বিশেষায়িত বার্ন ইউনিট ঘিরে অনিশ্চয়তা কাটেনি

আজাদী প্রতিবেদন

শুক্রবার , ১৫ মার্চ, ২০১৯ at ১০:০৫ পূর্বাহ্ণ
24

জায়গা সংকটের সুরাহা না হওয়ায় চট্টগ্রামে বিশেষায়িত বার্ন ইউনিট স্থাপনে অনিশ্চয়তার কালো মেঘ সরেনি। এ সংকট নিরসনে চীনা প্রতিনিধি দলের তিন সদস্য ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের কয়েকজন কর্মকর্তাকে নিয়ে গতকাল (১৪ মার্চ) ফের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে আসেন সারাদেশে বার্ন চিকিৎসা সেবা সমপ্রসারণে সমন্বয়কের দায়িত্ব পাওয়া ডা. সামনত্ম লাল সেন। গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যনত্ম সম্ভাব্য আরো কয়েকটি স্থান পরিদর্শনসহ হাসপাতাল প্রশাসনের সাথে দুই দফা বৈঠকে বসেন তাঁরা। তবে বৈঠকে এ সংকটের কোন সুরাহা মেলেনি। এ সংকট নিয়ে এখন স্বাস্থ্য অধিদফতরে দ্বি-পক্ষীয় বৈঠক আহবান করে সেখানে আলোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ডা. সামনত্ম লাল সেন। প্রসঙ্গত, চীন সরকারের অর্থায়নে বিশেষায়িত বার্ন ইউনিট স্থাপন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় দফায় চমেক হাসপাতাল পরিদর্শন করে চীনের ৯ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। ওইসময় চীনের প্রতিনিধি দলের সাথে চমেক হাসপাতাল প্রশাসনের বৈঠকে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। মূলত, অবকাঠামো নির্মাণে আগের নির্ধারিত পরিমাপের তুলনায় কম জায়গার প্রসত্মাবে চীনা প্রতিনিধি দল অনীহা প্রকাশ করে। পরবর্তীতে ঢাকায় গিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাথে বৈঠকে তাঁরা এ অনীহার কথা জানায়।
আর এ সংকট নিরসনে চীনা প্রতিনিধি দলের কয়েকজনসহ স্বাস্থ্য অধিদফতরের কয়েকজন কর্মকর্তাকে নিয়ে বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম আসেন ডা. সামনত্ম লাল সেন।
উলেস্নখ্য, বাংলাদেশ সরকারের প্রসত্মাবের প্রেক্ষিতে সম্পূর্ণ আলাদা অবকাঠামোতে চট্টগ্রামে বিশেষায়িত বার্ন ইউনিট গড়ে তোলার আগ্রহ প্রকাশ করে চীন সরকার। আগ্রহ প্রকাশের পর চীনা একটি প্রতিনিধি দল প্রথম দফায় ২০১৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর চমেক হাসপাতাল এলাকায় সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করে। চীন সরকারের ৯ সদস্যের ওই প্রতিনিধি দলকে নিয়ে চট্টগ্রামে আসেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও সারাদেশে বার্ন চিকিৎসায় সমন্বয়কের দায়িত্ব পাওয়া ডা. সামনত্ম লাল সেন। ওই সময় হাসপাতালের পিছনের অংশে খালি জায়গা ও পেয়ারা বাগান এলাকাসহ বেশ কয়েকটি স্থান দেখানো হয় দলটিকে। এর মধ্য থেকে হাসপাতালের পিছনের অংশে খালি জায়গায় বিশেষায়িত এ ইউনিট গড়ে তুলতে চীনা প্রতিনিধি দলটি আগ্রহ প্রকাশ করে। হাসপাতাল প্রশাসনও তাতে সায় দেয়। এর প্রে্‌ক্িষতে চীনা দলটি দেশে গিয়ে সরকারের সংশিস্নষ্ট কর্তৃপক্ষকে তা অবহিত করে। চীন সরকারও তাতে সম্মতি জানায়। সংশিস্নষ্ট কর্তৃপক্ষের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর চিহ্নিত এ জায়গা ঘিরে বিশেষায়িত