বিবাহ

বিচিত্রা সেন

শুক্রবার , ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ৬:৪০ পূর্বাহ্ণ
76

কলেজ থেকে সবেমাত্র বাসায় ঢুকলো জুঁই, সাথে সাথে মা বললো, “তাড়াতাড়ি হাতমুখ ধুয়ে আয়,বাসায় কিছু মেহমান আসবো।”
-বাসায় মেহমানের সাথে আমার হাতমুখ ধোওয়ার কী সম্পর্ক? জুঁই অবাক হয়ে বললো।
– সম্পর্ক আছে বলেই তো বলতাছি।কথা না বাড়াই তাড়াতাড়ি যা। মা তাড়া লাগালেন।
জুঁইয়ের মেজাজটাই খারাপ হয়ে গেলো!একে তো পেটে প্রচণ্ড খিদে।তার উপর মায়ের এই তাড়া লাগানো।তারপরও মায়ের কথামতো তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে আসলো সে। মা এবার বললেন,
-ভালো একটা থ্রিপিস পর। মেহমানের সামনে তোরে খাবার নিয়া যাইতে হইবো।
জুঁইয়ের মেজাজটা এবার চরমে উঠলো।কী শুরু করেছে মা মেহমান মেহমান করে! এমন কোন মেহমান আসবে তাদের ঘরে যে,তাকে নতুন কাপড় পরে সাজগোজ করে সামনে যেতে হবে। তাকে খেতে দেবার নাম নেই,অথচ মেহমানের খাবার নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।কিন্তু মনে মনে গজগজ করলেও মাকে খুব ভয় পায় জুঁই।তাই কথা না বাড়িয়ে মায়ের কথামতো ঈদে কেনা থ্রীপিসটাই পরে নেয়।
মাগরিবের কিছুক্ষণ পরেই মেহমানরা আসে।
জুঁই পর্দার ফাঁক দিয়ে দেখে দুজন তরুণ ও একজন বয়স্ক লোক এসেছে। জুঁই এর বাবার সাথে ওরা নিচুস্বরে কথা বলে।একটু পরই জুঁই নাস্তার ট্রে নিয়ে প্রবেশ করে।তরুণ দুজন কথা থামিয়ে ওর দিকে তাকায়।জুঁই এর বাবা জুঁইকে বসতে বলে।জুঁই এর খুব অস্বস্তি লাগলেও বাবার কথার অবাধ্য হওয়ার সাহস তার নেই!তার বাবা খুব রাগী।কথার একটু এদিক সেদিক হলেই হয়তো মেহমানদের সামনেই তাকে অপমান করে বসবে।তাই সে বসে পড়ে ওদের সামনে।
বয়স্ক লোকটা টুকটাক প্রশ্ন করে জুঁইকে। কী নাম, কী পড়ে,কোন কলেজে এসব, জুঁই উত্তর দিয়ে যায়।তরুণ দুজন কিছুই বলে না,তবে জুঁই চোখ নিচু করে রাখলেও স্পষ্ট বুঝতে পারে ওরা তার দিকেই তাকিয়ে আছে।জুঁই এর রঙ নিয়ে তার মনে একটু খুঁতখুঁতানি আছে।যদিও সে জানে তার চেহারাটা খুব মিষ্টি তারপরও এখনো অনেক মানুষ আছে যারা সুন্দর বলতে ফর্সা রঙকেই বোঝে।এরা কেন এসেছে তা সে জানে না,তবুও তার মনে হচ্ছে ওরা বুঝি তাকে দেখতে এসেছে।
একটু পর বয়স্ক লোকটাই বলে,”এবার তুমি যেতে পারো।” জুঁই যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচে। নিজের রুমে এসে মনটা খচখচ করে তার। ওদের আচরণ সন্দেহজনক। মনে হয় ওরা ওকে দেখতেই এসেছে। ওর এখন বিয়ে করার কোনো ইচ্ছে নেই। সবেমাত্র ফার্স্ট ইয়ারে পড়ে সে। এখনো তার আঠারো বছর হয়নি।এখন কেন তার বিয়ে হবে! সে অনেক পড়ালেখা করবে। চাকরি করবে। কিছুতেই সে এখন বিয়ে করবে না। এসব ভাবতে ভাবতে ক্লান্তিতে তার চোখটা বন্ধ হয়ে আসে।কলেজ থেকে এসে কিছু খাওয়াও হয়নি তার।এখন খিদে মরে গেছে। তবে একটু ঘুমাতে পারলে শরীরটা ভালো লাগবে।
সে কতক্ষণ ঘুমিয়েছিল নাকি ঘুমটা মাত্র লেগে এসেছিল তা বলতে পারবে না,হঠাৎ মায়ের ডাকে তার ঘুমটা ভেঙে গেলো। মা তার মুখের উপর ঝুঁকে পড়ে তাকে ডাকছে।ধড়মড় করে সে উঠে বসলো।মা বলছেন, “উঠ, উঠ, তাড়াতাড়ি এই শাড়িটা পরে নে।” জুঁই কিছু বুঝতে পারে না।ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে মায়ের দিকে।এত রাতে শাড়ি পরে সে কী করবে? সে ঘুম জড়ানো কণ্ঠেই বলে,”শুধু শুধু শাড়ি পরবো ক্যান আম্মা?”
