বিপদ মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ থাকুন

আজাদী ডেস্ক

রবিবার , ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ at ৪:১১ পূর্বাহ্ণ
452

দুর্নীতি মামলার রায় সামনে রেখে নেতাকর্মীদের অভয় দেওয়ার পাশাপাশি ‘যে কোনো বিপদ মোকাবিলায়’ সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি বলেছেন, ‘আমি শুধু বলতে চাই, আমি যেখানে থাকি না কেন, আমি আপনাদের সঙ্গে আছি।’ গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর লা মেরিডিয়ান হোটেলে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির প্রথম সভায় দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া উদ্বোধনী পর্বে সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। আদালত জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণার পর নির্বাহী কমিটির এই সভা ডাকেন বিএনপি নেত্রী। দুই কোটি ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের দায়ের করা ওই মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আগামী আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি। এ মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদার সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। সেক্ষেত্রে আগামী নির্বাচনে তার অংশগ্রহণও অনিশ্চয়তায় পড়তে পারে। নির্বাহী কমিটির চার শতাধিক সদস্য এবং চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সামনে সভার উদ্বোধনী পর্বে খালেদা জিয়া বলেন, বিপদ এলে সবাই একসাথে মোকাবিলা করব, সুদিন এলেও আমরা সবাই এক সাথে দেশের জন্য কাজ করব। আমাদের সাহস সঞ্চয় করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হবে, প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। খালেদা জিয়া যখন সম্ভাব্য ‘বিপদ’ নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছিলেন, উপস্থিত বিএনপি নেতারা তখন স্লোগান দিতে থাকেন– ‘আমার নেত্রী, আমার মা/ জেলে যেতে দেব না, বন্দি হতে দেব না’।

বিডিনিউজ বাংলানিউজসহ বিভিন্ন সংবাদ সংস্থার প্রকাশিত সংবাদ সূত্রে জানা যায়, আশির দশকে এইচ এম এরশাদের সময়ে গৃহবন্দি হতে হয়েছিল খালেদা জিয়াকে। আর ২০০৭০৮ সময়ের সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে তাকে গ্রেপ্তার করার পর সংসদ ভবন এলাকার একটি ভবনকে উপ কারাগার ঘোষণা করে তাকে সেখানে রাখা হয়েছিল। আদালতের রায়ে দোষী সাব্যস্ত হলে এরশাদের পর খালেদা জিয়া হবেন দুর্নীতির দায়ে দণ্ডিত বাংলাদেশের দ্বিতীয় সরকার প্রধান।

খালেদা বলেন, আমাকে কেউ ভয়ভীতি, লোভ দেখিয়ে কিছু করতে পারবে না। অতীতেও পারেনি, এখনো পারবে না। আমি দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আছি, আমি দেশের মানুষের সঙ্গে আছি, দেশের মানুষের সঙ্গে থাকব। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে খালেদা বলেন, ‘আজ এই নির্বাহী কমিটির সভা থেকে আমি সবাইকে বলব, সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকবেন। আপনাদের বিরুদ্ধে বহু সন্ত্রাস হবে, ষড়যন্ত্র হবে, নানাভাবে হয়রানি করার চেষ্টা করা হবে। আমরা কেউ ভয়ে ভীত হব না।’

জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সংখ্যা ৫০২ জন হলেও বৈঠক শুরুর সময় হলে উপস্থিতি সদস্য সংখ্যা ছিল চার শতাধিক। দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অনুষ্ঠানস্থলে আসার চেষ্টা করেও ‘পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতির কারণে’ ফিরে যান বলে দলের কয়েকজন নেতা জানান। তার বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ দলের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের সাড়ে ৪ মাস পর ৫০২ সদস্যের এই জাতীয় নির্বাহী কমিটি ঘোষণা করেন খালেদা জিয়া। এরপর এই প্রথম তিনি পর্যদের নেতাদের নিয়ে বসেছেন, যদিও বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ছয় মাস অন্তর এই সভা হওয়ার কথা। এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বেগম জিয়ার নেতৃত্বে শুরু হয় জাতীয় নির্বাহী কমিটির এই সভা। সভায় যোগ দিতে সকাল থেকেই আসতে থাকেন নির্বাহী কমিটির সদস্যরা। রেজিস্ট্রেশন করে একে একে তারা প্রবেশ করেন সভাস্থলে। সভা শুরুর কিছু পরে লন্ডনে অবস্থানরত দলের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট তারেক জিয়া ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দেন। সভায় নির্বাহী কমিটির সদস্যের বাইরেও জেলা ও মহানগরের সভাপতিরাও উপস্থিত ছিলেন।

