বিজ্ঞান চর্চায় অগ্রণী বাঙালি প্রফুল্লচন্দ্র রায়

বৃহস্পতিবার , ২ আগস্ট, ২০১৮ at ৪:৫৯ পূর্বাহ্ণ
18

বিশিষ্ট শিক্ষাব্রতী এবং ভারতবর্ষে বিজ্ঞান গবেষণা, বিশেষত রাসায়নিক শিল্প প্রতিষ্ঠানের অন্যতম পথিকৃৎ প্রফুল্লচন্দ্র রায়। বিজ্ঞানে বিশেষ অবদানের জন্য শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে দেশবাসী তাঁকে ‘আচার্য’ উপাধিতে ভূষিত করে। আজ তাঁর ১৫৭তম জন্মবার্ষিকী।

প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের জন্ম ১৮৬১ সালের ২রা আগস্ট খুলনার বাড়ুলি কাঠিপাড়া গ্রামে। স্কটল্যান্ডের এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সাথে রসায়নশাস্ত্রে বি.এসসি উত্তীর্ণ হন তিনি এবং মৌলিক গবেষণায় কৃতিত্বের জন্য ডি.এসসি ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর দেশে ফিরে নিযুক্ত হন প্রেসিডেন্সি কলেজে রসায়নের অধ্যাপক হিসেবে। পাশাপাশি ব্যাপৃত থাকেন রসায়ন গবেষণায়। পারদের ওপর অ্যাসিডের ক্রিয়ার মাধ্যমে মার্কিউরাস নাইট্রাইট, লেবুর রস বিশ্লেষণের মাধ্যমে সাইট্রিক অ্যাসিড, পশুর হাড় থেকে ফসফেট অব সোডা এবং সুপার ফসফেট অব লাইম আবিষ্কার তাঁর অবিস্মরণীয় কীর্তি। এছাড়া ঘি, সরিষার তেল প্রভৃতি খাদ্যদ্রব্যে ভেজাল নির্ণায়ক রাসায়নিক বিশ্লেষণ পদ্ধতি আবিষ্কারের মাধ্যমে বিজ্ঞান গবেষণার পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলনেও তাঁর ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। হিন্দু সমাজের জাতিভেদ, নানাবিধ কুসংস্কার, বাল্য বিবাহ প্রভৃতির ঘোর বিরোধী ছিলেন তিনি। দেশে নারী শিক্ষা ও বিধবা বিবাহ প্রচলনে তাঁর বিশেষ ভূমিকা ছিল। চিরকুমার ও আজীবন ত্যাগী প্রফুল্লচন্দ্র নিজের গবেষণালব্ধ প্রচুর অর্থ রসায়ন চর্চার উন্নতি, রসায়ন সংগঠন প্রতিষ্ঠা এবং দরিদ্র ছাত্রদের সাহায্য সহ উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কাজে ব্যয় করেছেন। গান্ধীজীর অসহযোগ আন্দোলনে সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি। স্বদেশে এবং দেশের বাইরে বিভিন্ন বিজ্ঞান সংগঠনের সম্মানিত সভ্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ইংরেজি ও বাংলায় রচিত তাঁর বিজ্ঞান বিষয়ক বেশ কিছু গ্রন্থ বিজ্ঞান চর্চায় বিশেষ অবদান রেখেছে। ‘আত্মচরিত’ নামে একখানা জীবনীগ্রন্থও রয়েছে তাঁর। ১৯৪৪ সালের ১৬ জুন প্রফুল্লচন্দ্র রায় প্রয়াত হন।

x