বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮ মহা আনন্দযজ্ঞে স্বাগত

বৃহস্পতিবার , ১৪ জুন, ২০১৮ at ৫:০৯ পূর্বাহ্ণ
56

বিশ্বকাপ মানে মহা আনন্দযজ্ঞ। এই উচ্ছ্বাস শুরু হচ্ছে আজ থেকে। সারা দুনিয়া এখন অপেক্ষা করছে এই আনন্দ আসরের জন্য। কাঁপবে ফুটবলজ্বরে। মাসব্যাপী সেই উন্মাদনায় মেতে উঠতে প্রস্তুত পুরো বিশ্ব। ৩২টি দেশ অংশ নিচ্ছে এবারের বিশ্বকাপে। নিজেদের ফেভারিট দলকে নিয়ে ব্যাপক উত্তেজনা আর উন্মাদনায় রয়েছেন ফুটবলামোদীরা।

বিশ্বকাপের আসরের সীমাহীন আগ্রহে আমাদের প্রিয় চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলও মেতে উঠেছে উল্লাসে। ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা তো চিরকালের ফেভারিট। তা ছাড়াও ফেভারিটের তালিকায় রয়েছে ইতালি, জার্মানি, পর্তুগাল, স্পেন, ফ্রান্স ইত্যাদি দেশ। তাই বিভিন্ন বাড়িতে, হাটবাজারে, রাস্তায় ও গাড়িতে উড়ছে বিভিন্ন দলের পতাকা। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি উড়ছে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের পতাকা। তবে প্রিয় দলের পতাকার সঙ্গে কেউ কেউ ওড়াচ্ছেন বাংলাদেশের লালসবুজ পতাকাও।

উৎসবপ্রিয় জাতি আমরা। বারো মাসে তেরো পার্বণ উদযাপন করা বাঙালির চিরায়ত সংস্কার। প্রায়ই সিংহভাগ আনন্দ আয়োজন নির্দিষ্ট দিনেই সীমাবদ্ধ থাকে। যেমন নববর্ষ বরণ, মহিমান্বিত জাতীয় দিবস কিংবা বরেণ্য ব্যক্তিদের জন্মোৎসব একটি বিশেষ দিনের আনন্দঘন পরিবেশ। কিন্তু ধর্মীয় উৎসবগুলো একটু ভিন্ন মাত্রার। ঈদউলফিতরের আয়োজন শুরু হয় সিয়াম সাধনার মাস রমজানের পবিত্র দিনগুলো পার করার মধ্য দিয়ে। যা প্রায়ই মাস ধরেই চলতে থাকে। দুর্গাপূজার সময়কালও ৫ দিন। ষষ্ঠীপূজা দিয়ে শুরু করে দশমীর বিসর্জন পর্যন্ত এর মঙ্গলময় বার্তা। সুতরাং উৎসব আর আনন্দ আমাদের জীবনে নিত্য সময়ের কর্মযজ্ঞ, চিরায়ত বোধ আর ঐতিহ্যিক চেতনা। এভাবে আমরা আমাদের নিত্য জীবনের অনুষঙ্গ আনন্দঘন আয়োজনগুলো উৎসাহউদ্দীপনা আর সাড়ম্বরে পালন করতে অভ্যস্ত। সেই আনন্দ বন্যায় যোগ হয়েছে বিশ্বকাপের আসর। ঈদ আর বিশ্বকাপের আনন্দ আমাদের সবার মনে। ঈদ বাজারে তাই বিভিন্ন দোকানে শোভা পাচ্ছে পতাকা ও খেলোয়াড়দের জার্সিও। ঈদের কাপড় কিনতে গিয়ে কেউ কেউ আবার পতাকার পাশাপাশি জার্সিও কিনছে।

আড্ডা ও ফেসবুকে চলছে বিশ্বকাপ নিয়ে উচ্ছ্বাস। সমর্থকরা প্রিয় দলের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। প্রিয় দলকে সমর্থন করতে গিয়ে বিপক্ষ দলের সমর্থকদের ব্যঙ্গ ও বিদ্রুপও করা হচ্ছে। চলছে তুমুল তর্ক।

াআজ বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হবে। আর বিশ্বকাপ ফুটবলের একুশতম আসরের বাঁশি বাজবে রাত ৯টায়। উল্লেখ্য যে, ২০০৬এর বিশ্বকাপ থেকে উদ্বোধনী ম্যাচে চ্যাম্পিয়নদের বদলে খেলে স্বাগতিক দল। এবার স্বাগতিক রাশিয়ার প্রতিপক্ষ সৌদি আরব। তবে সেই খেলার চাইতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দিকে বেশি ঝোঁক থাকে ফুটবল প্রেমীদের। কিছুদিন আগেই ফিফা প্রকাশ করেছে এবারের বিশ্বকাপের থিম সং ‘লাইভ ইট আপ’। উদ্বোধনী দিনে এই গানের তালে তালে মেতে উঠবেন সবাই। জানা যায়, থিম সং নিয়ে সবার সামনে হাজির হবেন উইল স্মিথ, নিকি জ্যাম ও ইরা ইস্ত্রোফি। এ ছাড়া রাশিয়ান স্থানীয় তারকাদের নানা রকম আয়োজনে মাতবে পুরো গ্যালারি। অনুষ্ঠানের পাশাপাশি তুলে ধরা হবে রাশিয়ান সংস্কৃতির বিভিন্ন দিক। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, উপস্থিত দর্শকদের গানে মাতিয়ে রাখতে স্টেডিয়ামে উপস্থিত থাকবেন সংগীতশিল্পী রবি উইলিয়ামস, রাশিয়ার শিল্পী আইদা গারিফুলিনা। বাড়তি চমক হিসেবে থাকবেন ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি রোনালদো। এ ছাড়া মাঠে ৫ শতাধিক নৃত্যশিল্পী ও ক্রীড়াবিদ থাকবেন। একই দিন মস্কোর রেড স্কয়ারে আরেকটি কনসার্ট অনুষ্ঠিত হবে। এখানে প্ল্যাসিডো ডোমিগুয়েজ ও জুয়ান দিয়েগো ফ্লোর্সের মতো তারকারা পারফর্ম করবেন। সব মিলিয়ে জমজমাট আসরের অপেক্ষায় পুরো বিশ্ব। একটা কথা বলা জরুরি যে, আমাদের দেশে প্রিয় দলের পতাকা ওড়বে বিভিন্ন বাড়িতেগাড়িতেতা অস্বাভাবিক নয়, কিন্তু আমাদের বাংলাদেশের পতাকার প্রতিও যেন সম্মান প্রদর্শন করা হয়। নিজের প্রিয় দলকে নিয়ে নিজের আবেগ থাকবে, তা দমন করা যাবে না। কিন্তু কথা বলার সময় অন্য দলের প্রতিও সম্মান দেখানো উচিত। কেননা ব্যঙ্গ ও বিরূপের কারণে সংঘর্ষের মতো ঘটনা ঘটারও আশংকা থাকতে পারে। তাই সবাইকে এ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। আমরা চাই, এই আনন্দযজ্ঞের সূচনা হোক ব্যাপক উচ্ছ্বাসে। বিশ্বকাপের বিভিন্ন দলের খেলোয়াড়ের আধুনিক নৈপুণ্য ও ক্রীড়াশৈলী দেখে আমরা প্রীত হবোসেটাই প্রত্যাশা করি। চাই বিশ্বকাপের সাফল্য।

x