বিশ্বের সেরা দল হিসেবে বাংলাদেশকে গড়তে চান ডোমিঙ্গো

ক্রীড়া প্রতিবেদক

সোমবার , ১৯ আগস্ট, ২০১৯ at ৮:৪৫ পূর্বাহ্ণ
83

একটা সময় ছিল বাংলাদেশকে বলা হতো আন্ডারডগ। এরপর জায়ান্ট কিলার। এখন বাংলাদেশ দল নিজেরাই জায়ান্ট। এখন বাংলাদেশ দল আর কাউকে ভয় পায়না। বলতে গেলে হেসে খেলে প্রতিপক্ষকে হারায় টাইগাররা। গত কয় বছরে বাংলাদেশের উন্নতির গ্রাফটা বেশ দৃশ্যমান। আর সে দৃশ্যমান উন্নতির ধারাটাকে অব্যাহত রেখে বাংলাদেশ দলকে বিশ্বের সেরা দল হিসেবে গড়ে তুলতে চান বাংলাদেশ দলের নব নিযুক্ত কোচ রাসেল ডোমিঙ্গো। চন্দিকা হাথুরুসিংহের পর স্টিভ রোডস যেভাবে বাংলাদেশ দলকে সাফল্যের ধারায় রেখেছিল ঠিক সে ভাবেই দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চান ডোমিঙ্গো। স্টিভ রোডসকে বিদায় দেয়ার পর হাই প্রোফাইল কোচ হিসেবে শেষ পর্যন্ত বিসিবি বেছে নিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক কোচ রাসেল ডোমিঙ্গোকে। কোরবানের ঈদের আগে ঢাকায় এসে ইন্টারভিউ দিয়ে গিয়েছিলেন ডোমিঙ্গো। আর সে ইন্টারভিউতে বাংলাদেশ দলকে নিয়ে তার বিস্তারিত পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। এই দক্ষিণ আফ্রিকান কোচের প্রেজেন্টেশন মনপুত হয়েছিল বিসিবি কর্মকর্তাদের। বিস্তারিত জানিয়েছিলেন তার কাজের পদ্ধতি। বাংলাদেশকে কোথায় দেখতে চান। সেই ভিশনও জানিয়েছিলেন তিনি। শুধু তাই নয় যতদিন বাংলাদেশের কোচ থাকবেন ততদিন এখানকার ক্রিকেটারদের সঙ্গে বেশিরভাগ সময় কাটিয়ে নিজের সেরাটা ঢেলে দেয়ার চেষ্টা করবেন বলেও জানিয়ে দিয়েছিলেন ডোমিঙ্গো। বিসিবি মূলতঃ তার এসব কিছু দেখেই অন্য হাই প্রোফাইল কোচদের বাদ দিয়ে টাইগারদের পরবর্তী কোচ হিসেবে ডোমিঙ্গোর নাম ঘোষণা করে। বাংলাদেশ দলের কোচ হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর পরই জনপ্রিয় ক্রিকেট পোর্টাল ইএসপিএন ক্রিকইনফোর সাথে কথা বলেন ডোমিঙ্গো। সেখানেই তিনি জানালেন, বাংলাদেশ দল নিয়ে তার স্বপ্নের কথা। জানালেন তার অভিজ্ঞতা এবং কর্ম দক্ষতা সব কিছু দিয়েই বাংলাদেশের ক্রিকেটিং সিস্টেমের প্রতিটি লেভেলে কাজ করবেন । চেষ্টা করবেন বাংলাদেশ দলকে বিশ্ব ক্রিকেটাসনে আরও অনেক উপরে তুলে ধরতে। তবে ডোমিঙ্গোর চোখ কিন্তু তৃণমূল পর্যায়ে। তিনি চান প্রতিভা তুলে আনতে। নিচু সারির ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি নজর দিতে চান তিনি। যেখান থেকে সবচেয়ে বেশি প্রতিভা উঠে আসে। সম্ভবত বিসিবিও তার কাছে এমন কিছু চেয়েছিল। নিজের কর্মপদ্ধতি নিয়ে আলাপ করতে গিয়ে ডোমিঙ্গো বলেন, আমি আগেও অনূর্ধ্ব-১৫ থেকে বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। যেখান থেকে জাতীয় দলে খেলোয়াড়রা উঠে আসে। সুতরাং আমি চাই যে নতুন খেলোয়াড়রা যেখান থেকে উঠে আসছে সেখানে যুক্ত হতে। সেখানে আমি একটু ভূমিকা রাখার সুযোগ পেলে পরবর্তী কাজটা অনেক সহজ হবে বলে মনে করি।
