বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রে শীঘ্রই ১২ ঘণ্টা সম্প্রচার

টাওয়ার নির্মাণ এ বছরের শেষ দিকে, দেখা যাবে সারা দেশে ।। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে উদ্বেগ দূর ও ভুঁইফোড় অনলাইন নিয়ন্ত্রণ হবে চট্টগ্রামে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ

আজাদী প্রতিবেদন

বুধবার , ১৬ জানুয়ারি, ২০১৯ at ৫:০৩ পূর্বাহ্ণ
554

বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রে শীঘ্রই ১২ ঘণ্টা অনুষ্ঠান সমপ্রচারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, এ বছরের শেষ দিকে টাওয়ার নির্মাণ সম্পন্ন হলে চট্টগ্রামের মতো সারা দেশে বিটিভির চট্টগ্রাম কেন্দ্র টেরিস্ট্রিয়াল হিসেবে দেখা যাবে। চট্টগ্রাম টেলিভিশন কেন্দ্র এখন ৬ ঘণ্টা সমপ্রচার করছে। এটিকে ১২ ঘণ্টায় উন্নীত করার জন্য আমি বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা বলেছি। কয়েক মাস সময় লাগবে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১২টায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন। বর্তমান সরকারের নতুন মন্ত্রিসভায় তথ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর গতকাল প্রথম চট্টগ্রামে আসেন মন্ত্রী। চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে সরাসরি সার্কিট হাউজে আসেন। এসময় তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পরে চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের সাথে সার্কিট হাউজে মতবিনিময় করেন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে সাংবাদিক সমাজের উদ্বেগ দূর করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, একইসঙ্গে ভুঁইফোড় অনলাইন মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত নীতিমালা করা হবে। একই সাথে অনলাইন টেলিভিশনগুলোকে নিয়মের মধ্যে আনার প্রক্রিয়া চালু হয়ে গেছে।
ভুঁইফোড় অনলাইন ও অনলাইন টেলিভিশনের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, নীতিমালার আওতায় নিবন্ধন পদ্ধতি চালু হলে কমে আসবে ভুঁইফোড় অনলাইন সংবাদমাধ্যম। তিনি বলেন, শুধু বাংলাদেশ নয়, সমগ্র পৃথিবীতে অনলাইন মিডিয়ার ব্যাপক বিস্তৃতি ঘটেছে। এটি বন্ধ করা ঠিক নয়। কিন্তু যাতে সঠিকভাবে নিয়মনীতির মধ্যে চলে সেই কাজটি করা হচ্ছে আমাদের লক্ষ্য। তবে, অনেকে ‘ঘরে বসে’ অনলাইন নিউজ পোর্টাল চালু করছেন। রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা হচ্ছে। নীতিমালার ভিত্তিতে যখন রেজিস্ট্রেশনের ব্যবস্থা হবে, তখন ভুঁইফোড় অনলাইন বন্ধ হয়ে যাবে, কমে যাবে।
অনুমোদনহীন অনলাইন টেলিভিশন নিয়ে তিনি বলেন, দেশে প্রচুর অনলাইন টেলিভিশন হয়ে গেছে। যে কেউ অনুমোদন ছাড়া একটা অনলাইন টেলিভিশন খুলে ফেলবে, সেটি হতে পারে না। অনলাইন টেলিভিশনের ক্যামেরা যখন সামনে ধরে, তখন কেউ বুঝতে পারে না সেটা আসল নাকি অনলাইন। অনলাইন টেলিভিশনকেও নিয়মের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।
তথ্যমন্ত্রী জানান, এই নীতিমালা প্রণয়নে গণমাধ্যমের মতামত নেওয়া হবে। একটু সময় লাগবে, সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের পরামর্শ লাগবে। তাদের সাথে আলোচনা করে আমরা ঠিক করব। তিনি বলেন, বাংলাদেশে সামপ্রতিক বছরগুলোতে ব্যাপক হারে ইন্টারনেট গ্রাহক বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনলাইন সংবাদমাধ্যমগুলোর জনপ্রিয়তাও বেড়েছে। আর এই সুযোগে তৈরি হয়েছে অনেক ভুঁইফোড় অনলাইন।
