বিশ্বমানের আসবাবপত্র তৈরিতে রোবট প্রযুক্তি ব্যবহার করছে হাতিল

ঢাকা ব্যুরো

বুধবার , ১৫ মে, ২০১৯ at ৫:১৪ পূর্বাহ্ণ
168

ফার্নিচার বানাতে অনেক আগে থেকেই রোবট ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে সেগুলো জটিল কাজ করতে সক্ষম ছিল না। বর্তমানে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশেষ সব কাজ করা যায়, যা ক্ষেত্রটিতে নতুন গতির সঞ্চার করছে। ফলে নিজেদের ঝুঁকি কমাতে এবং অল্প সময়ে বেশি কাজ করতে এটা ব্যবহার করতে পারবেন কারিগররা। তারই ধারাবাহিকতায় কারখানা সমপ্রসারণ ও অত্যাধুনিক যন্ত্রের সাহায্যে উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে দেশীয় আসবাবপত্র প্রতিষ্ঠান হাতিল। তাদের কারখানায় ব্যবহৃত হচ্ছে রোবট প্রযুক্তি। আর সেখান থেকে পরবর্তী ধাপে উত্তরণ প্রসারের আধুনিক ফার্নিচারের অন্যতম পথিকৃত হচ্ছে হাতিল। একই সাথে আধুনিক ফার্নিচারের জনপ্রিয়তা তৈরি করা এবং এই ফার্নিচার উৎপাদনে উৎ্‌কর্ষতা আনা এই দুটি ক্ষেত্রেই দক্ষিণ এশিয়াতে হাতিল অগ্রণী ভূমিকা রাখছে। আর এখান থেকেই তৈরি হচ্ছে বাংলাদেশি ফার্নিচারের বিশ্ব বাজার ।
গত শনিবার ঢাকার অদূরে সাভারের জিরানিতে হাতিলের কারখানা ঘুরে বিভিন্ন কার্যক্রম দেখানো হয়। হাতিলের অটোমেটেড কারখানা সাংবাদিকদের সরেজমিনে দেখানোর জন্য এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে কোম্পানিটি। সরেজমিনে দেখা যায়, ইউভি কিউরিং নামের এক দীর্ঘ যন্ত্রে কাঠ ঢুকিয়ে দেওয়া হলে অপর প্রান্ত দিয়ে তা ৯ মিনিট পর প্রক্রিয়াজাত হয়ে বের হচ্ছে। সেই যন্ত্রের ভেতরেই কাঠ পলিশ ও রং একই সাথে হচ্ছে। হাতিলের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের জানানো হয়, গুনগত মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রায় আড়াই বছর আগে কাজ শুরু করে বাংলাদেশের কাঠের তৈরি আসবাবপত্রের এই কোম্পানি। জার্মানি, ইতালি, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে কারখানাটির উৎপাদন কার্যক্রমে। হাতিল কর্তৃপক্ষের দাবি, এটি দক্ষিণ এশিয়ায় কাঠের আসবাব তৈরির সবচেয়ে আধুনিক কারখানা। জার্মান ভিত্তিক কনসাল্টিং প্রতিষ্ঠানের পরামর্শে সাজানো হয়েছে হাতিল কারখানা। এখানে অত্যাধুনিক সিএনসি মেশিন,নেস্টিং মেশিন,রোবট কাটিং মেশিন,বোল্ডিং মেশিন, রোবট স্প্রেসহ ইউ ভি কিউরিং মেশিন রয়েছে । কারখানার বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখা গেল শ্রমিকরা নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত। প্রতিটি কাজের অংশ নিদিষ্ট করে দেওয়া আছে। হাতিল কারখানায় অটোমেটেড বা স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতির কারণে শ্রমিকের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অন্যান্য কারখানার চেয়ে কম বলে জানান কর্মকর্তারা। তবে যন্ত্রের ব্যবহারের কারণে শ্রমিকের সংখ্যা কমলেও কোন শ্রমিক ছাঁটাই হয়নি বলে জানানো হয়। কারখানা প্রসঙ্গে অনুষ্ঠানে হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, আসবাবপত্র তৈরিতে দীর্ঘদিনের একনিষ্ঠতা এবং অভিজ্ঞতা হাতিলকে সাহসী করছে বিশ্বমানের ফ্যাক্টরিতে তৈরিতে । দেশের চাহিদা মিটিয়ে বাংলাদেশের তৈরি ফার্নিচার রফতানি হেচ্েছ সারা বিশ্বে, তৈরি হচ্ছে নতুন সম্ভাবনা । বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অংশ নিতে চায় হাতিল। এখন পর্যন্ত আমরা অনেক পথ পাড়ি দিয়েছি এবং আরও অনেক দূরে যেতে চাই। তিনি আরো বলেন, সমসাময়িক বিশ্বে রিটেলারদের খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় একটা বড় প্রতিবন্ধকতা । আর এই প্রতিবন্ধকতা কাটিয়য়ে ওঠার মূল লক্ষ্য অর্জনে হাতিল তৈরি করেছে দেশের প্রথম পরিপূর্ণ ভার্চুয়াল শো-রুম ‘হাতিল-ভি’। প্রিডি ভিউ এর মাধ্যমে অল্প পরিসরে এই শো-রুম করা যায় এবং হাতিলে সকল পণ্য ক্রেতা অনায়াসে দেখে পছন্দ করতে পারবেন। হাতিল জানিয়েছে এই মুহুর্তে বাংলাদেশে বিপননের পাশাপাশি বিশ্বের ১৭ টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে হাতিলের পণ্য। রপ্তানিকৃত প্রতিটি দেশেই নিজেদের পণ্যের পাশাপাশি হাতিল এখন বাংলাদেশেরও প্রতিনিধিত্ব করছে বলে দাবি কোম্পানির। উৎপাদন ক্ষমতা বাড়িয়ে প্রতি মাসে এখন ৪৮ হাজার ফার্নিচার তৈরিতে সক্ষম কোম্পানিটি। যা ভবিষ্যতে আরও বাড়ানোর চিন্তা করছে তারা। কোম্পানির মার্কেটিং জেনারেল ম্যনেজার ফিরোজ আল মামুন জানান, বর্তমানে হাতিলের পণ্য রপ্তানির তালকায় ভারতের চন্ডিগড়, নদিয়া, কলকাতা, ঝাড়খন্ড, নেপাল, ভুটান ও কানাডা উল্লেখযোগ্য। অনুষ্ঠানে হাতিলের উৎপাদন পরিচালক শফিকুর রহমান, ব্যবসায়িক উপদেষ্ঠা দেওয়ান আতিফ রশিদ উপস্থিত ছিলেন। জিরানী বাজার, সাভারে অবস্থিত হাতিল ফ্যাক্টররিটি প্রায় ২০ একর জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত। এখানে সব কারখানা মিলে শ্রমিক আছে ২ হাজার ৩০০ জন। দেশের বাইরে হাতিলের ১৭টি আউটলেটে রয়েছে।

x