বিকেএমইএ এর সবুজ কারখানায় রূপান্তরের সম্ভাব্যতা বিষয়ক কর্মশালা

শনিবার , ৪ আগস্ট, ২০১৮ at ১০:০৯ অপরাহ্ণ
40

বাংলাদেশ নীটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স এন্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) সদস্যভুক্ত নীটওয়্যার কারখানাগুলোকে সবুজ কারখানায় রূপান্তরের সম্ভাব্যতা সংক্রান্ত ‘ডেভেলপিং ক্যাপাসিটি বিল্ডিং ফ্রেমওয়ার্ক ফর গ্রিন ইন্ডাস্ট্রি ইন আরএমজি সেক্টর’ শীর্ষক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয় গত ২ আগস্ট ২০১৮ বৃহস্পতিবার।

রাজধানীর ডেইলি স্টার সেন্টারের এএস মাহমুদ সেমিনার হলে বিকেএমইএ’র প্রথম সহ-সভাপতি মনসুর আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য সচিব শুভাশিস বসু এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরাসি সংস্থা ‘এজেন্সি ফ্র্যাঞ্চাইজি ডি ডেভেলপমেন্ট (এএফডি)’-এর দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ফরনেজ নিকোলাস। আরো উপস্থিত ছিলেন বিকেএমইএ-এর দ্বিতীয় সহ-সভাপতি ফজলে শামীম এহসান।

বিকেএমইএ ও এএফডি-এর এ কর্মকাণ্ডকে দেশের একক বৃহত্তম খাত তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি শুভাশিস বসু। তার মতে, বিশ্ব এখন সবুজায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তাই বিদেশি ক্রেতাগোষ্ঠীর চাহিদা মেটাতে ও তাদেরকে বাংলাদেশি তৈরি পোশাক শিল্পের প্রতি আকৃষ্ট করতে হলে এ প্রক্রিয়া শুরুর বিকল্প নেই।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে বিকেএমইএ-এর দ্বিতীয় সহ-সভাপতি বলেন, ‘আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ অপ্রতুল তবে যা আছে তার সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে আমাদের সীমিত সম্পদ দিয়েই আমরা সর্বোচ্চ উৎপাদন করতে পারবো। আমাদের শক্তি ও সীমাবদ্ধতা জানার জন্য এ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ।’

এএফডি-এর দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ফরনেজ নিকোলাস এ কার্যক্রমের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পকে বিশ্বে শীর্ষস্থানে নিয়ে যেতে এ ধরনের কার্যক্রম আবশ্যক বলে মনে করেন। সেই সাথে এ দীর্ঘ কর্মকাণ্ডের সফলতা কামনা করেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে বিকেএমইএ-এর প্রথম সহ-সভাপতি মনসুর আহমেদ এ কর্মশালাকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য সময়ের দাবি উল্লেখ করে বলেন, ‘এ সম্ভাব্যতা যাচাই তৈরি পোশাক খাতকে সবুজ শিল্পে পরিণত করতে উদ্যোক্তা ও সরকারের পরিকল্পনাকে বাস্তবায়ন করতে সহযোগিতা করবে। সর্বোপরি উদ্যোক্তাদের বর্তমান শক্তিমত্তা এবং নিজেদের কারখানাকে আন্তর্জাতিক মানের কারখানায় পরিণত করতে সীমাবদ্ধতা নির্ণয় ও করণীয় সম্পর্কে আমাদের জ্ঞানকে বিস্তৃত করবে।’ এ জন্য তিনি এএফডি ও বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এএফডি’র অর্থায়নে ১০ মাসের এ প্রকল্পে ২২টি বৃহৎ, ১৭টি মধ্যম ও ১৯টি ছোটসহ মোট ৫৮টি কারখানার ওপর এ সম্ভাব্যতা যাচাই করে বিকেএমইএ যেখানে কারখানার জ্বালানি, পানি, সৌর বিদ্যুৎ, যন্ত্রাংশের পরিমাণ ও সেগুলোর হালনাগাদ অবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও তা পরিসংখ্যানিকভাবে বর্ণনা করা হয়।

এতে দেখা যায়, কর্মরত শ্রমিকদের মধ্যে বড় কারখানায় ৫৯.৯১ শতাংশ, মধ্যম কারখানায় ৫৯.৫২ শতাংশ এবং ছোট কারখানায় ৫৬.৯৮ নারী শ্রমিক কর্মরত আছে। পানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ৮২ শতাংশ কারখানা ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীল। প্রকল্পে জানা যায় বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে কারখানাগুলোতে ৭৪ শতাংশ জেনারেটর প্রাথমিক উৎস হিসেবে ব্যবহার করে থাকে এবং ২৬ শতাংশ ব্যবহৃত হয় ব্যাকআপ হিসেবে। ৬৬ শতাংশ সুইং মেশিনে সার্ভো মোটর ব্যবহারের তথ্য উঠে আসে এ প্রকল্প চলাকালে। তবে প্রতিটি কারখানাই আইন অনুযায়ী বেসিক কমপ্লায়েন্স মেনে চলে।

বাংলাদেশে কারখানা সবুজায়নের ক্ষেত্রে অদক্ষতা, অর্থায়নের অভাব, প্রাকৃতিক সম্পদ-প্রযুক্তি ও ভূমির অপ্রতুলতা, তথ্য ব্যবস্থাপনার অদক্ষতা, দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও সচেতনতার অভাব এবং পৃষ্ঠপোষকতার অভাব বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা হিসেবে উঠে এসেছে। এ সমস্যা মোকাবেলার জন্য প্রশিক্ষণ, অর্থায়ন, সরকারি ও উদ্যোক্তা পর্যায়ে পৃষ্ঠপোষকতা, আন্তর্জাতিক মানের দেশীয় গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল গড়ে তোলা এবং ক্যাপাসিটি বিল্ডিংয়ের মতো বিষয়গুলোর বিকল্প নেই বলে জানানো হয় কর্মশালায়।

কর্মশালাটি বেলা সাড়ে ১০টায় শুরু হয়ে দুপুর দেড়টায় শেষ হয়। এতে বিকেএমইএ-এর বোর্ড সদস্যগণ ছাড়াও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, এএফডি ও বিকেএমইএ-এর বিভিন্ন বিভাগের উর্ধতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

x