বিবিএ প্রফেশনাল কোর্সে ‘স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস’

নাহিদা বিনতে তাবাসছুম

শনিবার , ১৭ নভেম্বর, ২০১৮ at ৫:৪৭ পূর্বাহ্ণ
117

বর্তমানে একজন শিক্ষার্থী বিবিএ পড়তে আগ্রহী হওয়ার পিছনে যে কারণগুলো আছে তার একটি হল চাকরির বাজারে গ্রহণযোগ্যতা। এ ক্ষেত্রে সৃজনশীলতাকে কাজে লাগানোর সুযোগ থাকায় শিক্ষার্থীরা নিজেদের উদ্ভাবনী ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে ব্যবসা বাণিজ্যের জগতে নানা পরিবর্তন নিয়ে আসছেন। চাকরির বাজারে বিবিএ শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যাংক, বীমাসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ভারি ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, হিসাব বিভাগ, নিরীক্ষা বিভাগ, ট্যাঙ,আর্থিক প্রশাসন, আর্থিক ব্যবস্থাপনা বিভাগে কাজের সুযোগ রয়েছে। এমনকি পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসাবে ও চাহিদা রয়েছে বিবিএ ও এমবিএ ডিগ্রিধারীদের। তবে একজন শিক্ষার্থীর জ্ঞান ও প্রজ্ঞা কর্মক্ষমতার মূলে আছে মানবিকতা ও দায়বদ্ধতা। বিবিএ ও এমবিএ সনদ একজন শিক্ষার্থীর চাকরি পাওয়ার নিশ্চয়তা নয় বরং চাকরির প্রতিযোগিতামূলক বাজারে প্রবেশের ছাড়পত্র মাত্র। বর্তমানে সর্বক্ষেত্রে আত্মকেন্দ্রিকতা ও বিদেশমূখীতা দেশের প্রতি দায়বদ্ধতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে, ভেঙে যাচ্ছে এককেন্দ্রিক পরিবারতত্ত্ব, তবে এই জন্য তথ্য প্রযুক্তির তত্ত্ব দায়ি নয়, দায় মানসিকতা। বর্তমানে শিক্ষার পাশাপাশি দরকার প্রত্যেকটি পরিবারে মূল ও নিজ নিজ দেশের প্রকৃত ইতিহাস সাহিত্য, দর্শন সর্বোপরি সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ। এই লক্ষ্যে বিবিএ একটি প্রফেশনাল বিষয় হলেও এর সাথে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ‘স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যূদয়ের ইতিহাস’ বিষয়টি বিবিএ সিলেবাসে যুক্ত করে চাকরির পাশাপাশি নিজের দেশের প্রতি বিবিএ পড়ুয়াদের করেছে মানবিক ও দেশ প্রেমিক।
বিবিএ কোর্সে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে নূন্যতম ৪০টি কোর্স সম্পন্ন করতে হয় যাতে ব্যবসা বাণিজ্য বেশ দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করতে পারেন। বিবিএ পড়ুয়াদের বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান থাকতে হবে সচ্ছ ও নির্ভুল। আধুনিক যুগের চাহিদা ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার মানের সাথে তাল মিলিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় চালু করে বিবিএ অনার্স প্রফেশনাল কোর্স, যার বিষয়গুলো হল হিসাববিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা এবং মার্কেটিং ও ফিন্যান্স। তবে সাফল্যের মূল চাবিকাঠি দেশ প্রেম। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ প্রফেশনাল ১ম সেমিস্টারে ৫ সাবজেক্টে ইংরেজি বিষয়কে বাদ দিয়ে নতুন বিষয যুক্ত করা হয়েছে এ লক্ষ্যে।
কোর্সটির সুবিধা : বাংলাদেশে দু’ধরনের বিবিএ কোর্স রয়েছে। একটি একাডেমিক ও অন্যটি প্রফেশনাল। সকল পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রফেশনাল বিবিএ (অনার্স) পড়ানো হয় না। শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ- তে এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রফেশনাল বিবিএ পড়ানো হয় যেখানে অনার্স শেষে ৩ মাস ব্যাপী ইন্টার্নশিপ করার সুযোগ পাই শিক্ষার্থীরা। ফলে চাকরিতে প্রবেশের আগেই অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ হন তারা। এই কোর্স এ কোন সেশনজট নেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের (একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুসারে) এবং নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে বেশি সময় ব্যয় করতে হয় না। ব্যাংকিং সেক্টর বা অন্যান্য চাকরির ক্ষেত্রে রয়েছে এর ব্যপক চাহিদা।এই কোর্স সম্পন্ন করার পর এক বছরের এমবিএ করার সুযোগ পাবেন শিক্ষার্থীরা। কোর্সটি পুরোপুরি ইংরেজি মাধ্যমে হওয়াতে চাকরির ক্ষেত্রে মূল্যায়ন করা হয় বেশি। যে কোন বিভাগের ছাত্রছাত্রীরা এই কোর্সে ভর্তি হতে পারেন।
ভর্তির যোগ্যতা : এসএসসি ও এইচএসসি সমমান পরীক্ষায় ন্যূনতম জিপিএ ২.০ পয়েন্ট পেয়ে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা ৪ বছর মেয়াদি এই কোর্সে ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। বাংলাদেশে স্বীকৃত যে কোন শিক্ষাবোর্ড/উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সকল শাখায় ২০১৫/২০১৬ সালের এসএসসি এবং ২০১৭/২০১৮ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় আলাদাভাবে ৪র্থ বিষয়সহ ন্যূনতম জিপিএ ২.০ পয়েন্ট প্রাপ্ত প্রার্থীরা ভর্তি কার্যক্রমে আবেদন করতে পারবে। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের এইচএসসি সমমানের কোর্সসমূহ থেকে শুধুমাত্র ১।এইচএসসি (ভোকেশনাল) ২। এইসএসসি বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ৩। ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা এ ভর্তি কার্যক্রমে আবেদন করতে পারবে।
প্রার্থীদের উচ্চ মাধ্যমিক/সমমানের পরীক্ষায় পঠিত বিষয়সমূহ থেকে ভর্তি যোগ্য কোর্স নির্ধারন করা হবে। উক্ত পঠিত বিষয়ে (২০০ নম্বরের) ন্যূনতম গ্রেড পয়েন্ট ৩.০ থাকতে হবে।
বিস্তারিত তথ্যের জন্য নগরীর লালখান বাজারস্থ নিউরাল ইন্সটিটিউট অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি প্রতিদিন সকাল ৮ টা থেকে বিকাল ৪ টার মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ শর্ত সাপেক্ষে/জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী আবেদন বা ভর্তি হতে পারবেন। প্রয়োজনে ০১৭১১-৮৬১৫৭৪ ও ০৩১-৬৩৯০৬৮ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে।

x