বিদ্যালয় ভবন নিরাপদ করতে হাইকোর্টের নির্দেশ দ্রুত কার্যকর করুন

সোমবার , ৩ জুন, ২০১৯ at ১০:২৯ পূর্বাহ্ণ
43

জরিপ চালিয়ে দেশের সরকারি-বেসরকারি স্কুল-মাদ্রাসার ঝুঁকিপূর্ণ বা ত্রুটিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করে সেগুলো নিরাপদ করার ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একটি রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের দুই বিচারপতি দিয়ে গঠিত বেঞ্চ গত ৮ মে এই আদেশ দেন। সম্প্রতি বরগুনার তালতলার ছোটবগি পিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাদের বিম ধসে পড়ে এক শিশু নিহত হওয়ার পর এ রিট আবেদন করা হয়। গত এপ্রিলের শুরুতে ওই ঘটনার পর এরই মধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সারা দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর অতি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। এরই মধ্যেই সব স্কুল-মাদ্রাসার ভবন চিহ্নিত করার আদেশ আসে হাইকোর্ট থেকে। পত্রিকান্তরে সম্প্রতি এ খবর প্রকাশিত হয়।
মান সম্মত প্রাথমিক শিক্ষার বড় বাধা অবকাঠামো সংকট। তা ছাড়া শিশুদের বিদ্যালয়ে ধরে রাখতে পাঠদানের পরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ। আকর্ষণীয় ও স্বস্তিকর পরিবেশ না থাকলে শিশুরা স্কুলে যেতে চায় না। অথচ সারাদেশে প্রায় আট হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এর মধ্যে দুই হাজারের মতো ভবন রয়েছে যেগুলো অতিশয় জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অনেকটা ব্যবহারের অনুপযোগী। অথচ ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবহার অনুপযোগী এসব ভবনে পাঠদান চলছে। ১০ বছর আগে পরিত্যক্ত বলে ঘোষিত বিদ্যালয়েও পাঠদান চলছে। প্রাথমিক শিক্ষার অবকাঠামো উন্নয়নের হতাশাজনক চিত্র লক্ষ করা যায় ব্যানবেইসের তথ্যে। সংস্থাটির মতে, প্রাথমিক শিক্ষায় ব্যয়িত অর্থের ৪ শতাংশেরও কম ব্যয় হয় অবকাঠামো উন্নয়নে। এমন বাস্তবতায় ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় ভবন নিরাপদ করতে হাইকোর্টের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া সময়োচিত সিদ্ধান্ত। আমাদের প্রত্যাশা, বিদ্যালয় ভবন নিরাপদ করতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করতে আর দেরি করবে না। ইতিমধ্যেই অনেক সময় পেরিয়ে গেছে। আর কালক্ষেপণ নয়। অতি দ্রুত ভবনগুলো চিহ্নিত করে সংস্কার কাজ শুরুর কোন বিকল্প নেই।
সংস্কার কাজ শুরু করার সঙ্গে সঙ্গেই লক্ষ রাখতে হবে, নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী কোন মতেই যেন ব্যবহৃত না হয়। আমাদের দেশে সরকারি ভবন নির্মাণে তো দুর্নীতির অভাব নেই, তাই এদিকেও লক্ষ রাখা দরকার। সম্প্রতি ছাদের বিম ধসে শিক্ষার্থী নিহত হওয়া স্কুল ভবনটি এলজিইডির নির্মিত। এটি নির্মাণের বছর খানেকের মধ্যেই ফাটল দেখা দেয়। দেশে শুধু এলজিইডির নির্মিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১০ হাজার। অথচ তাদের নির্মিত অনেক ভবনই আজ ঝুঁকিপূর্ণ। ভবন নির্মাণে এমন দায়সারা কাজের জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করে তাদের শাস্তির আওতায় আনা দরকার। এক্ষেত্রে আমাদের প্রশ্ন হলো, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নির্মাণের অল্পসময়ের ব্যবধানে কেন ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়বে। কেন তাতে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার হবে? তবে কি স্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটিসহ শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নজরদারি করেননি? তাদেরই তো দায়িত্ব ছিল নজরদারির? ভবন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় উপনীত হওয়ার অন্যতম হলো কারণ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বা ঠিকাদারের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা। তাই স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এমন অনিয়মের দায় এড়াতে পারেন না। তাই নতুন ভবন নির্মাণ ও সংস্কার কাজে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তদারকি জোরদার করা প্রয়োজন। প্রাথমিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পাকিস্তান ও ভারতকে পেছনে ফেলে এগিয়েছে। এর ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে অনুকূল পরিবেশে পাঠদানের জন্য অবকাঠামো সুযোগ সুবিধা বাড়ানোর বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষা কার্যক্রমকে বাধামুক্ত রাখা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এক্ষেত্রে কোন ধরনের শৈথিল্য বা উদাসীনতার সুযোগ নেই। এদিকে জীর্ণ ভবনের সংস্কার কাজ শুরু হলে শিক্ষার্থীরা কোথায় কিভাবে ক্লাস করবে, সে বিষয়টিই চিন্তা করা দরকার। ভবন নির্মাণ বা সংস্কার কাজের সময় কোনভাবেই যেন শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান বিঘ্নিত না হয়, তাও আগে ভাগে ব্যবস্থা করে রাখতে হবে। সংস্কার কিংবা নতুন ভবন নির্মাণ সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। তবে সরকারের সর্বোচ্চ মহল চাইলে কাজ ত্বরান্বিত করা যাবে আমাদের ধারণা। হাজার হাজার শিক্ষার্থীর জীবনের নিরাপত্তার বিষয় যেখানে জড়িত সেখানে কোন হেলা-ফেলা বা কোন অজুহাত কিংবা দীর্ঘ সূত্রতার সুযোগ নেই।

x