বিএনপিতে আলোচনায় নোমান খসরু আছেন জামায়াতের শাহজাহানও

মোরশেদ তালুকদার

শনিবার , ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ at ৪:০৯ পূর্বাহ্ণ
2329

আগামী সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম১০ আসনে (ডবলমুরিংপাহাড়তলীহালিশহরখুলশী) বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে এগিয়ে আছেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান। তবে নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নামও শোনা যাচ্ছে। তার ঘনিষ্ঠরা বলছেন, দুটি আসন থেকে এবার মনোনয়ন চাইবেন তিনি। এর একটি চট্টগ্রাম১০। যদিও দলটির হাই কমান্ড কাকে মনোনয়ন দিচ্ছেন সেটা এখনো অনিশ্চিত।

এদিকে গুঞ্জন আছে, বিএনপির শরিক দল জামায়াত ইসলামীর চট্টগ্রাম মহানগরীর সাবেক নায়েবে আমির শাহজাহান চৌধুরী এ আসন থেকে নির্বাচন করতে পারেন। এক্ষেত্রে নিবন্ধন জটিলতার কারণে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করতে না পারলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে পারেন তিনি।

অবশ্য প্রার্থী কে হচ্ছেন সেটা স্পষ্ট না হলেও এ আসনভুক্ত থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সাংগঠনিকভাবে শক্ত অবস্থানে আছে বিএনপি। ফলে বিএনপির প্রার্থী যেই হোক না কেন, সাংগঠনিকভাবে খুব একটা অসুবিধায় পড়তে হবে না।

আবদুল্লাহ আল নোমানের ঘনিষ্ঠরা বলছেন, চট্টগ্রাম(কোতোয়ালী) আসনে তিনি একাধিকবার নির্বাচন করেছিলেন। এক্ষেত্রে ওই আসনের সব ভালোমন্দ তার নখদর্পণে ছিল। কিন্তু ২০০৮ সালে নবগঠিত চট্টগ্রাম১০ আসনে তাকে প্রার্থী করা হয়েছিল। সেবার তিনি অল্প ভোটের ব্যবধানে হেরে যান। তবে হেরে গিয়েও বসে নেই তিনি। মাঠ গোছাতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে গেছেন। ইতোমধ্যে তার নির্বাচনী এলাকায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কমিটি গঠন থেকে শুরু করে সামাজিক অনুষ্ঠানগুলোতেও নিয়মিত উপস্থিত থাকছেন।

আবদুল্লাহ আল নোমান

দল নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিলে অবশ্য প্রার্থী হবেন উল্লেখ করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান দৈনিক আজাদীকে বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত নির্বাচনের জন্য থাকলে অবশ্যই নির্বাচন করব। চট্টগ্রাম১০ থেকে নির্বাচন করব। ২০০৮ সালেও এ আসন থেকে নির্বাচন করেছিলাম।

মাঠ পর্যায়ে সাংগঠনিকভাবে নির্বাচনের জন্য কতটা প্রস্তুতি আছেজানতে চাইলে তিনি বলেন, মাঠ পর্যায়ে ভালো অবস্থা আছে। ২০০৮ সালে ১১৩টি কেন্দ্র ছিল। সেখানে ১০০ কেন্দ্রে আমি ৩ হাজার ভোটে এগিয়ে ছিলাম। বাকি ১৩ কেন্দ্র থেকে ১০ হাজার ভোট অনেকটা জোর করে নিয়ে যায়। বর্তমানেও তৃণমূলে অনেক ভালো প্রস্তুতি আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তৃণমূলের কর্মীদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ আছে। চট্টগ্রাম এলেই নির্বাচনী এলাকায় যাই। বিভিন্ন সামাজিক প্রোগ্রামে যাচ্ছি।

প্রসঙ্গত, আবদুল্লাহ আল নোমান ১৯৫৯১৯৬০ সাল থেকে ছাত্র রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হয়ে প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের চট্টগ্রাম শহর শাখার সাধারণ সম্পাদক, জেলা কমিটির সভাপতি এবং কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃত্বে ছিলেন। ১৯৬৯ সালে ছাত্রদের ১১ দফার মাধ্যমে সৃষ্ট গণঅভ্যুত্থানকে চট্টগ্রামে সংগঠিত করেন এবং নেতৃত্ব দেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসাবে খ্যাতি অর্জন করেন এবং মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। ১৯৭৩ সালে মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বাধীন ন্যাপের জাতীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম জেলার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তখন তিনি সরকারের সন্ত্রাস, নির্যাতন ও অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে আন্দোলন গড়ে তোলেন। ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষে মওলানা ভাসানী আহূত চট্টগ্রামে ‘ভুখা মিছিল ও ভারতীয় পণ্য বর্জন’ কর্মসূচির আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। তাছাড়া ভাসানীর পক্ষে সরকারের নিকট ভাসানী ন্যাপ চট্টগ্রামের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসাবে স্মারকলিপি পেশ করেন। ১৯৭৮ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কর্তৃক জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট গঠন করা হলে তিনি তার কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হন। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান পরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক কমিটি গঠন করলে তিনি সিনিয়র সহসভাপতি ও চট্টগ্রাম জেলা সাংগঠনিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক নিযুক্ত হন। পরে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংগঠনিক কমিটির সভাপতি হন। ১৫ বছর তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন। এর আগে তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন।

