বিপ্লবের লেগ স্পিনে আশার আলো দেখছে বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক

শুক্রবার , ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ৪:৪১ পূর্বাহ্ণ
31

বিশ্ব ব্যাপি এখন লেগ স্পিনারদের দারুণ দাপট। শেন ওয়ার্ন-মুশতাকদের যুগের পর ইমরান গাহির- রশিদ খানরা বেশ দাপট দেখিয়েছে। তাদের অনুসরণ করে বাংলাদেশেও চেষ্টা চলেছে একজন লেগ স্পিনার বের করে আনার । কিন্তু সাফল্য পায়নি বাংলাদেশ। এক সময় জোবায়ের হোসেন লিখনকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সে স্বপ্ন ভেঙ্গে যেতে বেশি সময় লাগেনি। লিখন পারলেননা নিজেকে দলে স্থায়ী করতে। এরপর বাংলাদেশ হন্য হয়ে খুঁজছিল একজন লেগ স্পিনার। অবশেষে দেখা মিলল একজনের। তার নাম তরুণ আমিনুল ইসলাম বিপ্লব। মুলত তিনি একজন ব্যাটসম্যান। তবে লেগ স্পিনটা বেশ ভালই রপ্ত করেছেন বিপ্লব। আর সেটা তিনি নিজের অভিষেক ম্যাচে দেখিয়েছেন বেশ ভাল ভাবেই। আমিনুল ইসলাম বিপ্লবের বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে জায়গা পাওয়া ছিল চমক জাগানিয়া। সেই চমক আমিনুল ধরে রাখলেন পারফরম্যান্সেও। অভিষেক হলো লেগ স্পিনের আলো ছড়িয়ে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজের ফিরতি ম্যাচে ৪ ওভারে ১৮ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়েছেন বিপ্লব। অভিষিক্ত যে কোনো বোলারের জন্যই বেশ ভালো বোলিং ফিগার। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আমিনুলের এই পারফরম্যান্সের বিশেষত্ব আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে তিনি লেগ স্পিনার বলেই। কার্যকর একজন লেগ স্পিনারের জন্য দেশের ক্রিকেটে হাহাকার অনেক দিন থেকেই। আমিনুলের এত দ্রুত জাতীয় দলে আসাও সেই হাহাকার মেটানোর তাগিদ থেকেই। ১৯ বছর বয়সী ক্রিকেটার প্রথম দিনেই ছাপ রাখলেন উজ্জ্বল ভবিষ্যতের। দারুণ শুরুর পরও হারিয়ে যাওয়ার নজির বাংলাদেশ ক্রিকেটে কম নেই। তবে আমিনুল প্রথম সুযোগে অন্তত জানিয়ে রাখলেন, তাকে নিয়ে লম্বা সময়ের বিনিয়োগ করা যায়। বেশির ভাগ সময়ই একজন লেগ স্পিনারকে বোলিং ফিগার দিয়ে বিচার করা অন্যায়। আমিনুলের ক্ষেত্রেও সেটি সত্যি। তাকে নিয়ে মুগ্ধতা ও আশার মূল জায়গাও তার বোলিং ফিগার নয়। তার বোলিংয়ের ধরন। মূলত তিনি ব্যাটসম্যান। কিন্তু বাজি ধরা হয়েছে তার লেগ স্পিনে। যা একজন তরুণের নার্ভাস হয়ে ওঠার জন্য যথেষ্ট। ঘরোয়া ক্রিকেটে অনেক পোড় খাওয়া ক্রিকেটারও প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচে নার্ভাস থাকেন । কিন্তু আমিনুলের বোলিং কিংবা তার শরীরী ভাষায় স্নায়ুর চাপের লেশ মাত্র দেখা যায়নি। বল করে গেছেন একেবারে সাবলিল ভাবে এবং স্বাচ্ছন্দে। এই বয়সে একজন ক্রিকেটার জাতীয় দলের হয়ে খেলতে নামছেন। চাপ নিশ্চয়ই