ধড়পাকড়ের মধ্যেই বৈঠক

ধড়পাকড়ের মধ্যেই হয়েছে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির এই সভা। রাজধানীর খিলক্ষেতে পাঁচতারকা হোটেল ‘লো মেরিডিয়ান’ এর ১৪ তলায় ‘গ্র্যান্ড বলরুমে’ এই সভা হয়েছে। গত পাঁচ দিনে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমানউল্লাহ আমান, নাজিমউদ্দিন আলম, আজিজুল বারী হেলাল, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, আনিসুর রহমান খোকন, হাসান মামুন, এ বি এম মোশাররফ হোসেন, মতিউর রহমান মন্টুসহ কয়েকশ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিএনপির কর্মীদের বাড়ি বাড়ি তল্লাশি ও গ্রেপ্তার অভিযানও অব্যাহত রয়েছে।

আদালত সরকারের কব্জায়

নির্বাহী কমিটির সভায় সোয়া এক ঘণ্টার বক্তৃতায় খালেদা বলেন, দেশের নিম্ন আদালত যে ‘সরকারের কব্জায়’, তা ‘সর্বোচ্চ আদালতও’ বলছে। সরকারের কথার বাইরে, ভাবনা চিন্তা যাই থাকুক না কেন, তারা বুঝতে পারছে যে এটা সঠিক নয়, কিন্তু সঠিক রায় দেওয়ার মতাটা তাদের নেই। জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদার সঙ্গে তার ছেলে বিএনপির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানও আসামি। গত এক দশক ধরে তিনি পরিবার নিয়ে লন্ডনে অবস্থান করছেন। মুদ্রা পাচার মামলায় জজ আদালতে খালাস পেলেও হাই কোর্টে তারেককে সাত বছরের সাজা হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে খালেদা তার বক্তৃতায় বলেন, সঠিক রায় দিলে যে কি হতে পারে সেটা আপনারা দেখেছেন। তারেক রহমানের সঠিক রায় দেওয়া হয়েছে যে আদালতে, সেই বিচারককে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা ‘সত্যি কথা বলায়’ সরকার তাকে দেশের বাইরে যেতে এবং পদত্যাগ করতে ‘বাধ্য করেছে’ বলেও অভিযোগ করেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

সরকারকে প্রতিহিংসার রাজনীতি বন্ধের আহ্বান জানিয়ে খালেদা বলেন, ‘হিংসাবিদ্বেষ, হানাহানি বন্ধ করে দেশে একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করুন। আমরা কখনো প্রতিহিংসা করব না। সেই সঙ্গে সরকারকে এই বলে তিনি হুঁশিয়ার করেন যে, এভাবে বেশি দিন যাওয়া যায় না, পৃথিবীর বহু দেশে বহু শক্তিশালী নেতা এসেছেন, কারও মতাই চিরস্থায়ী নয়। ‘আজকে তারা কোথায়? যাদের একচ্ছত্র মতা ছিল, তাদের অনেকে কিন্তু দুনিয়ায় নেই। কাজেই এটা বুঝতে হবে মতা চিরস্থায়ী নয়।’

কর্মসূচিতে সবাইকে চান খালেদা

সারা দেশ থেকে আসা জাতীয় নির্বাহী কমিটির সঙ্গে দুপুরে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসার আগে সভার উদ্বোধনী পর্বে কর্মসূচি নিয়ে ইংগিত দিলেও তা স্পষ্ট করেননি খালেদা। তিনি বলেন, এই প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ হবে আমাদের শান্তিপূর্ণ, নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক। সেই শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে আমি জনগণকেও আহ্বান করব। আসুন দেশের জনগণ, বিএনপি ও ২০ দলসকলে মিলে এদেশটা রক্ষা করি, গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনি। জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করি। অন্যান্য রাজনৈতিক দলকেও এই ‘জাতীয় ঐক্যে’ শরিক হওয়ার আহ্বান জানান বিএনপি নেত্রী। পাশপাশি দলের সিদ্ধান্ত অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন তিনি, বলেন যারা বেঈমানি করবে, যারা এদিকওদিক, এক পা এদিক অন্য পা অন্য দিকে রাখবে, তাদের চিহ্নিত করা হবে। এদের মূল্যায়নের জায়গা থাকবে না। এদের তারাও (সরকার) নেবে না, আমরাও নেব না। আমরা আগে একবার মা করেছি, মা বার বার হয় না। খালেদা বলেন, তিনি খোঁজ রেখেছেন, যারা অতীতে আন্দোলন করেছে, দলের জন্য কাজ করেছে, দলের সাথে বেঈমানি করেনি তাদেরকে ভালো জায়গা দেওয়া হবেযদি বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিয়ে সরকার গঠন করতে পারে।

শোক প্রস্তাবে সাকা চৌধুরীর নাম

দীর্ঘ ছয় বছর পর বসা বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভায় প্রয়াত নেতাদের পাশাপাশি শিক্ষাবিদশিল্পীসাহিত্যকসহ বিশিষ্টজনদের স্মরণ করে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। যাদের জন্য বিএনপি শোক প্রকাশ করেছে, সেই তালিকায় একাত্তরের যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীও রয়েছেন। একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর মৃত্যুদণ্ড দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।আপিল বিভাগেও ওই রায় বহাল থাকলে ২০১৫ সালের নভেম্বরে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে সালাউদ্দিন কাদেরের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

