বিদেশি উদ্ধারকর্মীদের ইন্দোনেশিয়া ছাড়ার নির্দেশ

বৃহস্পতিবার , ১১ অক্টোবর, ২০১৮ at ১০:৪৯ পূর্বাহ্ণ
38

ভূমিকম্প ও সুনামিতে বিধ্বস্ত ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপে উদ্ধারকাজে নিয়োজিত বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার উদ্ধারকর্মীদের কাজ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে জাকার্তা। দ্রুত ইন্দোনেশিয়া ছাড়ার নির্দেশও দেয়া হয়েছে তাঁদের। তবে উদ্ধারকাজ চালাতে গিয়ে বেশ বেগ পোহাতে হচ্ছে ইন্দোনেশিয়া সরকারকে। ২৮ তারিখ ভূমিকম্প ও সুনামিতে বিধ্বস্ত হওয়া অনেক এলাকায় এখনো উদ্ধারকর্মী পৌঁছাতে পারেনি। ফলে এই নির্দেশ অনেকের কাছেই বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো মনে হচ্ছে। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় তাদের ওয়েবসাইটে জানিয়েছে, যেসব বিদেশি এনজিও বিদেশি নাগরিকদের নিয়োগ করেছে, তাদের দ্রুত ফেরত নিতে হবে। যে-কোনো দুর্যোগেই সচরাচর বাইরের সাহায্য নিতে চায় না ইন্দোনেশিয়া। এ বছরের শুরুর দিকে লম্বক দ্বীপে ভূমিকম্পে বিপুল হতাহতের ঘটনা ঘটলেও বিদেশি কোনো সংস্থাকে সাহায্যের অনুমতি দেয়নি দেশটির সরকার। খবর ডয়েচে ভেলের।
এবার অবশ্য দুর্যোগের ভয়াবহতা টের পেয়ে সাথে সাথেই বিদেশের সাহায্য নেয়ার পথ খুলে দিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার সরকার। কিন্তু উদ্ধার ও ত্রাণকাজে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আনতে যে অনুমতি প্রয়োজন, তা না পাওয়ার অভিযোগ করছেন বিদেশি উদ্ধারকর্মীরা। কিভাবে কাজ করতে হবে, কিভাবে ইন্দোনেশীয় কর্মীদের সাথে সমন্বয় করতে হবে, সে বিষয়ে পরস্পরবিরোধী নির্দেশনা পাওয়ার কথাও বলছেন তাঁরা। অস্ট্রেলিয়ার এবিসি টেলিভিশন জানিয়েছে অতিরিক্ত শ্রমের ফলে ইন্দোনেশীয় উদ্ধারকর্মীরা এরই মধ্যে মানসিক ও শারীরিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। ফলে বিদেশি কর্মীদের দেশ ছাড়ার এমন নির্দেশ তাঁদের আরো বিপর্যস্ত করে তুলবে। ভূমিকম্প ও সুনামির আঘাতে এখন পর্যন্ত দুই হাজারের মতো মানুষের মৃত্যুর কথা জানানো হয়েছে। আরো পাঁচ হাজার মানুষের এখনও সন্ধান মেলেনি। আশংকা করা হচ্ছে, তাঁদের অধিকাংশই পালুর আশেপাশে যে ভয়াবহ ভূমিধস হয়েছে, তাতে চাপা পড়ে থাকতে পারেন। আশংকা সত্যি হলে এই নিখোঁজ হওয়াদের আর কখনোই উদ্ধার সম্ভব না-ও হতে পারে।

x