বিপন্ন লাল ঘুঘু

ছবি: সমির মল্লিক

বৃহস্পতিবার , ৭ জুন, ২০১৮ at ৯:৫৪ অপরাহ্ণ
136

নিরীহ এবং শান্ত প্রকৃতির পাখি লালঘুঘু বা লাল রাজঘুঘু অনেক এলাকায় জঙ্গলা ঘুঘু নামেও পরিচিত। রংপুর অঞ্চলে শনি ঘুঘু ও বাগেরহাটে মটর ঘুঘু নামে এর পরিচিতি। ইংরেজি নাম Red Turtle বা Red Collared Dove। বৈজ্ঞানিক নাম Streptopelia tranquebarica। লালঘুঘুর দু’টি জানা উপপ্রজাতির মধ্যে এদেশে Columba tranquebarica humilis উপপ্রজাতিটিই দেখা যায়।

লাল ঘুঘুর স্থায়ী নিবাস বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, লাওস, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, জাপান, তাইওয়ান ও চীন। এতদঞ্চল থেকে এরা পরিযায়ী হয়ে পৌঁছে আফগানিস্তান, ওমান, ইরান, রাশিয়া ও কোরিয়ায়।

ঝোপ-জঙ্গল, খোলা মাঠ, গ্রাম বা আশেপাশে বড় বড় গাছ আছে এমন কৃষিজমিতে এদের দেখা পাওয়া যায়। তবে ঝোপ-ঝাড় কমে যাওয়ায় ও শিকারিদের দৌরাত্মে এদেশে অনেকটাই কমে গেছে প্রজাতিটি। তাই এখন বিপন্ন প্রজাতিতে পরিণত হয়েছে পাখিটি।

প্রজাতিটি লম্বায় হয় সাধারণত ২৩ সেন্টিমিটার যার মধ্যে লেজই ৯ সেন্টিমিটার। গোলাপি-মেরুন ডানার পুরুষটি দেখতে অত্যন্ত সুন্দর। লালঘুঘু ছোট আকারের পাখি। লম্বায় হয় সাধারণত ২৩ সেন্টিমিটার যার মধ্যে লেজই ৯ সেন্টিমিটার। স্ত্রীটি পুরুষটির চেয়ে কিছুটা ছোট। পুরুষটির মাথা নীলচে-ধুসর। পিঠ ও ডানার পালক গোলাপি-মেরুন। ডানার পিছনের অংশ কালচে। লেজের পালক ধূসর, তবে পালকের কিনারা কালচে। লেজের নিচটা সাদা। বুক ও পেট হালকা গোলাপি। স্ত্রীটির রঙ পুরোপুরি অালাদা; দেহের উপরের অংশ গাঢ় হলদে-বাদামি ও নিচের অংশ হালকা হলদে-ধূসর। উভয়েরই গলার পিছনে একটি কালো চিকন কলার আছে। স্ত্রী-পুরুষ নির্বিশেষে চোখের রঙ বাদামি, ঠোঁট কালো, পা বেগুনি-লাল বা বেগুনি-কালো ও নখ কালো। বাচ্চাগুলোর দেহের উপরের অংশ ও বুকের রঙে হলদে আভা থাকে। ডানার পালকের আগা লাল ও গলায় কোনো কলার নেই।

পাখিটির প্রজনন সময় নির্দিষ্ট নেই। বছরের যেকোনো সময়ে এরা প্রজননে সক্ষম। বাসা বাঁধে গাছের ডালে। উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করে লতা ও সরু কাঠি। ডিম পাড়ে দুটি। ডিম ফুটতে সময় লাগে ১২-১৫ দিন।

লাল ঘুঘু পাখির এ ছবিটি খাগড়াছড়ির মাটিরাঙা উপজেলার পূর্ব খেদাছড়া এলাকা থেকে তুলেছেন সমির মল্লিক

 

x