জাতীয় দল তো সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সেখানে খেলোয়াড় উঠে আসার রাস্তাটা যদি মসৃণ হয় এবং সঠিক প্রতিভা বিকাশের মাধ্যমে উঠে আসে, তাহলে তা জাতীয় দলের জন্য পরবর্তী সময়ে বেশ গুরুত্বপূর্ণ হবে। ডোমিঙ্গো বলেন, জাতীয় দলই তো আপনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। এটা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু জাতীয় দলের নিচের স্তরগুলোতে কি হচ্ছে না হচ্ছে সেখানেও আপনাকে সমানভাবে নজর দিতে হবে। কারণ সেখান থেকেই তো আপনার খেলোয়াড়রা উঠে আসছে। নতুন খেলোয়াড়রা যেখান থেকে উঠে আসছে, সেখানে যদি আমি একটু ভূমিকা রাখতে পারি তাহলে সেটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে মনে করি। তিনি বলেন বাংলাদেশে অনেক ভালোমানের ক্রিকেটার রয়েছে। বাংলাদেশে কিছু অসাধারণ খেলোয়াড় আছে। তবে তরুণদের তুলে এনে সিনিয়রদের ওপর কিছুটা চাপ সৃষ্টি করা ভালো। তাদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার সুযোগও দিতে হবে। কারণ শেষ পর্যন্ত জাতীয় দলে তাদেরই প্রয়োজন হবে । তরুণ প্রতিভা তুলে আনার ক্ষেত্রে ডোমিঙ্গোর কাজের ধরন হবে একটু ভিন্ন। তিনি হাই পারফরম্যান্স কোচ এবং ম্যানেজারের সঙ্গে কাজ করতে চান । জেনে নিতে চান তরুণদের মধ্যে কারা ভালো করছে এবং সম্ভাবনাময় কারা রয়েছে।
বাংলাদেশ নিয়ে আগেই স্টাডি করে রেখেছেন ডোমিঙ্গো। সেটা তার কথাতেই স্পষ্ট। তিনি বলেন, আমি মনে করি পরবর্তী সেরা খেলোয়াড়টি কে তা জানতে হাই পারফরম্যান্স কোচ ও ম্যানেজারের সঙ্গে কাজ করাটা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ। অনূর্ধ্ব-১৯ দল ইংল্যান্ডকে চারবার হারিয়েছে । ভারতের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়েছে। অর্থাৎ নিচের পর্যায়ে অবশ্যই কিছু প্রতিভাবান খেলোয়াড় আছে। যাদের জাতীয় দলের কাছাকাছি রাখা প্রয়োজন। খেলোয়াড়দের ভিত্তিটা আরও সমপ্রসারণ করা দরকার। তাদের উন্নতিও করাতে হবে যেন আগামী পাঁচ-ছয় বছরে বাংলাদেশ ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে পারে। ডোমিঙ্গোর মতে, বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ভালো খেলেছে। কিন্তু ছোট ছোট কয়েকটি ভুলের খেসারত দেয়ার কারণে বড় সাফল্য আসেনি। অথচ কয়েকটি ম্যাচে জয়ের কাছাকাছি ছিল তারা। বিশ্বকাপে বেশ কিছু ম্যাচে তারা জয়ের খুব কাছে ছিল বাংলাদেশ । নিউজিল্যান্ড ম্যাচের কথাই ধরুন। একটা রানআউটের সুযোগ কাজে লাগাতে না পারায় সেমিফাইনালে খেলতে পারেনি বাংলাদেশ। ভুল খুব ছোট ছোট। মূল বিষয় হলো মনস্তাত্ত্বিক বাধা টপকাতে হবে।
ক্যারিয়ারে এবারই প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকার বাইরে কোচ হিসেবে কাজ করবেন ডোমিঙ্গো। ব্যাপারটা নিয়ে খুব রোমাঞ্চিত তিনি। তার ওপর, সহকারী হিসেবে যাদের পাচ্ছেন তারাও তার পরিচিত। ব্যাটিং কোচ নেইল ম্যাকেঞ্জি, বোলিং কোচ চার্ল ল্যাঙ্গাভেল্ট, ফিল্ডিং কোচ রায়ান কুক সবাই দক্ষিণ আফ্রিকান। ডোমিঙ্গোও তাদের সঙ্গে কাজ করতে মুখিয়ে। তার প্রথম চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, আগামী মাসে ঘরের মাঠে আফগানিস্তান টেস্ট। ৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে শুরু হবে একমাত্র ম্যাচের টেস্ট সিরিজটি। বাংলাদেশ দল নিয়ে দারুণ আশাবাদী ডোমিঙ্গো। তার চোখে গত ৫-৬ বছরে সবচেয়ে বেশি উন্নতি করেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের সমর্থকদেরও উচ্চসিত প্রশংসা করেছেন তিনি। গত পাঁচ-ছয় বছরে সবচেয়ে উন্নতি করা দল বাংলাদেশ। তাদের ভক্তকুল অবিশ্বাস্য। বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করে বুঝেছি তাদেরও পরিকল্পনা আছে। আর তরুণরাও উঠে আসছে। তাই আমি মনে করি, বিশ্ব ক্রিকেটে সত্যিকারের পরাশক্তি হয়ে উঠতে সবকিছু ঠিকঠাকই আছে বাংলাদেশে। এ কারণেই বাংলাদেশকে নিয়ে আমি রোমাঞ্চিত।

x