বিস্ফোরণ হাতাহাতিতে পণ্ড উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন

আজাদী অনলাইন

মঙ্গলবার , ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ at ৫:২২ অপরাহ্ণ
375

হাতবোমা বিস্ফোরণ আর কয়েকপক্ষের হাতাহাতিতে পণ্ড হয়ে গেছে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন। আজ মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১২টার দিকে চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের উপস্থিতিতে ছাত্রলীগের সম্মেলনে এ ঘটনা ঘটে। খবর বিডিনিউজ ও বাংলানিউজের।

সম্মেলন চলাকালে বেলা সোয়া ১২টার দিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা সাকিব হোসেন সুইম বক্তব্য দেয়ার সময় অনুষ্ঠানস্থলের বাম পাশে বিকট শব্দে একটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটে। ফলে অনুষ্ঠানস্থলে দৌড়াদৌড়ি শুরু হয়ে যায়। এ বিশৃঙ্খলার এক পর্যায়ে ছাত্রলীগের কয়েকটি পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় মিলনায়তনে উপস্থিত নেতাকর্মীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। হুড়োহুড়ি করে বের হওয়ার চেষ্টায় কয়েকজন পড়ে গিয়ে আহতও হন।

ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ ছাড়াও রাউজানের সংসদ সদস্য ফজলে করিম চৌধুরী, রাঙ্গুনিয়ার সাংসদ হাছান মাহমুদ, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আলম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এম এ সালাম, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেনসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা এ সময় অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার পর ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ ও ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ বারবার অনুষ্ঠানে শৃঙ্খলা ফেরানোর আহ্বান জানালেও কেউ কারও কথা শোনেনি।
এক পর্যায়ে গণপূর্তমন্ত্রী মাইকে দাঁড়িয়ে বলেন, “যারা এ হামলা করেছে তারা বহিরাগত। এরা সংগঠনের কেউ নয়।”

তিনি হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশকে নির্দেশ দেন। আহত ও আঘাতপ্রাপ্ত পাঁচজনকে পাঠানো হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

ককটেল বিস্ফোরণের পরপর বাইরে থেকে ছাত্রলীগের বিভিন্ন এলাকার ছেলেদের মিছিল নিয়ে দলে দলে সম্মেলনস্থলে প্রবেশ করতে দেখা যায়।

এমন পরিস্থিতিতে ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশন এলাকায় পুলিশ ও র্যাবের উপস্থিত বাড়ানো হয়।
বেলা ১টা পর্যন্ত সম্মেলনের কাজ শুরু করা না গেলে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনসহ অতিথিরা সম্মেলনস্থল ত্যাগ করেন।

অতিথিরা চলে যাওয়ার পর ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনের আশপাশের সড়ক অবরোধ করে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয় ছাত্রলীগ কর্মীরা।

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু তৈয়ব বলেন, “জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেয়ার সময় আগুন সন্ত্রাসীরা বহিরাগত হিসেবে এসে হামলা করেছে।” তিনি জানান, সম্মেলন মঞ্চে যখন জামায়াত শিবিরের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার বক্তব্য রাখছিলেন কেন্দ্রীয় নেতারা তখনই বহিরাগতরা শান্তিপূর্ণ সম্মেলনে বিশৃঙ্খলা করেছে। জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা সম্মেলনে ঢুকে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটিয়েছে বলেও জানান এ নেতা।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে যাচাই-বাছাই করে ৬০ জনের মতো পদ-প্রত্যাশীর নাম চূড়ান্ত করা হয়েছিল। সম্মেলনে জেলা ছাত্রলীগের ৯টি ইউনিট থেকে ২২৫ জন এবং জেলার কার্যনির্বাহী কমিটির ১৪১ জন সদস্যসহ মোট ৩৬৬ জন কাউন্সিলর ব্যালটের মাধ্যমে দুটি পদে নেতৃত্ব নির্বাচনের কথা ছিল। সর্বশেষ বখতিয়ার সাঈদ ইরান ও আবু তৈয়বের নেতৃত্বাধীন ১৪১ সদস্যের ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটি ২০১১ সালের ৬ জানুয়ারি ঘোষণা কর‍া হয়েছিল।

এর আগে গতকাল সোমবার বিকালে নগরীর লালদীঘি মাঠে মহিউদ্দিন চৌধুরীর শোকসভায় চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের কয়েকটি পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

x