মায়ের চোখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। বলেন,
– ওরা আজকেই আকদ করতে রাজী হইসে। তোর আব্বা কাজী ডাকতে গেসে।
আকদ্‌ করতে রাজী হয়েছে মানে! জুঁইয়ের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে।চেনে না,জানে না,একটা কথা পর্যন্ত হলো না সেইরকম একটা ছেলের সাথে ওর বিয়ে হয়ে যাবে আজকে? আত্মীয় স্বজনের বিয়েতে গিয়ে সে কত মজা করেছে,অথচ তার বিয়েতে কেউ আসবে না! কেউ জানবে না! এ কেমন বিয়ে?
সে শোয়া থেকে উঠে বসে,তারপর শাড়িটা একপাশে সরিয়ে রেখে বলে,”আমি বিয়া করবো না আম্মা।”
মায়ের ভ্রু কুঞ্চিত হয়,গলার স্বর কঠিন-
– ওইসব ঢংয়ের কথা আমারে বইলো না।তুমি বিয়া করার কে? মাইয়ারা বিয়া করে না,মাইয়াদের বিয়া দেয়।তোমারে আমরা বিয়া দিবো।তোমার এখনো মা বাপ বাইচা আছে।কথা না বাড়াই শিগগির শাড়ি পইরা লও।তাছাড়া তোমারে যে ওরা পছন্দ করসে এটাই বেশি।আজকাল কেউ কালো মেয়ে পছন্দ করে নাকি?
মায়ের কঠিন করে বলা কথাগুলো শুনে জুঁই কান্না করে দেয়। তার রঙ কালো বলে তার বিয়েটা এমনভাবে হবে? কত কালো মেয়েই তো পড়ালেখা করে ভালো ভালো চাকরি করে ভালো ভালো ঘরে বিয়ে করছে।তার খালাতো বোনও তো কালো।কিন্তু গত মাসে কী সুন্দর ডাক্তার ছেলের সাথে তার বিয়ে হয়েছে।তার মা এসব কী বলে? মাকে জড়িয়ে ধরে সে বলে,”আম্মা গো,ও আম্মা,তুমি আমারে বাঁচাও।আমি এভাবে বিয়া করবো না।আমি অনেক পড়ালেখা করবো আম্মা।
মা তার কোমরে জড়িয়ে থাকা জুঁইয়ের হাত সরাতে সরাতে বলে,” তোমার আব্বার সাথে ওদের কথা হইসে,ওরা তোমারে পড়াইবো। অহন তাড়াতাড়ি শাড়িটা পইরা লও।তোমার আব্বার শরীরটা ভালা না।কখন কী হইয়া যায় বলা যায় না,তাই উনি তোমার একটা হিল্লা করতে চান।”
জুঁই ডুকরে কেঁদে ওঠে।গল্পে,নাটকে,সিনেমায় সে এমন দৃশ্য অনেকবার দেখেছে।কিছু বুঝে ওঠার আগেই ‘উঠ ছুঁড়ি তোর বিয়ে’। বিশেষ করে বিটিভিতে দেখানো ‘সংশপ্তক’ নাটকের একটা দৃশ্য তাঁর মনে এখনো গেঁথে আছে যাতে দেখানো হয়েছিল রাবুর সাথে পীর সাহেবের বিয়ে।আজ সেসব গল্প,নাটকের দৃশ্য তার জীবনেও ঘটতে যাচ্ছে! কী করে সে এটা আটকাবে?