তিনি বলেন, যত দ্রুত সম্ভব নবম ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করব। ২৮ জানুয়ারি সময়সীমা আছে, চেষ্টা করব সময়সীমার মধ্যে করা যায় কি না। কিন্তু সেটি করতে গেলে অনেকগুলো ধাপ অতিক্রম করতে হয়। যত দ্রুত সম্ভব সেটি আমরা করব। টেলিভিশনে ওয়েজবোর্ড নাই। টেলিভিশন সাংবাদিকরাও যাতে ওয়েজবোর্ডের আওতায় আসেন, সেটা নিয়ে আমরা কাজ করব। আবার ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়ে কেউ যদি সেটা না করে, সেটা আমরা তদারক করব।
আওয়ামী লীগ পরপর তিনবার রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসেছে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, ভারতীয় উপমহাদেশ তো নয়-ই, পুরো এশিয়া মহাদেশে যেখানে গণতান্ত্রিকভাবে সরকার নির্বাচিত হয়, সেখানে মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর ছাড়া অন্য কোথাও একই দল পরপর তিনবার রাষ্ট্র ক্ষমতায় যায়নি। এভাবে পরপর তিনবার রাষ্ট্র ক্ষমতায় আওয়ামী লীগকে নিয়ে যাওয়ার কৃতিত্ব হচ্ছে আওয়ামী লীগ সভাপতি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার। শেখ হাসিনা কর্মঠ প্রধানমন্ত্রী। তার নেতৃত্বে গত ১০ বছরে বাংলাদেশ বদলে গেছে।
তিনি বলেন, ২০০৮ সালে আমরা দুটি স্বপ্নের কথা বলেছিলাম। একটি হচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশ, আরেকটি হচ্ছে দিনবদল। যখন ডিজিটাল বাংলাদেশের স্লোগান দিই, তখন অনেকেই এটিকে নিছক নির্বাচনী স্লোগান বলে হাস্যরস করেছিল। ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন স্বপ্ন নয়, ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবতা।
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ১৭ কোটি মানুষের দেশে ১৫ কোটি সিম ইউজার, ১৪ কোটি মোবাইল ফোন ইউজার। এখন রিকশাওয়ালা ভাইয়ের হাতে মোবাইল ফোন, একজন ভিক্ষুকের হাতে মোবাইল ফোন। মোবাইল ফোনে এখন শুধু কথা বলা যায় তা নয়, ছবি দেখা যায়, ভিডিও কল করা যায়। পরীক্ষার রেজাল্ট পাওয়া যায়, টেলিমেডিসিনে ডাক্তারের পরামর্শ পাওয়া যায়, গ্রামের কৃষক মোবাইলে ফসলের ছবি পাঠিয়ে কৃষি অফিসারের পরামর্শ নেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুবিহীন বাংলাদেশকে সংগঠিত করে তার সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা দেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে নিয়ে গেছেন। দেশের ইতিবাচক দিকগুলো এখন বিশ্ব সংবাদে পরিণত হয়েছে। গত দশ বছরে আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশকে উন্নতির যে শিখরে নিয়ে গেছে সেজন্য তৃতীয় বিশ্ব এখন আমাদের রোল মডেল হিসেবে আখ্যা দিচ্ছে। এই অর্জন বিশ্বনেত্রী শেখ হাসিনার জাদুকরী নেতৃত্বে সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে শহরের নাগরিক সুবিধা গ্রামেও পৌঁছে গেছে। গ্রামের মেঠোপথ পরিণত হয়েছে পিচঢালা পথে। আওয়ামী লীগের এবারের নির্বাচনী ইশতেহারে বলা হয়েছে গ্রাম হবে শহর। এরই মধ্যে সেই সুবিধা পেতে শুরু করেছে গ্রামের মানুষ। ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে গ্রাম এবং শহরের দূরত্ব কমে এসেছে।
