বুদ্ধিমান এলিয়েন

রেজাউল করিম

বুধবার , ১০ জুলাই, ২০১৯ at ১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ
33

অচেনা গ্রহে হয়তো কোনো প্রাণী বাস করে। কিন্তু এখনো তা অনাবিষ্কৃত। কল্পনা করতে দোষের কিছু নেই। সেই কল্পনাপ্রসূত অনেক সিনেমা তৈরি হয়েছে। রাইডলি স্কট পরিচালিত ‘এলিয়েন’ ছবিটি অনেকের দেখা। ১৯৭৯ সালে ছবিটি মুক্তি পায়। অভিনয় করেন-টম স্কিরিট, ভেরোন্সিয়া কাটউইট, হ্যারি ডিন স্টেনটন, জন হার্ট, ইয়াফেত কট্টো প্রমুখ। মাত্র ১১ মিলিয়ন ডলার বাজেটের ছবিটি আয় করে ২শ মিলিয়ন ডলারের উপরে। এলিয়েন বলতে এমন জীবকে বোঝায় যাদের উদ্ভব পৃথিবীর বাইরে মহাবিশ্বের অন্য কোথাও। আর সেখানেই এদের বসবাস। এলিয়েন দেখতে কেমন হবে তার কোনো ঠিক নেই। তারা দেখতে পৃথিবীর প্রাণীদের কাছাকাছিও হতে পারে, আবার এ ধারণা থেকে সম্পূর্ণ আলাদাও হতে পারে। আবার সত্যি সত্যি মহাবিশ্বে এলিয়েনের কোনো অস্তিত্ব আছে কিনা এ নিয়েও দ্বিধার অন্ত নেই। তবে এলিয়েন আসলেই রয়েছে পৃথিবীতে এমন বিশ্বাসীদের সংখ্যাই বেশি। এলিয়েনরা দেখতে কেমন? আমাদের চেয়ে পিছিয়ে নাকি অনেক এগিয়ে? তাদের ভাষা কি? কত সব চিন্তাভাবনা মানুষের মস্তিস্কে? অন্য গ্রহের এলিয়েনরা কি আমাদের মত এমনভাবে? ‘পি কে’ ছবিতে আমির খানের মতো পৃথিবীতে এসে অনেককিছু তালগোল পাকিয়ে ফেলতে সকলে দেখেছে।
মহাবিশ্বে কত কোটি কোটি গ্যালাক্সি রয়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আমরা তো কেবল চাঁদে পা দিয়েছি, মঙ্গলে যান প্রেরণ শুরু হয়েছে। কিন্তু এর বাইরের জগতের প্রায় সবই আমাদের অজানা। অজানা সেই জগতে প্রাণের অস্তিত্ব থাকা অস্বাভাবিক নয়। অস্বাভাবিক নয় পৃথিবী ছাড়া বসবাসযোগ্য কোনো গ্রহের অস্তিত্বও। বহুদিন ধরেই বিজ্ঞানীরা গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে এসব নিয়ে। কিছুদিন আগে নাসার গবেষকদের এক দাবিতে এলিয়েনের অস্তিত্ব সম্পর্কে নতুন এক ধারণা পাওয়া গেছে। নাসার গবেষকরা নাকি শনির সবচেয়ে বড় চাঁদ টাইটানে এলিয়েন বা মহাজাগতিক প্রাণী থাকার প্রমাণ পেয়েছেন। নাসার ক্যাসিনি থেকে পাঠানো ডাটা বিশ্লেষণ করেই গবেষকরা টাইটানে এ সূত্র খুঁজে পেয়েছে। গবেষকদের টেলিগ্রাফ অনলাইনে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, শনির অনেকগুলো চাঁদের মধ্যে একমাত্র টাইটানের আবহাওয়াই প্রাণ ধারণের উপযোগী। আর চাঁদের এই আবহাওয়ায় জীবনের উৎপত্তি হয়েছে এবং তারা শ্বাস নিতে পারছে। ঐ ভূপৃষ্ঠের জ্বালানি খেয়েই নাকি বেঁচে আছে টাইটানের এসব এলিয়েন।
