বিদেশে কর্মসংস্থান: প্রতারণা বন্ধে নজরদারি বাড়াতে হবে

শুক্রবার , ৩০ আগস্ট, ২০১৯ at ৭:৩৩ পূর্বাহ্ণ
55

বিদেশে যাওয়ার সময় সাধারণ মানুষ যেন প্রতারিত না হন, সে জন্য নজরদারি জোরদারের পাশাপাশি ব্যাপক প্রচারণা চালানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান নীতি ২০১৬-এর আলোকে গঠিত অভিবাসন বিষয়ক জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির প্রথম সভায় গত ২৫ আগস্ট তিনি বক্তব্য রাখছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, প্রতারণা বন্ধে আমাদের নজরদারি বাড়াতে হবে। ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে। কেননা প্রবাসীরা আমাদের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করে তুলতে রেমিট্যান্স পাঠানোর মাধ্যমে ব্যাপক ভূমিকা রাখছেন।
আসলে বাংলাদেশের যে সব নাগরিক বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রবাসী নাগরিক হিসেবে রয়েছেন, তাঁদের সম্ভাবনাকে অবশ্যই পুরোপুরি কাজে লাগাতে হবে। প্রবাসী বাংলাদেশীরা বাস্তবিক পক্ষেই দেশের বিভিন্ন স্বার্থের প্রবক্তা হিসেবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খুবই কার্যকর ও ফলপ্রসূ ভূমিকা পালন করতে পারেন। বাংলাদেশীরা বিদেশে তাঁদের অর্জিত অর্থ স্বদেশে প্রেরণ করে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াতে সক্ষম। এছাড়া তাঁদের সঞ্চিত বিদেশি মুদ্রা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে পারেন। এটি বাংলাদেশের বিনিয়োগের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ উৎস হতে পারে।
অভিবাসন বিষয়ক, গবেষণা সংস্থা রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বিদেশে অভিবাসনপ্রত্যাশী বাংলাদেশিদের মধ্যে প্রায় ৫১ শতাংশই প্রতারণা ও হয়রানির শিকার হন। এর মধ্যে ১৯ শতাংশ মানুষ টাকা দেওয়ার পরও বিদেশে যেতে পারেন না এবং ৩২ শতাংশ বিদেশে গিয়ে নানা দুর্ভোগ পোহান। এমতাবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর আহবান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতারণা বন্ধে সংশ্লিষ্টদের তৎপর থাকার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। পত্রিকান্তরে প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, ‘১৭ কোটি মানুষের দেশে প্রায় এক কোটি লোক বিদেশে আয় রোজগার করছেন এবং তাঁরা প্রতিবছর বড় অংকের বৈদেশিক মুদ্রা পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখছেন। তাঁদের পাঠানো অর্থ শুধু সংশ্লিষ্ট পরিবারের কল্যাণেই ব্যয় হচ্ছে না, জাতীয় উন্নয়নেও বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখছে। প্রধানমন্ত্রী উক্ত অনুষ্ঠানে তাঁর অনুধাবনের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, দেশে এক শ্রেণির দালাল ও প্রতারক চক্র রয়েছে। যারা বিপুল অর্থের বিনিময়ে বিদেশে লোক পাঠায়। আর বিদেশ গমণেচ্ছুরা দিন বদলের আশায় তাঁদের সর্বস্ব বিক্রি করে, ঋণ করে তাদের টাকার যোগান দেন।
প্রতারিত হওয়ার বিষয়টি যে ভয়াবহ, তা উঠে এসেছে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে। প্রতারণার সঙ্গে কারা জড়িত, কারা মানুষকে ধোকা দিয়ে সর্বস্ব ছিনিয়ে নিচ্ছে, তাদের চিহ্নিত করা দরকার। প্রতারণা বন্ধে সাধারণ যে আইন আছে, তা প্রয়োগ করতে হবে। প্রশাসনকে জাগ্রত থাকতে হবে দালালদের বিষয়ে। সতর্ক ও সাবধান করে দিতে হবে বিদেশ গমণেচ্ছুদের।
এখানে আরেকটি বিষয় উল্লেখ করা দরকার। সেটি হলো, দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে জ্ঞান, দক্ষতা ও বিনিয়োগ দিয়ে সাহায্য করতে পারেন, এমন বাংলাদেশীদের মধ্যে বোধহয় বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশীরাই সর্বোত্তম। তাঁরা দৃষ্টিভঙ্গিতে যেমন আধুনিক, তেমনি অভিজ্ঞতায় অভিজ্ঞ। তাঁরা চলমান পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে জানেন। তাঁদের প্রযুক্তি সামর্থ্য আছে, তাঁরা সুশিক্ষিত ও বহুমুখী অভিজ্ঞতার অধিকারী, যা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একান্ত প্রয়োজন। পেশাদার প্রবাসীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন অধ্যাপক, গবেষক, বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, সফটওয়ার বিশেষজ্ঞ, ইঞ্জিনিয়ার, কারিগরী ক্ষেত্রে কর্মরত শ্রমিক ও উদ্যোক্তা। এইসব পেশাদার গোষ্ঠী প্রবাসী বাংলাদেশীর কাছ থেকে সর্বাধিক সহযোগিতা পাওয়ার জন্য একটা নীতিমালা গড়ে তোলা অত্যাবশ্যক।
প্রধানমন্ত্রী আরো কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। বলেছেন, সারা দেশে তার সরকার ৫ হাজার ২৭৫ টি ডিজিটাল সেন্টার স্থাপনের পরও জনগণ প্রতারকের ফাঁদে পড়ছে। তিনি বলেন, বিদেশ গমণেচ্ছুরা চাইলে সারা দেশে থাকা এসব ডিজিটাল থেকে বিদেশ যাওয়ার জন্য নাম রেজিস্ট্রেশন করতে পারেন।
প্রতারক চক্রকে চিহ্নিত করা এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা জরুরি। পাশাপাশি জনসাধারণের মধ্যেও সচেতনতা তৈরি করতে হবে। দালাল ও প্রতারক চক্রের দৌরাত্ম্য কমাতে গেলে সংশ্লিষ্টদের আরো আন্তরিক হতে হবে।

x