থাকার কথা। স্বপ্ন পুরণের আনন্দে খেই হারিয়ে ফেলার কথা। কিন্তু মাঠে বিপ্লব সে সবকে যে মাঠের বাইরে রেখে এসেছিলেন। একজন তরুণের অভিষেকে সেটিই সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব । তাছাড়া বিপ্লবের বলের উপর নিয়ন্ত্রণ ছিল দেখার মতো । অনেক সময়ই একজন লেগ স্পিনারের লাইন-লেংথ ফিরে পেতে সময় লাগে। কিন্তু আমিনুল সে সময়টা নেননি মোটেও। আর সে সাহসিকতার পুরস্কারই পেয়েছেন আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের মাত্র তৃতীয় বলে উইকেট নিয়ে। লাইন এবং লেংথের উপর নিয়ন্ত্রণ ছিল দারুণ। আর ছিল সাহস বুক ভরা। বল ঝুলিয়ে দিয়েছেন। ব্যাটসম্যানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। চ্যালেঞ্জ করেছেন। আর সে চ্যালেঞ্জে জিতেছেনও।
১৯ বছর বয়সী একজন ক্রিকেটার। যার কিনা ঘরোয়া ক্রিকেটে বোলিংয়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে সামান্যই। বোলার পরিচয়টা তার নিজের জন্যও নতুন। কিন্তু তার সাহসী বোলিং বাংলাদেশের ভবিষ্যতের আশা জাগানিয়া বার্তাই দিয়ে রেখেছে। বলতে গেলে বিপ্লবের বোলিংটা ছিল একেবারেই সাদামাটা। ছিলনা তেমন বড় টার্ন। বাড়তি বাউন্সও দিতে পারেননি। তবে তার বোলিংয়ে ছিল দারুণ বৈচিত্র। একজন লেগ স্পিনারের সব উপকরণ যে তার ভেতরে আছে সেটা প্রমাণ করেছেন। ৪ ওভার বল কররেও জিম্বাবুয়ে ব্যাটসম্যানরা পারেননি বিপ্লবের বলে কোন চার কিংবা ছক্কা মারতে। তবে বিপ্লবের সবচাইতে বড় সম্পদটা হচ্ছে তার ফিল্ডিং। ফিল্ডিং, আচরণ কিংবা মাঠে বিচরণ, সব মিলিয়ে তার উপস্থিতি ছড়িয়ে দিয়েছে আত্মবিশ্বাসের সুবাতাস। তবে গড়ে উঠতে সময় লাগবে এই বিপ্লবের। এত তাড়াতাড়ি বিপ্লবকে নিয়ে বিপ্লব ঘটানোর চিন্তা করাটা হবে বোকামি। কারণ সামনের প্রতিটি পদক্ষেপে আসবে অনেক প্রতিকূলতা। ক্রমেই কঠিন হবে পথচলা। আর সে বন্দুর পথ পাড়ি দিয়ে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে বিপ্লবের।
সকাল দেখে নাকি বলা যায় দিনটা কেমন যাবে। বিপ্লবের শুরুটা বলে দিয়েছে তিনি কি করতে পারেন। আবার সকলের ঝলমলে সুর্যটাও একসময় কালো মেঘে ঢেকে যেতে পারে। আর সে জণ্য নিজেকে অনেক উন্নতি করতে হবে বিপ্লবের। একই সাথে প্রত্যাশার চাপে যেন নুইয়ে না পড়েন এই তরুন সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। কারণ বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের নিয়ে আছে অতীতের অনেক তিক্ত উদাহরণ। হারিয়ে যাওয়া বা ফেলার স্মৃতি। বাংলাদেশে লেগ স্পিনে ভালো কিছুর উদাহরণ আমিনুলের সামনে নেই। তাই তাকে বেশ সাবধানে পা ফেলতে হবে। তাকে গড়ে উঠতে হবে নিজের মত করে। স্রোতে গা ভাসিয়ে দেওয়া যাবেনা। কঠোর পরিশ্রম করে নিজেকে সে ভাবে তৈরি করতে হবে যাতে লম্বা সময় বাংলাদেশ দলকে সার্ভিস দিতে পারেন।

x