মানুষ যেভাবে পৃথিবীতে বেঁচে থাকার জন্য শ্বাস নিতে অক্সিজেন ব্যবহার করে তেমনি টাইটানের এলিয়েনরা হাইড্রোজেনে শ্বাস নিয়ে টিকে আছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, আগামী ৪০০ কোটি বছর পরে সূর্য যখন লাল বামন দৈত্যের আকার ধারণ করবে, তখন টাইটানে বাস করাটাই হবে উপযুক্ত। বিতর্ক থাকলেও যেহেতু এলিয়েন নিয়ে জল্পনা-কল্পনা আর কৌতূহলের শেষ নেই, তাই ধরে নেওয়া যায় সত্যিই হয়তো ভিনগ্রহের কিছু একটা আছে। ২০২৫ সালের মধ্যেই এলিয়েন খুঁজে পাওয়ার ‘সুস্পষ্ট প্রমাণ’ হাজির করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন নাসার বিজ্ঞানীরা। নাসার গবেষকেরা বলেছেন, এই সৌরজগতে আমরাই শুধু নই, আমাদের জানাশোনার বাইরে এই সৌরজগতের কোথাও প্রাণের উদ্ভব ঘটতে পারে। নাসা তা প্রমাণ করার খুব কাছে চলে এসেছে। নাসার প্রধান বিজ্ঞানী অ্যালেন স্টেফান এসব তথ্য দিয়েছেন। এলিয়েন বা ভিনগ্রহবাসী খোঁজে নাসার বর্তমান পরিকল্পনা হচ্ছে, মঙ্গল গ্রহের বরফাচ্ছাদিত চাঁদ ইউরোপাতে আরও বেশি রোভার পাঠানো। এ ছাড়াও হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা দাবি করেছেন, তাঁরা জটিল গাণিতিক নকশার রেডিও সংকেত ধরতে পেরেছেন যা কোনো বুদ্ধিমান ভিনগ্রহবাসীর পাঠানো সংকেত হতে পারে।
ভিনগ্রহের বাসিন্দা এলিয়েনরা পৃথিবী ঘুরে গেছেন বলে দাবি করেছেন মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার বিজ্ঞানী সিলভানো পি কলম্বানো। সমপ্রতি তার প্রকাশিত এক গবেষণায় দাবি করেন এলিয়েনরা পৃথিবী ঘুরে গেলেও তা আমরা দেখতে পাইনি। এলিয়েনদের কেন দেখতে পাইনি তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে নাসার অ্যামস রিসার্চ সেন্টারের কম্পিউটার বিজ্ঞানী কলম্বানো বলেছেন, ভিনগ্রহের বাসিন্দাদের যে ছবি আমরা এতদিন ভেবেছি, মনে মনে যে ছবি এঁকেছি, তার সঙ্গে ভিনগ্রহীদের চেহারার কোনো মিল নেই। কলম্বানো অবশ্য আরেকটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন, এলিয়েনরা হলো সুপার ইন্টেলিজেন্ট বা অত্যন্ত বুদ্ধিমান। তাদের শরীরের গঠন অন্যরকম কিংবা খর্বাকৃতির হতে পারে। এলিয়েনদের দেখার মতো কোনো প্রযুক্তি এখনও আমাদের হাতে আসেনি। তাই হয়তো আমাদের চোখে পড়েনি তারা।
মানবসভ্যতার বয়স হয়তো হাজার দশেক, আর বিজ্ঞানের বয়স আর কতো হবে। পাঁচ/ ছয়শ বছরের বেশি হবে না। চাঁদ আমাদের হাতের মুঠোয়, মঙ্গল, সূর্য নিয়ে কাজ করছে বিজ্ঞানীরা। তাহলে এলিয়েন দূরে থাকবে কেন? একদিন তারা হয়তো পৃথিবীকে বাসযোগ্য করে তুলতে চলে আসবে। সেদিনের অপেক্ষায় অনেকে।

x