদ হাসেমের ৬ হাজার ৮৪৭ মেট্রিক টন, যদু চন্দ্র দাসের কাছে ৫ হাজার ৮০৫ মেট্রিক টন, মো. সেলিমের ২ হাজার ২৮ মেট্রিক টন। বাকিগুলো ৪ জন আমদানিকারকের।

বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব তৌফিকুর রহমান বলেন, ‘দেশের চাহিদা ও পেঁয়াজের দাম স্বাভাবিক রাখতে এখানে আসা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজের মূল্য নিয়ে কারসাজি করে কৃত্রিম সংকটে অপচেষ্টা চালায়। তাদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ীরার অধিক মুনাফার চিন্তা না করে সমকালীন পেঁয়াজের সংকট নিরসনে এগিয়ে আসলে সরকার তাদের সব ধরনের সহযোগিতা করবে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক টেকনাফ স্থলবন্দরের এক কর্মকর্তা বলেন, মিয়ানমারের প্রায় ৮শ’ মেট্রিক টন পেঁয়াজ বুকিং রয়েছে যা দুই-এক দিনের মধ্যে টেকনাফ স্থলবন্দরে পৌঁছার কথা রয়েছে। এসব পেঁয়াজ মোহাম্মদ হাশেম, সৈয়দ করিমসহ কয়েকজনের কাছে আসার কথা।

আমদানিকারক মোহাম্মদ হাশেম বলেন, ‘বুধবার সকালে পেঁয়াজ বুকিং দিতে মিয়ানমারে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা সেখানে আগের চেয়ে দাম বাড়িয়ে টন ৮শ’ ডলার দাম হাঁকাচ্ছে। তবে এতে আমরা রাজি হয়নি কিন্তু বুধবার পর্যন্ত যেসব পেঁয়াজ মিয়ানমার থেকে টেকনাফ স্থলবন্দরে এসে পৌঁছেছে তা টন ৫শ’ ডলার করে কেনা হয়েছে।’

তিনি জানান, বুধবার তার কাছে ১০০ টন পেঁয়াজ এসেছে। তবে পেঁয়াজ ট্রলার থেকে সরাসরি ট্রাকে তোলা হলেও বন্দর কর্তৃপক্ষ অন্যায়ভাবে চার্জ নিচ্ছে। এছাড়া বন্দরের দুর্বলতার কারণে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। তবে কোনো বুকিং করা পেঁয়াজ নেই বলে দাবি করেন তিনি।

টেকনাফ স্থলবন্দরের শুল্ক কর্মকর্তা আবছার উদ্দিন বলেন, ‘টেকনাফ স্থল বন্দর দিয়ে ৫৮৪ মেট্রিক টন পেঁয়াজ ভর্তি ৩৭টি ট্রাক দেশের বিভিন্ন এলাকায় রওয়ানা দিয়েছে। এছাড়া মিয়ানমার থেকে আসা ৮৪৩ মেট্রিক টন পেঁয়াজ াঁলাসের অপেক্ষায় রয়েছে।’

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, ‘বাজার দাম সহনশীল রাখতে মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানি নির্বিঘ্ন রাখতে হবে। পাশাপাশি স্থানীয়দেরও সুলভ মূল্যে পেঁয়াজ সরবারহ করতে হবে। ইতিমধ্যে স্থানীয় প্রশাসন কক্সবাজারে ৬৫-৭০ টাকায় কেজি পেঁয়াজের খুচরা বিক্রয় মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে।’

তিনি মিয়ানমারের আমদানিকৃত পেঁয়াজ স্থানীয় বাজারে ৫০ টাকার বেশি বিক্রি না করারও পরামর্শ দেন। যদি তা অমান্য করা হয় তাহলে অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানান তিনি।

x