তারেকের ভিডিও বার্তা

ভিডিও বক্তব্যের মাধ্যমে লন্ডন থেকে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সভায় যোগ দিয়েছেন দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

খালেদা জিয়ার বক্তব্যের আগে তারেকের ভিডিও বক্তব্য দেখানো হয়। ১৬ মিনিটের বার্তায় তিনি সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনার পাশাপাশি দুর্নীতি মামলার রায় নিয়েও কথা বলেন। লন্ডনে যাওয়ার পরের বছর ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিএনপির পঞ্চম কাউন্সিলে ভিডিও বক্তব্য নিয়ে যুক্ত হয়েছিলেন তারেক। ওই কাউন্সিলে তিনি দলের জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ কাউন্সিলেও একই পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তিনি পুননির্বাচিত হন। সেখানেও তারেকের ভিডিও বক্তব্য প্রচার করা হয়। শেখ হাসিনা হত্যাচেষ্টাসহ অনেক মামলা মাথায় নিয়ে লন্ডনে থাকা তারেক ইতিহাসের মীমাংসিত কিছু বিষয় নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য দেওয়ার পর তার বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচারপ্রকাশের উপর আদালতের নিষেধাজ্ঞা আসে।

রায়ের আগেই শাহজালালের মাজারে যাচ্ছেন খালেদা

জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণার আগেই সিলেট গিয়ে হয়রত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহ পরান (রহ.) এর মাজার জিয়ারত করবেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

গতকাল নির্বাহী বৈঠক শেষে দলের ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু ও মীর নাসির সাংবাদিকদের জানান, হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহ পরান (রহ.) এর মাজার জিয়ারত করতে আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি সকালে সড়ক পথে সিলেট যাবেন খালেদা জিয়া।

গত ৩১ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ১ ফেব্রুয়ারি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ সিলেটে হয়রত শাহজালাল (রহ.) এর মাজার জিয়ারত করে জনসভায় যোগ দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন।

নির্বাচনে যেতে ছয় শর্ত

দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করা বিএনপিনেত্রী খালেদা জিয়া একাদশ জাতীয় নির্বাচন ‘নির্দলীয় সরকারের অধীনে’ করার দাবিতে অনড় অবস্থানের কথা গতকাল দলের নির্বাহী কমিটির সভাতেও তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, আমরা বলেছি যে, জাতীয় নির্বাচন হতে হবে নির্দলীয় সরকারের অধীনে। জনগণ যাতে ভোট কেন্দ্রে আসতে পারে সে রকম পরিবেশ তৈরি করতে হবে। সকল দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। খালেদা নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য ৬টি শর্ত দেন। সেগুলো হল

. নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে হবে।

. সংসদ ভেঙে দিতে হবে।

. নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে।

. ভোটকেন্দ্রে সব ভোটারকে আসার সুযোগ করে দিতে দিতে হবে।

. ভোটের সময় মাঠে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব সেনাবাহিনীকে দিতে হবে।

. কোনও কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করা চলবে না।

এ ব্যাপারে তিনি নির্বাহী কমিটির সদস্যদের মতামত জানতে চাইলে তারা সমস্বরে ‘হ্যাঁ’ হলে সমর্থন জানান।

সভায় খালেদা জিয়া বলেছেন, সরকার প্রশাসনকে দলীয় নেতাকর্মীদের মতো ব্যবহার করছে। তারা মনে করে, প্রশাসনকে ব্যবহার করে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া যায়। কিন্তু প্রশাসন যদি একটু সুযোগ পায়, তাহলে তারা নিরপেক্ষ নির্বাচন করবে। কেননা, তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। তিনি আরও বলেন, পুলিশকে বাধ্য করা হচ্ছে অন্যায় ও দলীয় কাজ করতে।

সকল রাজনৈতিক দলকে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে খালেদা বলেন, আজ দেশের এই অবস্থায় জাতীয় ঐক্য অনেক বেশি প্রয়োজন। আমরা কে কী পেলাম, সেটা বড় কথা নয়। আমাদের পাওয়া ওটাই হবে, যদি জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে দেশটাকে রক্ষা করতে পারি, তবে সেটাই হবে সবচেয়ে বড় পাওয়া।’ তিনি আরও বলেন, ইনশা আল্লাহ দেশ জাগবে, জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠবে। সকলেই আমরা দেশ গড়ে তুলব। দেশ গড়ার জন্য অনেক লোকের প্রয়োজন হবে। সেখানে আজ যারা জুলুমঅত্যাচার করছে, তাদের সবাইকে মাফ করে দিয়েছি। আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতি করি না, তাদেরও সঙ্গে নিতে আমরা কোনো দ্বিধা করব না।

x