বিশ্বকাপের বড় বিতর্কের নাম জিং বেলস

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার , ১১ জুন, ২০১৯ at ১০:৫৩ পূর্বাহ্ণ
31

স্টাম্পে বল লেগেছে অথচ স্টাম্প ভাঙ্গেনি বা বেলস পড়েনি এমন ঘটনা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বিরল হলেও আগে বেশ কয়েকবার দেখা গেছে। তবে এবারের ইংল্যান্ড-ওয়েলস বিশ্বকাপে প্রায় ১০ দিনের ব্যবধানে মোট পাঁচবার এই ঘটনা ঘটায় সমালোচনার মুখে খোদ আইসিসি। সর্বশেষ ভারত-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচে অসি ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার ইনিংসের প্রথম বলেই বোল্ড হওয়ার হাত থেকে বেঁচে যান। ওভালে ভারতের দেওয়ার ৩৫৩ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে জসপ্রিত বুমরাহ’র প্রথম বলেই ওয়ার্নারের পেছনে থাকা স্টাম্প আঘাত করে। তবে সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে যান অসি ওপেনার। তবে এই সপ্তাহেই আইসিসি জানিয়ে দেয়, আগের কাঠের বেলস থেকে এখনকার জিং বেলস অনেক হালকা। অস্ট্রেলিয়া এই ম্যাচে ৩৬ রানের হারলেও বেঁচে গিয়ে ৫৬ রানের ইনিংস খেলেন ওয়ার্নার। এর আগে এই আসরেই উদ্বোধনী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার কুইন্টন ডি কক বেঁচে যান এ ধরনের অলৌকিকতায়। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার দিমুথ করুনারত্নে বেঁচে যান ট্রেন্ট বোল্টের বলে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মিচেল স্টার্কের বলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইল রক্ষা পান বেলস না পড়ায়। আর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে বাংলাদেশের মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন রক্ষা পান বেন স্টোকসের বলে । এদের মধ্যে বাংলাদেশের সাইফউদ্দিন ছাড়া বাকিরা নিজেদের ইনিংস বড় করতে পেরেছিলেন। এদিকে ভারত-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ শেষে দু’দলের অধিনায়ককে এ নিয়ে কথা বলতে দেখা যায়। তবে অ্যারন ফিঞ্চ ও বিরাট কোহলিকে এ ব্যাপারে সন্তুষ্টি প্রকাশ করতে দেখা যায়নি।
এমন ঘটনায় টুইটারে সাবেক ক্রিকেটাররাও সমালোচনায় মেতে উঠেছেন। সাবেক ইংলিশ অধিনায়ক মাইকেল ভন জানান, এমন সুযুগে ব্যাট করাটা দারুণ। যখন আপনি বোল্ড হবেন না। এই স্টাম্প/জিংগার বেল পরিবর্তন করতে হবে। পাকিস্তানের সাবেক স্পিডস্টার শোয়েব আখতার লিখেন, পাঁচবারের মতো বল স্টাম্পে লেগেও বেলস পড়েনি। কি হচ্ছে এগুলো। আমার পুরো ক্যারিয়ারেও এমন ঘটনা পাঁচবার দেখিনি। আর এবার ১০ দিন অথবা একটি টুর্নামেন্টে এটি এতবার ঘটলো।
এদিকে বিশ্বকাপে এমন বেলস কান্ডে বেশ নাখোশ ভারতের অধিনায়ক বিরাট কোহলি এবং অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক অ্‌্যারন ফিঞ্চ। তারা বলেন যখন মিচেল স্টার্কের ১৪০ কিলো মিটারেরও বেশি গতির বল স্টাম্পে লেগেও বেল পড়ে না তখন এই বিষয় নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। তাই এই বিষয়ে সমালোচনা করতে একটুও ছাড় দিলেন না ভারতের অধিনায়ক বিরাট কোহলি ও অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ। ভারতের অধিনায়ক কোহলি বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এমন ভুল কোনভাবেই আশা করা যায় না। আমি মনে করি প্রযুক্তির ব্যবহার দারুণ। স্ট্যাম্পের সাথে আপনি যদি কিছু করে থাকেন তাহলে নিমিষেই বাতি জ্বলে উঠবে। কিন্তু সেটার জন্য আপনাকে জোরে আঘাত করতে হবে। আর সেটা আমি ব্যাটসম্যান হিসেবেই বলছি। যার বল করেছে তারা সবাই ফাস্ট বোলার কেউই মিডিয়াম পেস বোলার নয়। কোহলি আরও বলেন, ধোনি আমাকে বলেছিল যে আমরা স্ট্যাম্পের গর্ত ভালোভাবেই চেক করেছি। স্ট্যাম্প খুব একটা শক্ত ছিল না। তবে কিছুটা ঢিলা ছিল। তাই আমি জানি না স্ট্যাম্পে ভুল কী আছে। আমি কখনোই এরকম ঘটনা বারবার ঘটতে দেখিনি। এটা কোন দলই স্বাভাবিক ভাবে নিতে পারবে না।
স্ট্যাম্প বিতর্ক নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক অ্যারন ফিঞ্চ বলেন, গত রোববার আমরা ঠিক পথেই ছিলাম কিন্তু একটা সময় ব্যাপারটা অনিরপেক্ষ ছিল। আমি জানি ওয়ার্নারের স্ট্যাম্প খুব জোরে আঘাত করা হয়েছিল। কিন্তু ব্যাপারটা বারবার ঘটেই যাচ্ছে। যেটা দুর্ভাগ্যজনক। কারণ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল কিংবা ফাইনালে এরকমটা দেখলে আপনি কখনো মানতে পারবেন না। যখন আপনি এত কঠিন পরিশ্রমে বল করেও ব্যাটসম্যানকে আউট করতে পারেন না। আমি জানিনা বেলকে কতটা হালকা বানাতে পারে তারা।

x