এমন সময় ঝড়ের গতিতে রুমে ঢুকেন বাবা।ঢুকেই জুঁইকে বিছানায় বসা দেখে রেগে যান,মায়ের দিকে তাকিয়ে বলেন,” কী ব্যাপার,ও অহনো বসা ক্যান? কাজী সাহেব এসে পড়সেন।আমি জামাল সাহেব আর নজরুল সাহেবরেও ডেকে আনসি।শুভকাজে মুরুব্বী বেশি থাকা ভালো। তুমি ওরে সাজাই তাড়াতাড়ি নিয়া আসো।”
জুঁই বুঝতে পারে ওর প্রতিবাদে কোনো কাজ হবে না।ওর আজকে বিয়ে হবেই।একটা মানুষের জীবনে কত স্বপ্ন থাকে এই বিয়ে নিয়ে। তারও ছিল,কিন্তু সব স্বপ্নকে ধুলিসাৎ করে দিয়ে তার বিয়ে হয়ে যাবে আজকে।অথচ বিকেলে কলেজ থেকে যখন ফিরছিল,তখনো সে জানতো না কাল সে কলেজে যাবে বিবাহিতা হয়ে।একটা রাত যে কতটা পাল্টে দিতে পারে মানুষের জীবন আজকে তা হাড়ে হাড়ে সে বুঝতে পারছে।
বাবা রুম থেকে বেরিয়ে গেলে জুঁই হাতমুখ ধুয়ে শাড়িটা পরে নেয়।মা তাকে একটা খোঁপা করে দেয়।টপ টপ করে চোখ দিয়ে জল গড়িয়েই পড়ে জুঁইয়ের।মায়ের বুকটাও মোচড় দিয়ে ওঠে।তিনি জানেন এ কান্না কতটা বুকভাঙা,কারণ তাঁরও বিয়ে হয়েছিল ঠিক এভাবে জুঁইয়ের চেয়ে আরও কম বয়সে। জুঁই এর দাদা ছেলেসহ চার-পাঁচজনকে নিয়ে তাঁকে দেখতে গিয়েছিলেন।
মেয়ে পছন্দ হওয়াতে ওইদিনই বিয়েটা সেরে ফেলা হয়েছিল। প্রথমে তাঁর মনটা অনেক খারাপ থাকলেও জুঁইয়ের বাবার সংসারে এসে তিনি কিন্তু সুখীই হয়েছিলেন।জুঁইয়েরও যেন তেমনটা হয় মনে মনে দোয়া করেন তিনি।
সাজিয়ে গুছিয়ে জুঁইকে ড্রয়িংরুমে আনা হয়।এখানেই আকদ্‌ হবে। জুঁইদের ঘরটা তেমন বড় নয়।ছোট ছোট দুটো বেডরুম এবং ছোট একটা ড্রয়িংরুম। জুঁইয়ের বাবার একটা ছোট স্টেশনারি দোকান আছে।ওই দোকানের আয়ে সংসার চলে তাঁর।তাই এর চেয়ে বড় বাসা নেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি।
ড্রয়িংরুমে বসা দুজন তরুণের মধ্যে কোনজন বর তা জুঁই বুঝতে পারে না, বোঝার চেষ্টাও করে না। সে শুধু জানে মা বাবার মাথার বোঝা কমানোর জন্য তাকে বিয়ে করতে হবে।কাকে বিয়ে করবে সেটা তার না জানলেও চলবে।তার যে প্রথম দেখাতেই বিয়ে হয়ে যাচ্ছে এটাই তার মা বাবার জন্য পরম সৌভাগ্য।
ভালোভাবেই আকদ্‌ পর্ব শেষ হয়। সবাই খেয়েদেয়ে বিদায় নেয়।এরই মধ্যে জুঁইয়ের মা পোলাও, খাসির কোরমা, মুরগির রোস্ট ও ডিমভাজি রান্না করে ফেলেছিলেন। সবাই চলে যাওয়ার আগে সিদ্ধান্ত হয় বর আজ এ বাড়িতে থাকবে।সবাই চলে গেলে জুঁইকে ওর মা বরের কাছে পাঠায়।মনের সমস্ত ইচ্ছা বিরোধিতা করলেও মা বাবার সম্মানের দিকে তাকিয়ে জুঁই বরের কাছে যায়।
রুমে ঢুকে সে দেখতে পায় চেয়ারে বসে আছে এক তরুণ। জুঁইকে ঢুকতে দেখে তরুণটি চেয়ার থেকে উঠে আসে। জুঁই এই প্রথম তরুণটির দিকে তাকায়।মুখটা মায়াবীই। তরুণটি জুঁইয়ের কাছে এসে ওর হাতটি ধরে বলে,”আসো জুঁই,বসো,আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে।”
জুঁই কিছুটা অবাক হয়। এত সিরিয়াস হয়ে কী কথা বলতে চান উনি? সে মাথা নিচু করে খাটের উপর বসে।তার বরও তার পাশে এসে বসে,তারপর তার একটি হাত ধরে বলে, “তুমি আমার নাম জানো?” জুঁই দুপাশে মাথা নাড়ে,অর্থাৎ জানে না।তার বর বলে,” আমার নাম মোহসিন। আমি বি এ পাস। কিন্তু এখনো বেকার।অনেক চাকরি খুঁজছি,কিন্তু এখনো পর্যন্ত পাই নাই। বড় বোনের বাসায় থাকি। আজকে আমার সাথে যিনি আসছিলেন তিনি আমার দুলাভাই। আরেকজন আমার বন্ধু।
