বিদ্রোহী আস্তানা নিয়ে মিয়ানমারের অভিযোগ ভিত্তিহীন : বাংলাদেশ

বৃহস্পতিবার , ১০ জানুয়ারি, ২০১৯ at ৪:১৮ পূর্বাহ্ণ
734

বাংলাদেশে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী দলের আস্তানা রয়েছে বলে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে ঢাকা। গণমাধ্যমে আসা মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের দপ্তরের মুখপাত্রের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বিবৃতি দিয়ে তার কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়। খবর বিডিনিউজের।
মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের মুখপাত্রকে উদ্ধৃত করে গণমাধ্যমে খবর আসে, মিয়ানমারের দুটি বিদ্রোহী দল আরাকান আর্মি (এএ) ও আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) বাংলাদেশে কয়েকটি আস্তানা গেঁড়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এ ধরনের দাবি সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার ‘জিরো টলারেন্স নীতি’ গ্রহণ করায় নিরাপত্তা বাহিনীর উচ্চ সতর্কতা ও কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থার মধ্যে বাংলাদেশে কোনো জায়গায় সন্ত্রাসী ঘাঁটি পরিচালনা করা সম্ভবপর নয়।’
মিয়ানমারের রাখাইনে জাতিগত বিদ্রোহীদের সঙ্গে পুলিশের সর্বশেষ সংঘর্ষটি হয়েছে গত শুক্রবারে দেশটির স্বাধীনতা দিবসে। কর্তৃপক্ষ এ হামলায় ১৩ পুলিশ কর্মকর্তা নিহত এবং ৯ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে। নিজেদের রাজনৈতিক সঙ্কটের সঙ্গে বাংলাদেশকে জড়িত না করতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয় বিবৃতিতে। এতে বলা হয়, প্রতিবেশী দেশের বিদ্রোহী গোষ্ঠীদের বাংলাদেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ নেই। সন্ত্রাসবাদ দমনে আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততাসহ সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। মিয়ারমারের প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র জ তাই সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশে এএ ও আরসার পাঁচটি আস্তানা থাকার দাবি করেন বলে দেশটির গণমাধ্যমে খবর আসে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, ওই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেখাতেও ব্যর্থ হয়েছে মিয়ানমার।
‘দুই দেশের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন যে কোনো কর্মকাণ্ডকে প্রতিহত করতে সজাগ রয়েছে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষীরা।’ বিভিন্ন বৈঠকে বাংলাদেশ সরকার প্রস্তাবিত সন্ত্রাসবিরোধী পরিকল্পনার কথা মিয়ানমার সরকারকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয় বিবৃতিতে। এতে বলা হয়, ‘সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় মিয়ানমারসহ যে কোনো দেশের সঙ্গে সার্বিক সহযোগিতা করতে সবসময় প্রস্তুত রয়েছে বাংলাদেশ।’ ২০১৭ সালে রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিম বিদ্রোহীদের এক হামলার পর তাদের ওপর সেনাবাহিনীর দমনপীড়ন শুরু হলে লাখো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। জাতিসংঘের ভাষায় মিয়ানমারে ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান’র মুখে শরণার্থী হয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা ৭ লাখ ছাড়িয়েছে। এই রোহিঙ্গারা রয়েছে কঙবাজারের কয়েকটি আশ্রয় শিবিরে।

x