বিক্রির শীর্ষে শিশুদের পোষাক

রাঙ্গুনিয়ায় ঈদ বাজার এখন জমজমাট

আকাশ আহমেদ : রাঙ্গুনিয়া

সোমবার , ১১ জুন, ২০১৮ at ৩:৫৩ অপরাহ্ণ
47

ঈদের আর মাত্র ক’টা দিন বাকি। এ সময়ের মধ্যে কেনাকাটা সেরে নিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে গ্রামের স্বল্প আয়ের মানুষগুলো। দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতিতে দিশেহারা অভিভাবকরা পরিবারের সাধ্যমত ঈদ বাজার সেরে নিতে হাতের মুঠোয় সাধকে বন্দী করে ছেলেমেয়েকে বাজারে নিয়ে আসছে। সেই সাথে তরুণতরুণীদের আনাগোনা আর শিশুদের কলকাকলিতে জমে উঠছে ঈদ বাজার।

প্রতিটি মার্কেটে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভীড় বিক্রেতাদের আশার দোলাকে উছলে দিচ্ছে। এতদিন ঝিমিয়ে থাকা মার্কেটগুলি হঠাৎ করে মৌসুমী বৃষ্টিতে ভিজে সজীবতা ফিরে পেয়েছে যেন। রাঙ্গুনিয়ার নিউ মার্কেট খ্যাত চন্দ্রঘোনা দোভাষি বাজার ঘুরে দেখা গেছে প্রতিটি দোকানে ক্রেতার উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। বিশেষ করে শাড়ি ও তৈরী পোষাকের দোকানে যেন নিঃশ্বাস ফেলার ফুসরত নেই। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ক্রেতাবিক্রেতাগণ বিকিকিনিতে ব্যস্ত এখন। দ্রব্যমূল্যের উর্ধগতি ক্রেতাদের বিপর্যস্ত করলেও ঈদের আনন্দকে মোটেই ম্লান করতে পারেনি।

রাঙ্গুনিয়ায় চন্দ্রঘোনা দোভাষী বাজার, লিচুবাগান, রোয়াজার হাট, মরিয়মনগর চৌমুহনী, গোচরা চৌমুহনী, শান্তির হাট, উত্তর রাঙ্গুনিয়ায় রাণীর হাট, ধামাইর হাট, মোগলের হাট, রাজার হাট, দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ায় পদুয়া রাজার হাট, শিলক ব্যূহচক্র হাট ও সরফভাটার ক্ষেত্রবাজার এখন জমজমাট ঈদ বাজারে রূপ নিয়েছে। প্রায় সবগুলো দোকান যেন ক্রেতাদের রঙিন ফাঁদে ফেলার জন্যে আলোকসজ্জায় নববধুর সাজে সেজে হাতছানি দিয়ে ডাকছে।

ফুটপাতেও অপেক্ষাকৃত কম দামের পসরা সাজিয়ে দোকানীরা বসেছে নিু আয়ের ক্রেতাদের জন্য। এতসব বর্ণিল আয়োজনের মধ্যেও ভেজাল ও চোরাই পণ্যে ভরপুর হয়ে আছে প্রতিটি বাজার। একই রঙ, একই প্যাকেট আর একই নামে ক্রেতারা শাড়ি, গয়না আর বাচ্চাদের পোষাক কিনে ঠকে যাচ্ছে। সবচেয়ে বেশী ঠকছে নকল প্রসাধনী কিনে। পুরো বাজার নকল প্রসাধনীতে সয়লাব হয়ে আছে। এরই মধ্যে চলছে নকল টাকারও হাতবদল। এতকিছুর পরেও ঈদ মার্কেটে এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশী বিক্রি হয়েছে শিশুদের নানা বাহারী পোষাক। দাম একটু বেশী হলেও বাজেট ঘাটতি করে শিশুদের আবদার মেটানোর কাজটি মোটামুটি সেরে নিচ্ছেন অভিভাবকরা। এরপরেই রয়েছে মেয়েদের শাড়ি। তরুণদের পাঞ্জাবী আর তরুণীদের পোষাক ও সাজসজ্জার উপকরণ। তারপর জুতো আর প্রসাধনী। কয়েকটি দোকান ঘুরে জানা গেলো বাচ্চাদের পোষাকের প্রচুর চাহিদা থাকলেও বিক্রির তালিকায় রয়েছে শাড়ি। বাজারে তরুণতরুণীদের উল্লেখযোগ্য হারে উপস্থিতির পাশাপাশি বিক্রি হচ্ছে নিত্যনতুন ডিজাইনের পাঞ্জাবী, ত্রিপিছ, গ্লাউন আর লেহেঙ্গা। ব্যাপকহারে বিক্রি হচ্ছে ইমিটেশনের গয়না। অর্থ্যাৎ রমজানের শেষভাগে এসে পোষাকপরিচ্ছদের পাশাপাশি গয়না, প্রসাধনী আর জুতোর বিক্রিও চলছে বিরামহীন।