একনাগাড়ে কথাগুলো বলে মোহসিন থামে। জুঁই স্তব্ধ হয়ে বসে থাকে।মা বাবা তাড়াহুড়া করে তাকে একটা বেকার ছেলের সাথে বিয়ে দিলো? সে এতটাই বোঝা হয়ে গিয়েছিল মা বাবার কাছে? কিন্তু পরক্ষণেই তার ভুল ভাঙে।মোহসিন আবার কথা বলতে শুরু করেছে,
– তোমাকে দেখে দুলাভাইয়ের খুব পছন্দ হইসে।
তাই তোমার বাবাকে মিথ্যা বলসে। বলসে আমার ওষুধের দোকান আছে। আসলে দোকানটা আমার না,আমার দুলাভাইয়ের।কিন্তু এখন মনে হচ্ছে এত বড় মিথ্যা দিয়ে আমাদের নতুন জীবন শুরু করা ঠিক হবে না।তাই তোমারে সত্য কথাটা বলে দিলাম। তুমি হয়তো ভাবতে পারো আমি এখন সত্য কথা বলতেসি,তখন বললাম না কেন? আসলে সত্যি কথা বলতে কি তোমারে আমারও খুব পছন্দ হইসিল।তাই তোমারে হারাতে চাইনি। তবে তোমারে আমি কথা দিতাসি আমি কিছু একটা করেই তবে তোমারে ঘরে তুলে নেবো।”
জুঁইয়ের মাথা কাজ করে না।কিচ্ছু ভালো লাগছে না তার।আজ সন্ধ্যা থেকে একটার পর একটা ঘটনা ঘটেই যাচ্ছে।তার যেন কিছুই করার নেই,সে শুধু ক্রীড়নক।এতক্ষণ যাও সব মেনে নিয়েছিল,এখন আর কিছুই মানতে মন চাইছে না।বোনের বাড়িতে আশ্রিত একটা বেকার ছেলের সাথে তার বিয়ে হলো? তাও সে নিজ ইচ্ছায় ভালোবেসে করেনি,মা বাবাই তাকে নিজেদের অজান্তে এক অনিশ্চিত জীবনের দিকে ঠেলে দিলো?
কী করবে সে এখন? সে কি মা বাবাকে সব বলে দেবে? কিন্তু মা বাবা কি মেনে নেবে এত বড় মিথ্যাচার? তার বাবাকে সে চেনে।জীবনেও বেকার ছেলের হাতে মেয়ে দেবে না। মাকেও যতটুকু চেনে জীবনেও আয় রোজগারহীন ছেলেকে জামাই বলে মেনে নেবে না। আবার মোহসিন যে তাকে সব সত্য জানিয়ে দিলো, সে তো না জানালেও পারতো। মোহসিন না জানালে তো জুঁই সত্যটা খুব সহজে জানতেও পারতো না।তাহলে সত্য বলে কি মোহসিন ভুল করলো? সে কি তার সততার পুরস্কার পাবে না? জুঁই বুঝে উঠতে পারে না এখন তার কী কর্তব্য?
জুঁইকে চুপ দেখে মোহসিন আবার বলে,” জুঁই,তুমি কিছু বলো।তুমি যদি আমাকে অনুমতি দাও তবে আমি তোমাকে স্পর্শ করবো, আর যদি আমার বেকারত্ব মেনে নিতে না পারো তবে বলে দাও।আমি তোমাকে ছোঁবো না।কাল সকালেই আমি চলে যাবে।
জুঁই কিছু বলতে পারে না। মাথা নিচু করে বসেই থাকে।
সে কি মোহসিনের সত্য স্বীকার করে নেওয়ার পুরস্কার দেবে তাকে গ্রহণ করে নিয়ে! কিন্তু একটা বেকার ছেলের সাথে জীবনটাকে জড়িয়ে নেওয়া মানেই পদে পদে সংকট। তার কত স্বপ্ন ছিল বিয়ে নিয়ে। একটা সুখের সংসার হবে,বেড়াবে দুজন ইচ্ছেমতো, যখন যেখানে ইচ্ছে খেতে যাবে,নতুন নতুন শাড়ি,থ্রিপিস, গয়না পরবে।কিন্তু মোহসিন তো কিছুই করতে পারবে না এখন! কোনোদিন যদি চাকরি পায় তবে হয়তো পারবে। কিন্তু এই দুর্মূল্যের যুগে বিএ পাস ছেলের চাকরি পাওয়া কি এতই সহজ?
কী করবে এখন সে? সে মোহসিনের দিকে তাকায়।দুটি মায়াবী চোখ তার দিকে তাকিয়ে গভীর আকুলতায়।সে চোখে চোখ রেখে জুঁই দেখতে পায় সে চোখে আছে শুধু তাকে গ্রহণ করে নেওয়ার তীব্র আকুতি।

x