বার্ন ইউনিটের অবকাঠামো নির্মাণের ডিজাইনও শেষ করেছে চীনা দলটি। পরে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ২য় দফায় চমেক হাসপাতাল পরিদর্শনে আসলে নতুন তথ্য পায় তাঁরা। হাসপাতাল প্রশাসন থেকে তাঁদের জানানো হয়- চিহ্নিত ওই জায়গাটি এর আগে থেকেই একটি আধুনিক রেডিওলজি এন্ড ইমেজিং সেন্টার স্থাপনের জন্য চিহ্নিত করা। আর সেটি নির্মাণ করা হবে জাপানি দাতা সংস্থা জাইকার অর্থায়নে। জাইকার প্রকল্প সংশিস্নষ্টরা জানিয়েছেন- ইতোমধ্যে এ প্রকল্পের ডিপিপি চূড়ানত্ম হয়েছে। একনেকেও সেটি অনুমোদন করা হয়েছে। তাই চিহ্নিত এ জায়গা পরিবর্তন করা কঠিন বিষয়। সেটা হলে পুনরায় নতুন করে ডিপিপি তৈরি ও সেটি আবারো একনেকে পাস করাতে হবে। আর সেটি সময় সাপেক্ষ। অন্যদিকে, চীনা প্রতিনিধি দলটির ভাষ্য- তাঁরাও চিহ্নিত জায়গাটি ঘিরে ইতোমধ্যে ডিজাইন শেষ করেছেন। নতুন কোন জায়গা চিহ্নিত করলেও তার জন্য পুনরায় সরকারের সম্মতি নিতে হবে। আর এ প্রক্রিয়ায় শুধু সম্মতি নিতেই পুনরায় ২ থেকে ৩ বছর সময় লেগে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে খালি জায়গাটিতে দুই পক্ষকে আলাদা ভাবে অবকাঠামো নির্মাণের প্রসত্মাব দেয় চমেক হাসপাতাল প্রশাসন।
গণপূর্ত বিভাগ বলছে- ওই খালি অংশটিতে মোট ২ হাজার ৫০৮ বর্গমিটার জায়গা রয়েছে। যেখানে জাইকার প্রকল্পটির অবকাঠামো নির্মাণের জন্য ১ হাজার ৪৫২ বর্গমিটার জায়গা প্রয়োজন। এই অংশটুকু বাদ দিলে আর ১ হাজার ৫৬ বর্গমিটার জায়গা অবশিষ্ট থাকে। কিন্তু বার্ন ইউনিটের অবকাঠামোর জন্য অনত্মত দেড় হাজার বর্গমিটার জমির প্রয়োজন বলে জানিয়েছে চীনা প্রতিনিধি দল। ফলে ওই অংশে জায়গা সংকট দেখা দিয়েছে। এখন নতুন করে অন্য জায়গা চিহ্নিত করতে গেলেও সম্মতি পাওয়া সময় সাপেক্ষ।
সবমিলিয়ে স্থানীয়ভাবে গতকাল এ সংকটের সুরাহা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে আগামী সপ্তায় স্বাস্থ্য অধিদফতরে চীনা প্রতিনিধি দলসহ পুনরায় বৈঠকে বসবেন বলে জানিয়েছেন ডা. সামনত্ম লাল সেন। সেখানে এর কোন সুরাহা করা যায় কিনা সে চেষ্টা করা হবে বলেও জানান তিনি। গতকাল চমেক হাসপাতালের সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে চীনা প্রতিনিধি দলের তিন সদস্য ছাড়াও হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহসেন উদ্দিন আহমদ, উপ-পরিচালক ডা. আখতারুল ইসলাম, বার্ন ইউনিটের বিভাগীয় প্রধান ডা. মৃনাল কানিত্ম দাশ, রেডিওলজি বিভাগের প্রধান ডা. সুভাষ মজুমদার, বার্ন ইউনিটের চিকিৎসক ডা. রফিক উদ্দিন আহমেদ, ডা. এম এস খালেদ প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও স্বাস্থ্য অধিদফতরের সহকারী পরিচালক (পরিকল্পনা) শরিফুল ইসলাম, জাইকার অর্থায়নে ডায়াগনস্টিক এন্ড ইমেজিং সেন্টার স্থাপন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক প্রফেসর ডা. মো. মিজানুর রহমান এবং গণপূর্ত বিভাগের দুই জন প্রকৌশলী এসময় উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের এক ফাঁকে হাসপাতাল এলাকায় সম্ভাব্য আরো কয়েকটি স্থান ঘুরে দেখানো হয় চীনা প্রতিনিধি দলটিকে।

x