বিরোধপূর্ণ জায়গায় লাশ দাফন নিয়ে তুলকালাম

শিকলবাহায় দুই পক্ষের আহত ৮

আজাদী প্রতিবেদন

মঙ্গলবার , ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ at ৪:১৪ পূর্বাহ্ণ
100

কর্ণফুলীতে বিরোধপূর্ণ জায়গায় লাশ দাফন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সোমবার সকাল ১১টায় উপজেলার শিকলবাহা ইউনিয়নের কলেজবাজার খতির বাপের বাড়িতে ঘটনাটি ঘটে।
এতে দুই পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হন। আহতরা হলেন, এক পক্ষের মো. জাহাঙ্গীর, মো. হাসান, মো. শফি, নুরুচ্ছফা, মমতাজ বেগম ও অন্য পক্ষের রেজাউল করিম, টিপু ও ইলিয়াছ। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এরপর স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হলে লাশ দাফন করা হয়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শিকলবাহা কলেজবাহার ৭ নং ওয়ার্ডের খতির বাপের বাড়ির মৃত মো. ছবুরের পুত্র শাহ আলম গত রোববার রাতে মারা যান। মারা যাওয়ার আগে তিনি সন্তানদের বলে যান, বাড়ির পাশে তাদের জমিতে যেন তাকে দাফন করা হয়। কিন্তু ওই জমির দখল নিয়ে স্থানীয় মৃত নুরুল ইসলামের পুত্র মাহবুবুর রহমানের সাথে শাহ আলমের বিরোধ ছিল।
শাহ আলমের পুত্র মো. জাহাঙ্গীর বলেন, সোমবার সকালে বাড়ির পাশের জমিতে তার বাবার বলে যাওয়ার জমিতে কবর খোঁড়ার সময় প্রতিপক্ষ মাহবুবুর রহমানের লোকজন বাধা দেয়। এতে কথা কাটাকাটি হয়। এসময় কর্ণফুলী থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে। মাহবুবুর রহমানের লোকজন কবর খোঁড়ার কাজে বাধা দিতে গেলে বাকবিতণ্ডা হয়। মাহবুবুর রহমানের লোকজনের হামলায় তাদের পরিবারের ৫ সদস্য আহত হয়।
পুলিশ জানায়, বিরোধপূর্ণ জায়গায় কবর খোঁড়া হচ্ছে-মৃত নুরুল ইসলামের পুত্র মাহবুবুর রহমানের এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে তারা ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ যাওয়ার পর দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মাহবুবুর রহমান অভিযোগ করেন, তাদের জায়গায় কবর খোঁড়ার কাজ করায় তারা থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়। পুলিশের উপস্থিতিতে তারা অভিযোগের বিষয়টি বলতে গেলে শাহ আলমের ছেলেরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা করে। এতে ৩ জন আহত হয়।
কর্ণফুলী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) গোলাম মোস্তফা মুকুল বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে জায়গা-জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। বিরোধপূর্ণ জায়গায় লাশ দাফন করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি জানান, পরিস্থিতি শান্ত হলে কর্ণফুলী উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান দিদারুল ইসলাম ও শিকলবাহা ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম দুই পক্ষের সাথে সমঝোতা করে। পরে মৃত ব্যক্তির দাফন সম্পন্ন হয়।
শিকলবাহা ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বিরোধপূর্ণ জায়গায় লাশ দাফন করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ঘটনাটি ঘটে। আমরা গিয়ে বিষয়টি সমঝোতার চেষ্টা করেছি। আপাতত মৃত ব্যক্তির দাফন সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি বসে বিরোধপূর্ণ জায়গার বিষয়টি সমাধান করা হবে।

x