বুদ্ধপূর্ণিমা উপলক্ষে চট্টগ্রামে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা

আজাদী প্রতিবেদন

শনিবার , ১৮ মে, ২০১৯ at ১০:২৬ পূর্বাহ্ণ
65

জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার চাদরে মোড়ানো হয়েছে চট্টগ্রামের বৌদ্ধ মন্দিরগুলো। ছয় হাজারেরও বেশি পুলিশ গতকাল বিকেল থেকে এ উপলক্ষে চার স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তুলেছে। আজ বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বুদ্ধ পূর্ণিমা। চট্টগ্রাম নগরীর ৩ টি এবং জেলার ১৬ উপজেলার ২০০ টি বৌদ্ধ মন্দিরে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ চিহ্নিত করে মোট ৩৫৫ টি বৌদ্ধ মন্দিরে এ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। থানার ওসিদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে অতিরিক্ত ফোর্স। সংশ্লিষ্ট জোনের উপ পুলিশ কমিশনার মনিটরিং করবেন। সাদা পোশাকে থাকবে গোয়েন্দা টিম।
প্রসঙ্গত, গত ১১ মে শনিবার একটি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে তথ্য পাওয়া যায়, আগামী ১৮ মে বুদ্ধ পূর্ণিমায় জঙ্গি হামলার আশঙ্কা রয়েছে। এমন তথ্য পেয়ে রোববার ১২ মে রাতেই সারাদেশের বৌদ্ধ মন্দিরগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের নির্দেশ দেয় পুলিশ সদর দপ্তর। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী সারা দেশের বৌদ্ধ মন্দিরগুলোতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) আমেনা বেগম বলেন, চট্টগ্রাম শহরে ৩১টি মন্দির আছে। সবচেয়ে বেশি লোক সমাগম হয় নন্দনকানন, কাতালগঞ্জ এবং চান্দগাঁওয়ের মন্দিরগুলোতে। সেগুলোর ওপর আমাদের মূল নজর থাকবে। সেখানে বাড়তি নিরাপত্তা থাকবে। অন্যগুলোতেও অন্যান্যবারের চেয়ে বেশি নিরাপত্তা থাকবে।
নগর পুলিশের বিশেষ শাখার উপকমিশনার মো. আব্দুল ওয়ারিশ খান জানান, নগর পুলিশের কুইক রেসপন্স টিম, সোয়াত, বোম্ব ডিজপোজাল ইউনিট, নগর গোয়েন্দা পুলিশের বিশেষ টিম, মোবাইল টিম এবং রিজার্ভ ফোর্সসহ অতিরিক্ত আড়াই হাজার পুলিশ বৌদ্ধমন্দিরগুলোতে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়া থানা থেকে আরও প্রায় ৫০০ পুলিশ সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে।
চট্টগ্রাম জেলার ১৬ উপজেলায় ৩২৪টি মন্দিরের মধ্যে প্রায় ২০০ মন্দিরকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সব মন্দিরকে ঘিরে গতকাল শুক্রবার বিকেল থেকে বিশেষ সর্তকর্তা জারি করা হয় বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল। জেলায় সংশ্লিষ্ট থানা এবং রিজার্ভ ফোর্স মিলিয়ে তিন হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। এদের সঙ্গে আনসার এবং গ্রাম পুলিশও থাকবে। গতকাল বিকেল থেকে শনিবার রাতে অনুষ্ঠান শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাড়তি নিরাপত্তা থাকবে। থানার ওসি এবং জোনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সহকারী পুলিশ সুপারদের সার্বক্ষণিকভাবে মাঠে থাকার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন পুলিশ সুপার।
এদিকে পুলিশের পাশাপাশি নগরী ও জেলায় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়নের টিমও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে। এ জন্য ১৬টি টহল টিম গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র‌্যাবের চট্টগ্রাম জোনের সহকারী পরিচালক এএসপি মো. মাশকুর রহমান।

x