মন্ত্রী বলেন, সারা দেশে যাতে উন্নয়ন হয় সেজন্য সরকার সব জেলার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করেছে। সেদিক থেকে আমি চট্টগ্রামের প্রতিনিধি হিসেবে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছি। তার ফলে চট্টগ্রামের উন্নয়নের ব্যাপারে আমার দায়িত্ব আরো বেড়ে গেল।
তিনি জানান, চট্টগ্রামে বে-টার্মিনাল প্রকল্প বাস্তবায়ন চলছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে চট্টগ্রাম বন্দরের বর্তমান অপারেশনাল সক্ষমতার চেয়ে বেশি কার্যক্রম পরিচালিত হবে আলাদা বন্দরের মাধ্যমে।
সংরক্ষিত মহিলা আসনে মনোনয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, প্রার্থীরা কতদিন ধরে রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত, দলের প্রতি তাদের কমিটমেন্ট বিবেচনায় নিয়েই মনোনয়ন দেওয়া হবে। সংসদ সদস্য নির্বাচনে প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে যেসব মানদণ্ড বিবেচনায় নেওয়া হয় সংরক্ষিত মহিলা সদস্য হিসেবে মনোনয়নের ক্ষেত্রেও একই পন্থা অবলম্বন করা হবে।
মতবিনিময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ, উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এম এ সালাম, অ্যাডভোকেট সুনীল সরকার, শফর আলী, নোমান আল মাহমুদ, দেবাশীষ পালিত, চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী, বেদারুল আলম চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকার বাইরে মিডিয়ার স্বার্থ রক্ষার দাবি
চট্টগ্রামসহ ঢাকার বাইরের সংবাদপত্রের স্বার্থ ও গণমাধ্যমের অধিকার শতভাগ নিশ্চিতের জন্য তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদের কাছে দাবি তুলেছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন বিএফইউজের সহসভাপতি ও পেশাজীবী সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ হায়দার চৌধুরী। গতকাল সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব দাবি তোলেন। অচিরেই নবম ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন, টেলিভিশন সাংবাদিকদের জন্য ওয়েজবোর্ড ঘোষণা এবং অনলাইন পোর্টাল ও অনলাইন টিভির নামে অপেশাদার ভুঁইফোড় সাংবাদিকদের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযানের দাবি জানান। একই সাথে চট্টগ্রামসহ ঢাকার বাইরের সংবাদপত্রের স্বার্থ ও গণমাধ্যমের অধিকার শতভাগ নিশ্চিতের দাবি জানান।
তথ্যমন্ত্রী এসব দাবি বাস্তবায়নের ব্যাপারে আশ্বস্ত করে বলেন, গণমাধ্যমে শতভাগ প্রাপ্তি নিশ্চিতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। ঢাকার বাইরে কেউ বঞ্চিত থাকবেন না। গণমাধ্যম নীতিমালা চূড়ান্ত হয়ে আছে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শুকলাল দাশ, বিএফইউজের সাবেক যুগ্ম মহাসচিব তপন চক্রবর্তী, বাসসের বিশেষ প্রতিনিধি সমীর বড়ুয়া, প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, অর্থ সম্পাদক দেবদুলাল ভৌমিক, বিএফইউজের সাবেক নির্বাহী সদস্য মোহাম্মদ ফারুক, আমাদের সময়ের ব্যুরো প্রধান হামিদ উল্লাহ, সিইউজে টিভি ইউনিটের ডেপুটি চিফ মাসুদুল হক, একুশে পত্রিকার সম্পাদক আজাদ তালুকদার, চট্টগ্রাম টিভি জার্নালিস্টস এসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লতিফা আনসারি রুনা, চট্টগ্রাম টিভি ক্যামেরা জার্নালিস্টস এসোসিয়েশনের সভাপতি শফিক আহমেদ সাজিব ও সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম বাবু, চট্টগ্রাম ফটো জার্নালিস্টস এসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক রবি শংকর প্রমুখ।

x