বিভাগীয় পর্যায়ে শুদ্ধ সুরে জাতীয় সংগীত পরিবেশন প্রতিযোগিতা

বুধবার , ১৩ মার্চ, ২০১৯ at ১০:১২ পূর্বাহ্ণ
32

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান বলেছেন, বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯০৫ সালে জাতীয় সংগীত লিখেছেন। বাংলাদেশ, বাঙালি, বাংলার গাছপালা ও ফসলের ক্ষেত থেকে শুরু করে এমন কোন বিষয় নেই যা জাতীয় সংগীতে আসেনি। এ গানে বাংলার প্রকৃত রূপ ফুটে উঠেছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এ গানটি গাওয়ার জন্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ষাটের দশক থেকে ঠিক করে রেখেছেন। ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু যখন পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী ছিলেন তখনও কবি গুরুর এ গানটি বুকে ধারণ করে রেখেছিলেন এবং মুজিবনগর সরকার গঠনের পর জাতীয় সংগীত গেয়ে সার্বজনীনভাবে শপথ গ্রহণ করেন। স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও অনুষ্ঠানে আমরা জাতীয় সংগীত শুনে আসছি। কিন্তু অনেকে এ গানটি শুদ্ধ সুরে গাইতে জানে না। সুরে অনেক পার্থক্য থাকে। দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ও মর্যাদা রক্ষার লক্ষ্যে ২০১৮ সালে বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা সকল থানা/ উপজেলা, জেলা, মহানগর, বিভাগ ও জাতীয় পর্যায়ে শুদ্ধ সুরে জাতীয় সংগীত পরিবেশন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত নেন। স্বাধীনতার মাসে বিভাগীয় পর্যায়ে এ প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে এবং এ মাসেই জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা সম্পন্ন হবে। জাতীয় সংগীতের কোন ধরনের অবমাননা যাতে না হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখে শুদ্ধ সুরে এটি গাইতে হবে। শুদ্ধ জাতীয় সংগীতের চেতনা সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে পারলে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রতি দেশপ্রেম জাগ্রত হবে। বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ৮০ বছর বেঁচেছিলেন। ৬৮ বছর পর্যন্ত তিনি লিখেছেন। শুধু জাতীয় সংগীত নয়, সকল সংগীত, কবিতা, ভাষা ও প্রবন্ধসহ সবকিছুই শুদ্ধ সুরে গাইতে ও পড়তে হবে। পৃথিবীর কোন জাতি নিজের ভাষা রক্ষা করতে জীবন দান করেননি। একমাত্র জাতি বাংলা ভাষা রক্ষা করার জন্য নিজেদের আত্মাহুতি দিয়েছেন। আমরাই পারছি এবং এ ইতিহাস বিশ্বে নজিরবিহীন।
গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার অফিস আয়োজিত শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে শুদ্ধসুরে জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় সংগীত চর্চাকে অনুপ্রাণিত করার লক্ষ্যে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে দলগত জাতীয় সংগীত পরিবেশন প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে, শিশু একাডেমিতে মাধ্যমিক পর্যায়ে ও নগরীর পিটিআই মিলনায়তনে প্রাথমিক পর্যায়ে শুদ্ধ সুরে জাতীয় সংগীত পরিবেশন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মো. নুরুল আলম নিজামীর সভাপতিত্বে ও শিল্পকলা একাডেমির জেলা কালচারাল অফিসার মোসলেম উদ্দিন সিকদারের সঞ্চালনায় প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, কলেজ ও মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপ-পরিচালক ড. গাজী গোলাম মাওলা। আলোচনা সভা শেষে প্রতিযোগিতা শুরু হয় ও বেলা সাড়ে ১২টায় প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
এবারের প্রতিযোগিতায় চট্টগ্রাম বিভাগের ১১ জেলা, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন থেকে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে মোট ৩৯টি দল শুদ্ধ সুরে জাতীয় সংগীত পরিবেশন প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের (কলেজ) প্রতিযোগিতায় চট্টগ্রাম নগরীর এনায়েত বাজার মহিলা কলেজ-১ম স্থান, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন সমন্বিত দল-২য় স্থান ও চট্টগ্রামের রাউজানস্থ কুণ্ডেশ্বরী বালিকা মহাবিদ্যালয়-৩য় স্থান অর্জন করেন। মাধ্যমিক পর্যায়ের (মাধ্যমিক বিদ্যালয়) প্রতিযোগিতায় খাগড়াছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়- ১ম স্থান, চাঁদপুরের মাতৃপীঠ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়-২য় স্থান ও কুমিল্লা জেলা সমন্বিত দল-৩য় স্থান অর্জন করেন। প্রাথমিক পর্যায়ের (প্রাথমিক বিদ্যালয়) প্রতিযোগিতায় বান্দরবানের মেঘলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়-১ম স্থান, চাঁদপুর সদর উপজেলা সমন্বিত দল- ২য় স্থান ও কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন সমন্বিত দল- ৩য় স্থান অর্জন করেন। বিভাগীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত শুদ্ধ সুরে জাতীয় সংগীত পরিবেশন প্রতিযোগিতায় শুধুমাত্র প্রথমস্থান অর্জনকারীদল জাতীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিতব্য প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবে। জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে প্রতিযোগিতায় কলেজ, মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপ-পরিচালক ড. গাজী গোলাম মাওলা- আহ্বায়ক, জেলা কালচারাল অফিসার মোসলেম উদ্দিন- সদস্য সচিব ও বিভাগীয় কমিশনার অফিসের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইনামুল হাসান- সমন্বয়কের দায়িত্বে ছিলেন। বিচারকের দায়িত্বে ছিলেন- বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী শ্রেয়সী রায়, প্রদীপ দাশ ও শ্বাশতী তালুকদার। শিশু একাডেমিতে প্রতিযোগিতায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপ-পরিচালক আজিজ উদ্দিন- আহ্বায়ক, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা নারগীস সুলতানা- সদস্য সচিব ও বিভাগীয় কমিশনার অফিসের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাহিদা আক্তার তানিয়া- সমন্বয়কের দায়িত্বে ছিলেন।
বিচারকের দায়িত্বে ছিলেন বিশিষ্ট সংগীত শিল্পী আবদুর রহিম, সুতপা চৌধুরী ও রাজীব মজুমদার। নগরীর পিটিআইতে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় প্রাথমিক শিক্ষা চট্টগ্রাম বিভাগের উপ-পরিচালক মো. সুলতান মিয়া-আহ্বায়ক, পিটিআই সুপার কামরুন নাহার বেগম- সদস্য সচিব ও বিভাগীয় কমিশনার অফিসের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এহসান মুরাদ- সমন্বয়কের দায়িত্বে ছিলেন। বিচারকের দায়িত্বে ছিলেন সংগীত শিল্পী মোস্তফা কামাল, কাজল মজুমদার ও অপু বর্মন। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

x