বিদ্রোহীদের সর্বশেষ ঘাঁটিতে অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা আসাদের

মঙ্গলবার , ৬ মার্চ, ২০১৮ at ৫:২৭ পূর্বাহ্ণ
88

সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের কাছে বিদ্রোহীদের সর্বশেষ বড় ঘাঁটি পূর্ব গৌতায় অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বাশার আলআসাদ। রোববার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক সংবাদ সম্মেলনে আসাদ এ ঘোষণা দেন বলে খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের। ‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ অব্যাহত রাখবো আমরা। গৌতায় অভিযান সন্ত্রাসবাদবিরোধী যুদ্ধেরই ধারাবাহিকতা,’ বলেছেন তিনি। পূর্ব গৌতায় সরকারি বাহিনীর অগ্রযাত্রার মধ্যেই এলাকাটিতে অভিযান অব্যাহত রাখার এ ঘোষণা দিলেন প্রেসিডেন্ট আসাদ। খবর বিডিনিউজের।

সরকারি বাহিনীর সাম্প্রতিক এ অভিযানকে সিরিয়াজুড়ে চলা যুদ্ধের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণঘাতী হিসেবে অভিহিত করছেন পশ্চিমা পর্যবেক্ষ করা; স্থানীয় একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠী একে ’পৃথিবী ঝলসে দেওয়া’ অভিযান হিসেবেও বর্ণনা করেছে। সম্প্রতি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে সিরীয়জুড়ে ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতি প্রসত্মাব গৃহীত হয়। কিন্তু এই যুদ্ধবিরতির আওতায় সিরিয়ার জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে চলা অভিযানগুলো অনত্মর্ভুক্ত করা হয়নি। পূর্ব গৌতার নিয়ন্ত্রণে থাকা অন্যতম বিদ্রোহী গোষ্ঠী সৌদিপন্থি জয়স আল ইসলাম ও আল কায়দার সিরিয়া শাখা হিসেবে পরিচিত তাহরির আল শামকে জঙ্গিগোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করে সিরিয়া ও রাশিয়া। এ কারণে যুদ্ধবিরতি সত্বেও পশ্চিমা দেশগুলোর চাপ উপেক্ষা করে আসাদবাহিনী পূর্ব গৌতা পুনরুদ্ধারে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে।

সরকারি বাহিনীর অগ্রযাত্রার কারণে ওই এলাকার কয়েক হাজার বাসিন্দা এরই মধ্যে ঘরবাড়ি ছেড়ে বিদ্রোহী অধ্যুষিত এলাকার আরো ভেতর পালিয়ে গেছে বলে রোববার যুক্তরাজ্যভিত্তিক পর্যবেক্ষক সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে। আসাদ সমর্থক সামরিক জোটের এক কমান্ডার জানিয়েছেন, সিরীয়বাহিনী আর মাত্র কয়েক কিলোমিটার অগ্রসর হলেই বিদ্রোহীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী এ ঘাঁটিটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যাবে। সরকার সমর্থকরা এরই মধ্যে এলাকাটির এক চতুর্থাংশ দখলে নিয়েছে বলে জানিয়েছে অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস। সাংবাদিকদের কাছে করা মনত্মব্যে আসাদ তার বাহিনীর অভিযানের সঙ্গে রাশিয়ার ঘোষণা করা ’মানবিক যুদ্ধবিরতির’ কোনো বিরোধ নেই বলে দাবি করেছেন। বিরতির মধ্যেও গত কয়েকদিন সিরীয় বাহিনীর অগ্রযাত্রা অব্যাহত ছিল বলেও জানিয়েছেন তিনি। ত্রাণ সরবরাহ, বেসামরিক নাগরিক ও আহতদের পূর্ব গৌতা থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ করে দিতে রাশিয়া পাঁচ ঘণ্টার ওই মানবিক যুদ্ধবিরতির প্রসত্মাব দিয়েছিল, যাকে ’কৌতুক’ অ্যাখ্যায়িত করেছিল মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। পূর্ব গৌতায় অভিযান শুরুর পর এ বিষয়ে প্রথম কথা বললেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট; গৌতার বেশিরভাগ মানুষই সরকারি শাসনে ফিরতে চায় বলেও মনত্মব্য তার। ‘এ কারণেই আমরা সেখানে অভিযান অব্যাহত রেখেছি; একই সঙ্গে বেসামরিকদের বেরিয়ে আসার সুযোগও রাখা হয়েছে,’ বলেন তিনি। পূর্ব গৌতার পরিস্থিতি নিয়ে পশ্চিমারা ‘তুমুল মিথ্যাচার’ করছে বলেও দাবি সিরীয় প্রেসিডেন্টের। রাশিয়া ও সিরিয়া শুরু থেকেই যুদ্ধবিরতির সময় বিদ্রোহীরা বেসামরিকদের বের হতে দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছে; বিদ্রোহীরা এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, সরকারকে ভয় পাওয়ার কারণেই সাধারণ মানুষ পূর্ব গৌতা ছাড়ছে না। দুই পক্ষের এমন অবস্থানের কারণে ওই এলাকার সাধারণ মানুষ ’যৌথ শাসিত্মর’ সম্মুখীন হচ্ছেন, যা জেনেভা কনভেনশনের বিরোধী বলে মনত্মব্য করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক এক কর্মকর্তা। আট বছর ধরে চলা যুদ্ধে রাজধানীর পাশে বিদ্রোহ অধ্যুষিত এ এলাকার নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়াটা সরকারিবাহিনীর জন্য বিরাট বিজয় হিসেবে চিহ্নিত হবে; ইরান ও রাশিয়ার সমর্থন নিয়ে এরই মধ্যে আসাদবাহিনী বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকা সিরিয়ার বেশিরভাগ এলাকা পুনরুদ্ধারে স ম হয়েছে।

x