বিক্রির তালিকায় ফেসবুকে ৮১ হাজার ব্যক্তির আলাপ!

রবিবার , ৪ নভেম্বর, ২০১৮ at ৮:২৮ পূর্বাহ্ণ
19

অন্তত ৮১ হাজার ফেসবুক ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট থেকে হাতিয়ে নেওয়া ব্যক্তিগত মেসেজ হ্যাকাররা বিক্রির জন্য প্রকাশ করছে। অন্যদিকে, নিজেদের নিরাপত্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলে দাবি বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকের।
বিবিসি’র ভাষ্যমতে, বিস্তারিত তথ্য ক্ষতিগ্রস্তের শিকার হওয়া অনেক ব্যবহারকারীই ইউক্রেন আর রাশিয়ার। যদিও কেউ কেউ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ব্রাজিল ও অন্যান্য স্থানের। প্রতিটি অ্যাকাউন্ট বিক্রির জন্য হ্যাকাররা ১০ সেন্ট করে দাম চেয়েছে। তবে পরবর্তীতে তাদের বিজ্ঞাপনটি অফলাইন করে দেওয়া হয়। খবর বিডিনিউজের।
ফেসবুক কর্মকর্তা গাই রোজেন বলেন, ‘ক্ষতিকর এক্সটেনশনগুলো যাতে তাদের স্টোর থেকে ডাউনলোডের জন্য আর না পাওয়া যায় তা নিশ্চিত করতে আমরা ব্রাউজার নির্মাতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। সেইসঙ্গে ফেসবুক অ্যাকাউন্টগুলো থেকে নেওয়া তথ্য প্রদর্শনকারী ওয়েবসাইটগুলো সরাতে আমরা আইন প্রণয়নকারী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষগুলোর সঙ্গে কাজ করেছি।’
চলতি বছর সেপ্টেম্বরে প্রথম এই নিরাপত্তা লঙ্ঘনের খবর পাওয়া যায়। সে সময় ‘এফবিসেলার’ ছদ্মনামে এক ব্যবহারকারী ইংরেজি ভাষার একটি ইন্টারনেট ফোরামে একটি পোস্ট দেন। এতে তিনি বলেন, ‘আমরা ফেইসবুক ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রি করি। আমাদের ডেটাবেসে ১২ কোটি অ্যাকাউন্ট রয়েছে।’
হ্যাকারদের এমন দাবি নিয়ে পরীক্ষা করেছে সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল শ্যাডোজ। ব্যক্তিগত মেসেজ থাকা অ্যাকাউন্টগুলোর নমুনা হিসেবে ৮১ হাজারেরও বেশি অ্যাকাউন্টের প্রোফাইল পোস্ট করার খবরটি নিশ্চিত করেছে তারা। এ ছাড়াও আরও ১,৭৬,০০০ অ্যাকাউন্টের ডাটা পাওয়া গিয়েছে। তবে এগুলোর মধ্যে কিছু অ্যাকাউন্টের শুধু ফোন নাম্বার আর ইমেইল অ্যাড্রেসই রয়েছে। যেসব ব্যবহারকারী এগুলো লুকানো বা ‘হিডেন’ অবস্থায় রাখেননি তাদের থেকে সেগুলো হাতিয়ে নেওয়া হয়ে থাকতে পারে।
হ্যাকারদের পোস্ট করা প্রোফাইলগুলোর মধ্যে রয়েছে এমন পাঁচ ব্যবহারকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বিবিসি রাশিয়ান সার্ভিস। হ্যাকারদের প্রকাশ করা প্রোফাইলে দেখানো পোস্টগুলো ওই ব্যবহারকারীদেরই দেওয়া বলে নিশ্চিত করেছেন তারা।
এই ডাটা প্রকাশ করা হয়েছে এমন ওয়েবসাইটগুলোর মধ্যে একটি রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ থেকে বানানো বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আইপি অ্যাড্রেস শনাক্ত করেছে সাইবারক্রাইম ট্র্যাকার সার্ভিস। এই প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘লকিনট ট্রোজান’ নামের একটি ভাইরাস ছড়াতে এই ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে। ব্যবহারকারীদের পাসওয়ার্ড পাওয়ার সুযোগ করে দেয় এই ভাইরাস।

x