বিরল প্রজাতির পাখির কলতানে মুখরিত দরিয়ানগর

বাচ্চা ফুটিয়েছে কয়েক প্রজাতির পাখি : ফিরছে নতুন পাখির দল

আহমদ গিয়াস, কক্সবাজার

রবিবার , ৪ মার্চ, ২০১৮ at ১২:০১ অপরাহ্ণ
107

নানা বিরল প্রজাতির পাখির কলতানে মুখরিত হয়ে ওঠেছে কক্সবাজার শহরতলীর দরিয়ানগরের প্রস্তাবিত পাখি অভয়ারণ্য। ইতোমধ্যে অভয়ারণ্যের পাহাড়ের ঢালে গর্ত খুঁড়ে ডিম পেড়ে বাচ্চা ফুটিয়েছে বাতাসী, চড়ুঁই, লেজ নাচুনিসহ কয়েক প্রজাতির পাখি। প্রজননের জন্য নতুন করে ফিরছে সুঁইচোরা, বুলবুলি, দোয়েল, হাড়িচাচা, ডোরাকাটা মাছরাঙা, মাছরাঙা ও শালিক। বর্তমানে নতুন নতুন পাখির আগমন ও আগে আসা পাখিগুলোর বাচ্চারা কিচিরমিচির ধ্বনিতে মুখরিত কক্সবাজারের এ ভূস্বর্গ।কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের দরিয়ানগরস্থ প্রস্তাবিত পাখি অভয়ারণ্যের পাহাড়ের ঢালে বাচ্চা ফুটিয়েছে বাতাসী, নাচুনি, চড়ুঁইসহ কয়েক প্রজাতির পাখি। আর এসব পাখির ছানার কিচিরমিচির ধ্বনি ও তাদেরকে খাদ্য খাওয়ানোর দৃশ্য মন কাড়ছে পর্যটকদের। এছাড়া পাহাড়ের ঢালে ডিম পেড়ে বাচ্চা ফুটানোর জন্য গত কয়েক দিন ধরে বিরল প্রজাতির ডোরাকাটা মাছরাঙা, কমন মাছরাঙা, সুঁইচোরা, পাখি প্রতিদিনই সকালবিকাল এসে বাসা তৈরির চেষ্টা করছে। এদের পাশাপাশি বুলবুলি, দোয়েল, হাড়িচাচা, ঘুঘুসহ আরো কয়েক প্রজাতির পাখির বিচরণ বেড়েছে দরিয়ানগরে। স্থানীয় পাখি পর্যবেক্ষকরা জানান, বাচ্চা ফুটানোর পর বাতাসী, চড়ুঁইসহ অন্যান্য পাখি তাদের ছানা বড় হলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই অভয়ারণ্য ত্যাগ করবে। আর সেখানে নতুন করে ডিম পাড়বে সুঁইচোরা, শালিক, ডোরাকাটা মাছরাঙাসহ আরো কয়েক প্রজাতির পাখি। এসব পাখির প্রাথমিক দলটি ইতোমধ্যে অভয়ারণ্যে বাসা তৈরির চেষ্টা করছে আর কিছু পাখি বাতাসী ও চড়ুঁইয়ের চলে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। আইইউসিএন (ইন্টান্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজার্ভ ন্যাচার) এর জরিপে বিপন্ন প্রজাতির তালিকায় রয়েছে ডোরাকাটা মাছরাঙা বা স্পটেট কিং ফিশার। পর্যবেক্ষকরা জানানআগের মৌসুমে বাতাসী ও ডোরাকাটা মাছরাঙা অভয়ারণ্যের পাহাড়ে একসঙ্গে বাসা তৈরি করেছে। কিন্তু এবার অজ্ঞাত কারণে ডোরাকাটা মাছরাঙাকে বাধা দিয়েছে বাতাসী পাখির দল। ডোরাকাটা মাছরাঙা পাখি বাতাসীর তুলনায় আকারে অর্ধেকেরও বেশি ছোট হলেও বাতাসী ও চড়ুই পাখির দলবদ্ধ আক্রমণ মোকাবেলায় এরা অক্ষম। তবে শীতের শেষে বাতাসী পাখি চলে গেলে এর পরিবর্তে সুইঁচোরা পাখি আসে। তখন সুইঁচোরার পাশাপাশি চড়ুই, শালিক ও কাঠ শালিক একসঙ্গে বাসা তৈরি করে। আর বর্ষা শুরুর আগেই ডিম পেড়ে বাচ্চা ফুটিয়ে এসব পাখি অন্যত্র চলে যায়। কক্সবাজার শহরের কলাতলী মোড় থেকে প্রায় আড়াই কিলোমিটার দক্ষিণে মেরিন ড্রাইভ ও সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন দরিয়ানগর এলাকায় প্রায় ২৫ একর বিশিষ্ট পাহাড়কে ঘিরে একটি পাখির অভয়ারণ্য গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। স্থানীয় পাখি পর্যবেক্ষক ও পরিবেশবাদীদের দাবীর প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন উক্ত উদ্যোগটি গ্রহণের পর প্রকল্পটি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন লাভ করে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব মোকাবেলা, শিক্ষা, গবেষণা ও বিনোদনের উদ্দেশ্যে দরিয়ানগরে পাখির অভয়ারণ্য গড়ে তোলা হচ্ছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।

জানা যায়, জীববৈচিত্র সমৃদ্ধ দরিয়ানগর পাহাড়ে রয়েছে ঘন বাঁশবন ও সেগুন বাগান ছাড়াও নানা প্রজাতির বৃক্ষ ও গুল্মের সমাহার। পাহাড়ে খাঁজে খাঁজে বাস করে নানা প্রজাতির পাখি। বিভিন্ন গাছেও বাসা বেঁধে থাকে পাখির দল। এরই মাঝে এখানে বাস করে বন্য বানরের কয়েকটি দলও। এছাড়া রাতের বেলায় বিচরণ করে বড় আকারের কয়েকটি প্যাঁচা ও শিয়ালের দল। তাছাড়া গুঁইসাপ ও অজগরসহ কয়েক প্রজাতির সরীসৃপও দেখা যায় পাহাড়টিতে।

x