এবার ঈদে ফোরকের মধ্যে মুসকান, ডলি, স্বপ্নের দেশ, সাত ভাই চম্পা, পারুল বেশ চলছে। তরুণীদের গ্রাউনের মধ্যে রয়েছে রাজকুমারী, ডায়মন্ড, জবা। ত্রিপিচের মধ্যে পদ্মাবতী, বাহুবালি, কাবেরি, বিনয় বেশ চলছে। শাড়ির মধ্যে বিক্রি হচ্ছে দেশি কাতান ছাড়াও জবা, বড়ভাবী, ক্রাস, ভাগি, নীলপদ্ম, পদ্মরাণী, রাজপরী, রাজেশ্বরী, রাজগুরু নামের দেশী শাড়ি, ইন্ডিয়ান কাতান, চায়না সিল্ক, পাকিস্তানী জর্জেট, দেশীয় মসলিন, জামদানি, কাতান শাড়ি। ইমিটেশনের দোকানে রিনিঝিনি, কঙ্কন, শঙ্খচূড় নামের চুড়ির খাটতি সবচেয়ে বেশী বলে জানান দোকানিরা।

দোভাষি বাজারের নিউ সৌখিন গার্মেন্টস, অঞ্জলী ফ্যাশন, সোমা গার্মেন্টস, হক বিতানের মালিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রথম দিকে তেমন বেচাকেনা না থাকলেও ঈদ ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে ক্রেতার উপস্থিতি যেমন বেড়েছে, বেড়েছে বিক্রিও। গোচরা চৌমুহনীর মুজিবিয়া ক্লথ স্টোরের মালিক জানান, আগে মফস্বলের মানুষ শহরের নামীদামী মার্কেটগুলোর দিকে ছুটে যেতো। এখন শহরের কোয়ালিটি গ্রামেই পাওয়া যাচ্ছে। তাই তারা এখন নিজেদের এলাকা থেকেই চাহিদা অনুযায়ী ঈদের কেনাকাটা সেরে নিচ্ছেন। আমরা তাদের চাহিদা মতো পণ্য দিতে পারছি। এ জন্যে আমাদের বেচাবিক্রিও অনেক ভালো। তিনি এ বছর জামাকাপড় আর পোষাকপরিচ্ছদের দাম অন্যান্য দ্রব্যমূল্যের চেয়ে সহনীয় পর্যায়ে আছে বলে জানান।

এদিকে স্বল্প আয়ের ক্রেতাদেরও ভীড় জমাতে দেখা গেছে ফুটপাতের দোকানগুলোতে। সবদিক সামাল দিয়ে পরিবারের সদস্যদের মুখে ঈদের হাসি ফোটাতে তাদের যৎসামান্য আয়োজন সুখী করে তুলছে নিস্পাপ শিশুদের।

রাঙ্গুনিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম ঈদ বাজার বসেছে রোয়াজার হাটে। সেখানেও ক্রেতাদের প্রচন্ড ভীড় দেখা গেছে। শাড়ি, চুড়ি আর বাচ্চাদের পোষাকের পাশাপাশি তরুণদের আকৃষ্ট করছে নতুন নতুন ডিজাইনের বাহারি পাঞ্জাবী, ফতুয়া আর টুপি’র নিত্য নতুন কালেকশন। অন্যান্য বাজারগুলিও ঈদের শেষ মুহুর্তে এসে দারুণভাবে বেচাকেনায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা সন্তোষজনক হওয়ায় এ বছর ঈদের বাজারে এ দুর্মূল্যের দিনেও বেশ উৎফুল্ল মনে হয়েছে প্রতিটি ক্রেতা ও বিক্রেতাকে। তবে বেরসিক বৃষ্টি বেকায়দায় ফেলছে ঈদের আনন্দ সঞ্চয়ী মানুষদের। তবুও জমজমাট এ ঈদ বাজার রাঙ্গুনিয়ার মানুষগুলোর হৃদয়ে বয়ে এনেছে অনাবিল আনন্দ।

x