বিদেশের মাটিতে বেশি ভাল খেলেন তামিম

স্পোর্টস ডেস্ক

বৃহস্পতিবার , ১৬ মে, ২০১৯ at ৪:০৮ পূর্বাহ্ণ
33

এক সময় ভারতীয় ক্রিকেট দলকে বলা হতো ঘরের বাঘ। কারণ ঘরের মাঠে কাউকে দাড়াতে না দেওয়া ভারত বিদেশের মাটিতে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলতো। তবে বাংলাদেশের ব্যাপারে তেমন কোন মন্তব্য নেই। শুধু দল নয় বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের নিয়েও তেমনটি বলতে পারেনি কেউই। এরই মধ্যে দেশে এবং দেশের বাইরে নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ রেখে চলেছেন টাইগারদের প্রধান ভরসা তামিম ইকবাল। অভিষেকের পর লাল সবুজ জার্সি গায়ে ১৯১টি ওডিআই ম্যাচ খেলেছেন টাইগার ক্রিকেটার তামিম ইকবাল। বাংলাদেশের হয়ে ৯৫ ম্যাচ খেলেছেন দেশের মাটিতে আর বাকি ৯৬টি ম্যাচ খেলেছেন বিদেশের মাটিতে।
পরিসংখ্যান কাছাকাছি হলেও বিদেশের মাটিতেই বেশি ভাল খেলেন তামিম ইকবাল। এমনটাই দেখা যায় তার ক্যারিয়ারের দিকে লক্ষ্য করলে। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে তামিমের মোট সেঞ্চুরি ১১টি। যার মধ্যে ৬টি এসেছে বিদেশের মাটিতে। আর বাকি ৫টি এসেছে ঘরের মাঠে। ক্যারিয়ারে মোট ৪৫টি অর্ধশতক হাঁকিয়েছেন বাংলাদেশের এই ওপেনার। আর এর মধ্যে দেশের মাটিতে ২৩টি এবং বিদেশের মাটিতে আছে ২২টি। তবে দেশের মাটিতে ১১ ম্যাচে শূন্য রানে প্যাভিলিয়নে ফিরেছেন তামিম। যেখানে বিদেশের মাটিতে তা মাত্র ৬বার। এদেই বুঝা যায় বিদেশের মাটিতে কতটা কার্যকর তামিম। সেটা হোক শীত প্রধান দেশ ইংল্যান্ড-নিউজ্যিলান্ড বা গরমের দেশ আরব আমিরাত বা শ্রীলংকা, ভারত। সবখানেই তার সমান পদচারণা।
বাংলাদেশের ক্রিকেটের ইতিহাসের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী তামিম ইকবাল। ৬৫৬১ রান নিয়ে তালিকায় সবার উপরে অবস্থান তার। আর এই ক্ষেত্রেই দেশের থেকে বিদেশের মাটিতেই এগিয়ে তার পরিসংখ্যান। দেশের মাটিতে ৩৬.৬৩ গড়ে তামিমের মোট সংগ্রহ ৩২৬০ রান। সেখানে বিদেশের মাটিতে ৩৩০১ রান সংগ্রহকারী তামিমের গড় ৩৫.৮৮। তামিমের সর্বোচ্চ তিনটি স্কোর যথাক্রমে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৫৪, পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৩২ এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১৩০। আর এর মধ্যে দুটি ইনিংসই বিদেশের মাটিতে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে কুইন্স স্পোর্টস ক্লাবে ২০০৯ সালে ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ ১৫৪ রান করেছিলেন তামিম । আর ওয়েস্ট ইন্ডিজদের বিপক্ষে প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে ২০১৮ সালে করেন নিজের তৃতীয় ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১৩০ রানের ইনিংসটি।
ইংল্যান্ড বিশ্বকাপেও তামিমের ব্যাট চলবে এভাবেই এমনটা প্রত্যাশা টাইগার সমর্থকদের। বিদেশের মাটিতে তামিমে ব্যাটিং বাংলাদেশের জন্যই মঙ্গলকর। আর তার এই পারফরম্যান্স ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভাল পারফম্যান্সের সিঁড়ি হতে পারে। এরই মধ্যে আয়ারল্যান্ডের ত্রিদেশীয় সিরিজে দারুণ হাসছে তামিমের ব্যাট। প্রথম ম্যাচে ৮০ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলা তামিম অবশ্য দ্বিতীয় ম্যাচে খুব বেশি ভাল করতে পারেনি। তবে দলকে পথ দেখিয়েছেন। গতকাল স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষেও হেসেছে তামিমের ব্যাট। এখন অপেক্ষা টুর্নামেন্টের ফাইনালের। প্রথমবারের মত কোন ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা জিততে হলে সে ম্যাচেও তামিমের ব্যাটের দিকে তাকিয়ে থাকবে বাংলাদেশ। কারন তামিম উইকেটে থাকা মানে বাংলাদেশের রানের স্রোত বহমান থাকা। আয়ারল্যান্ডের এই ত্রিদেশীয় সিরিজ শেষে ইংল্যান্ডের উদ্দেশে পাড়ি জমাবে বাংলাদেশ দল। সেখানে বেশ কিছুদিন অনুশীলন করবে টাইগাররা। যেখানে খেলবে দুটি অফিসিয়াল সহ বেশ কয়েকটি প্রস্তুতি ম্যাচ। এরপর বিশ্বকাপের চুড়ান্ত পর্বে খেলতে নামবে টাইগাররা। আর এবারের বিশ্বকাপেও বাংলাদেশের অন্যতম ভরসার নাম তামিম ইকবাল। এই ওপেনার নিজেও মুখিয়ে আছেন বিশ্বকাপে তার সেরাটা দিতে। আর তামিমের ব্যাট হাসা মানে বাংলাদেশের স্কোর পাহাড়ে চড়া। বিদেশের মাটিতে বরাবরই সফল তামিমের দিকে তাই তাকিয়ে থাকবে বাংলাদেশ সেটা নিশ্চিত করেই বলা যায়। এখন দেখার বিষয় কতটা নিজেকে মেলে ধরতে পারেন তামিম ক্রিকেটের এই বিশ্বযুদ্ধে।

x