বিদেশী পর্যটক ও আমাদের পর্যটন শিল্প

রবিবার , ৬ জানুয়ারি, ২০১৯ at ৩:১৮ পূর্বাহ্ণ
25

দুর্বল অবকাঠামো ও বৈচিত্র্য হীনতার কারণে সম্ভাবনাময় পর্যটন শিল্প বিদেশী পর্যটক আকর্ষণ দূরের কথা দেশী পর্যটকদের মনোরঞ্জনও করতে পারে না। বাংলাদেশ পর্যটন শিল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাতে পরিণত হওয়ায় সম্ভাবনার কথা পর্যবেক্ষকরা বহুবার বলেছেন। পর্যটকরা এদেশে আসতে চায়, এদেশের মানুষ ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে চায়। শুধু যথাযথ নজর দেয়া এবং সম্ভাবনাকে বাস্তবে পরিণত করার কার্যকর উদ্যোগের অভাবে বিপুল সম্ভাবনার এ খাতটি পেছনে পড়ে আছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিরোধের অবসান ঘটানোর ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রেখেছে। পর্যটন মানুষের মধ্যে বন্ধুত্ব ও ভ্রাতৃত্ব সৃষ্টি করতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বছরে গড়ে ৭০ হাজারেরও অধিক পর্যটক বাংলাদেশে আসেন। প্রতি বছর দেশে পর্যটন থেকে আয় হয় বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা। বিশ্বের এমন কিছু দেশ রয়েছে যারা পর্যটন শিল্পের আয়ের উপর নির্ভরশীল। সে সব দেশের প্রধান আয়ের উৎস হচ্ছে পর্যটন। সে সব দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলো প্রতিনিয়তই ঢেলে সাজানো হচ্ছে যাতে আরো বেশী সংখ্যক পর্যটকদের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়। কেন না যত বেশি পর্যটকদের দৃষ্টি আকৃষ্ট হবে তত বেশি আয় হবে। অথচ বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে পর্যটন ব্যবস্থার কাছাকাছি ও আমাদের দেশের পর্যটন ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। যদিও বাংলাদেশে অসংখ্য পর্যটন এখানে রয়েছে। যার সৌন্দর্য বিশ্বের যে কোন দেশের তুলনায় অনেক বেশি। শুধু ঢেলে সাজানোর অভাব বা উন্নয়ন না হবার কারণেই বেশী সংখ্যক পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যাচ্ছে না। সরকার পর্যটন শিল্পের ব্যাপক উন্নয়ন ও বিকাশের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণের লক্ষ্যে একটি মহা-পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন। ২০১৬ সালকে পর্যটন বর্ষ হিসেবে উদযাপন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। উন্নয়ন ও বিকাশের লক্ষ্যে ২০১৫-২০১৮ তিন অর্থ বছরে আনুমানিক ২০০ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এর মাধ্যমে পর্যটন শিল্পের বিদ্যমান ও সম্ভাব্য স্থানগুলোর পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নকামী দেশে সেখানে যে সম্ভাবনা রয়েছে, তা-ই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজে লাগানো দরকার। পর্যটনের মতো বিপুল সম্ভাবনার খাত উপেক্ষিত রয়ে যাওয়া দুঃখজনক। তাই পর্যটন ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নে সরকার এবং সংশ্লিষ্ট মহল প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসবেন।
এম. এ গফুর, বলুয়ার দীঘির দক্ষিণ-পশ্চিম পাড়, কোরবানীগঞ্জ, চট্টগ্রাম।

x