বিভেদ পরিহার করে দলের জন্য কাজ করতে হবে : নাছির

আজাদী প্রতিবেদন

রবিবার , ১৮ আগস্ট, ২০১৯ at ৫:১০ পূর্বাহ্ণ
47

ক্ষুদ্র স্বার্থে জাতীয় স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে আত্মঘাতী না হওয়ার জন্য দলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। আওয়ামী লীগ শুধুমাত্র ক্ষমতায় আরোহণের সিঁড়ি নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সকল সংকীর্ণতা, বিভেদ এবং কোন্দল পরিহার করে দলের জন্য নিস্বার্থভাবে কাজ করতে হবে। নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য চিন্তা করলে তা হবে আমাদের সকলের জন্য, দেশের জন্য একটি আত্মঘাতী অশনি সংকেত। তাই দলের পরীক্ষিত নেতাকর্মীদেরকেই ছেঁকে এনে নেতৃত্বে আশীন করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালনোপলক্ষে গতকাল চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের উদ্যোগে নগরীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনিস্টিটিউশন মিলনায়তনে আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য হল বঙ্গবন্ধুর আরাধ্য স্বপ্নের সোনার বাংলা বাস্তবায়ন করা। এ লক্ষ্য অর্জনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধাপে ধাপে অনেক দূর এগিয়েছেন এবং দলীয় সাংগঠনিক ভিত্তি সুদৃঢ় থাকলে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস তিনি বাঙালি জাতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। শুধুমাত্র উদ্দেশ্যে বিহীনভাবে বঙ্গবন্ধুর বন্দনা এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অন্ধস্তুতি করার প্রয়োজন নেই। যারা এসব করে তারা একটি সুবিধাভোগী গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করছেন। এদের মধ্যে দেশ ও জাতির জন্য কোন দায়বদ্ধতা নেই। শুধুমাত্র ভৌগলিক স্বাধীনতা নয়, হাজার বছর ধরে বাঙালি জাতির শোষণ, বঞ্চনা, বৈষম্য এবং সর্বপ্রকার শৃঙ্খল ছিন্ন করতে বঙ্গবন্ধুর কাম্য ছিল বাঙালি জাতিসত্তা বির্নিমাণ ও পরিপূর্ণ অর্থনৈতিক মুক্তি।
আ জ ম নাছির বলেন, আমরা সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করি যে, বঙ্গবন্ধুর আরাধ্য সোনার বাংলা বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত শেখ হাসিনার জীবন ও কর্মকে দীর্ঘদিন সচল রাখেন। তাহলেই বাংলাদেশ ২০৪১ সালের মধ্যেই শেখ হাসিনার মিশন-ভিশন অনুযায়ী উন্নত দেশে রূপান্তরিত হবে।
সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিরা দেশের বাইরে পালিয়ে আছেন, তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে এনে বঙ্গবন্ধু হত্যার দায়ে প্রদত্ত সর্বোচ্চ রায় অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে। তিনি আরো বলেন, আমাদের দল পর পর তিন দফায় ক্ষমতায় আছে। তার মানে এই নই যে আমরা বিপদমুক্ত। আমাদের সামনের দিনগুলো কঠিন। নিজেদের ঘরে এবং বাইরে শত্রুরা কিলবিল করছে। তাই সাংগঠনিক ঐক্য ও দলীয় আনুগত্যের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে পারলেই দল, দেশ ও জাতি বিপদমুক্ত হবে।
চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আলহাজ্ব শফিকুল ইসলাম ফারুকের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সহ-সভাপতি আলহাজ্ব নঈম উদ্দিন চৌধুরী, জহিরুল আলম দোভাষ, আলতাফ হোসেন চৌধুরী বাচ্চু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব বদিউল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিক আদনান, চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, আইন সম্পাদক এড. শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক চন্দন ধর, যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক দিদারুল আলম চৌধুরী, নির্বাহী সদস্য জাফর আলম চৌধুরী, সাইফুদ্দিন খালেদ বাহার, আবদুল লতিফ টিপু, থানা আওয়ামী লীগের আলহাজ্ব ফিরোজ আহমেদ, মো. হারুনুর রশিদ, হাজী ছিদ্দিক আলম, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আলহাজ্ব ছিদ্দিক আহমদ, নুরুল আমিন কালু, অধ্যাপক মো. ইসমাইল, মো. গিয়াস উদ্দিন, সেলিম রেজা, আবু তৈয়ব ছিদ্দিকী। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ডাঃ আফছারুল আমীন এমপি, সহ সভাপতি এড. সুনীল সরকার, উপদেষ্টা আলহাজ্ব শফর আলী, শেখ মাহমুদ ইছহাক, মহানগর আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আলহাজ্ব আবদুচ ছালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ, সৈয়দ হাসান মাহমুদ শমসের, হাজী মো. হোসেন, জোবাইরা নার্গিস খান, আবু তাহের, হাজী শহিদুল আলম, নির্বাহী সদস্য মো. ইয়াকুব, আবুল মনসুর, কামরুল হাসান ভুলু, নুরুল আলম, গাজী শফিউল আজিম, নুরুল আবছার মিয়া, বখতিয়ার উদ্দিন খান, মো. জাবেদ, রোটারিয়ান মো. ইলিয়াছ, হাজী বেলাল আহমেদ, থানা আওয়ামী লীগের আলহাজ্ব ফয়েজ আহমেদ, আলহাজ্ব সাহাবউদ্দিন আহমেদ, এ এস এম ইসলাম, আলহাজ্ব জাহাঙ্গীর চৌধুরী সিইনিসি, শফিউল আলম ছগির, আবু তাহের, রেজাউল করিম কায়সার সহ ৪৩টি সাংগঠনিক সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, আহ্বায়ক, যুগ্ম আহ্বায়ক এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সকল স্তরের নেতাকর্মীরা। সভার শুরুতেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৫ আগস্ট সকল শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এ সময় মুনাজাত করেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ধর্ম সম্পাদক হাজী জহুর আহমেদ।

x