এরশাদের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ছিল তার রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ১৯৮৬ সালে তিনি কারারুদ্ধ হন। ১৯৮৭ সালে হুলিয়ায় থাকা অবস্থায় এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন এবং স্বৈরশাসকের পতন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত রাখেন। ১৯৮৯ সালের ৪ নভেম্বর বেগম খালেদা জিয়াকে লালদিঘির ময়দানে তিনিই প্রথম ‘দেশনেত্রী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। ১৯৯১ সালে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ‘চট্টগ্রাম৯’ আসনে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত হন এবং ক্যাবিনেটে সিনিয়র মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। একই আসন থেকে ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত হন। সেবার মাত্র ১৩ জনের যে মন্ত্রীসভা গঠিত হয়, সেখানে তিনি সিনিয়র মন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তৃতীয়বারের মতো সাংসদ নির্বাচিত হয়ে মন্ত্রী হন।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী

চট্টগ্রাম১১ আসনের (বন্দর, পতেঙ্গা, ডবলমুরিং, ইপিজেড ও সদরঘাট) একক প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ওই আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী আর কেউ নেই। তবে চট্টগ্রাম১০ থেকেও মনোনয়ন চাইতে পারেন তিনি। অর্থাৎ দুটি আসন থেকেই এবার মনোনয়ন চাইতে পারেন তিনি। এমনটিই জানিয়েছেন আমীর খসরুর ঘনিষ্ঠরা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী দৈনিক আজাদীকে বলেন, আমি কোথা থেকে নির্বাচন করব এখনো ঠিক করিনি। চট্টগ্রাম১০ ও ১১ আছে, আরো কিছু থাকতে পারে। এখনো সিদ্ধান্ত নিইনি। যদি নির্বাচন হয় সেক্ষেত্রে আমরা নির্বাচন করব কি না সেই প্রসঙ্গ আসবে। এরা (আওয়ামী লীগ) তো নির্বাচনের নামে একদলীয় ক্ষমতা দখলের আয়োজন করছে। নির্বাচনের সিদ্ধান্ত এমন হতে হবে, যেখানে দেশের মানুষ ভোট দিতে পারবেন। নিরপেক্ষ সরকার হতে হবে, সংসদ বাতিল হতে হবে, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতে হবে, প্রতিরক্ষা বাহিনীর অন্তর্ভুক্তি হতে হবে নির্বাচনকালীন সময়ের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে। এসব মৌলিক বিষয়ে তো সমাধান হতে হবে। এসব তো বিএনপির না, পুরো জাতির প্রত্যাশা। এসব সমাধান না হলে তো আসন আসবে না। আগে নির্বাচনের পরিবেশ, অবস্থান সঠিকভাবে মানুষের কাছে স্পষ্ট হতে হবে এবং দৃশ্যমান হতে হবে। তবেই না নির্বাচন।

সাংগঠনিকভাবে নির্বাচনের জন্য বিএনপি কতটা প্রস্তুত? এমন প্রশ্নে খসরু বলেন, সাংগঠনিকভাবে বিএনপি অত্যন্ত শক্তিশালী। সবসময় প্রস্তুত। কারণ, বিএনপির নির্ভরশীলতা তো জনগণের ওপর। নির্বাচনে গেলে আমাদের কোনো সমস্য নাই। জনগণ আমাদের পাশে আছে, সেটা আমরা জানি।

প্রসঙ্গত, ১৯৯১ সালে তৎকালীন নির্বাচনী এলাকা, (ডবলমুরিং, পাহাড়তলী, বন্দর) থেকে খালেদা জিয়া সংসদ সদস্য প্রার্থী হয়েছিলেন। ওইসময় আমীর খসরু বেগম জিয়ার সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীকালে একই বছরে নির্বাচনী এলাকা চট্টগ্রাম৮ এর উপনির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হিসেবে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনেও খসরু সংসদ সদস্য হিসেবে একই এলাকা থেকে নির্বাচিত হন। ২০০১ সালে নির্বাচনে বিজয়ের পর বিএনপির নেতৃত্বে গঠিত চার দলীয় ঐক্যজোট সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে ১০ অক্টোবর ২০০১ সালে দায়িত্ব পান। ২০০৪ সালের ২৫ মার্চ পর্যন্ত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি চট্টগ্রাম জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

শাহজাহান চৌধুরী

চট্টগ্রাম১০ আসনের প্রার্থী হিসেবে নগর জামায়তের সাবেক নায়েবে আমির শাহজাহান চৌধুরীর নামও শোনা যাচ্ছে। বর্তমানে নিবন্ধন বাতিল আছে জামায়াতের। তাই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের প্রস্ততি নিচ্ছে দলটি। সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান পর্ষদে একজন কাউন্সিলর আছেন, যিনি জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়েছিলেন। তাই জামায়াতের বিশ্বাস, সেখানে তাদের সমর্থক আছে।

প্রসঙ্গত, ১৯৯১ ও ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে সাতকানিয়ালোহাগাড়া আসন নির্বাচনে জয়ী হন শাহজাহান চৌধুরী। ২০০৮ সালের নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পাননি তিনি। ওই বছর আসনটি থেকে নির্বাচন করে জয় লাভ করেন নগর জামায়াতের সাবেক আমির শামসুল ইসলাম। এদিকে গত ৩ আগস্ট খুলশী থানার মুরগি ফার্ম এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হন শাহজাহান চৌধুরী। বর্তমানে তিনি কারাগারে আছেন।

তৃণমূলের বক্তব্য

খুলশী থানা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার দৈনিক আজাদীকে বলেন, চট্টগ্রাম১০ আসন থেকে নোমান ভাইয়ের (আবদুল্লাহ আল নোমান) বিকল্প নেই। তাকে ছাড়া আমরা আর কাউকে চিন্তাও করছি না। গতবার (২০০৮) তিনি অল্প ভোটে হেরে গিয়েছিলেন। সেবার বেশ কিছু কেন্দ্র দখল হওয়ার কারণে এমনটি হয়েছে। কর্মীদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ আছে নোমান ভাইয়ের। তিনি আপাদমস্তক রাজনীতিবিদ।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক এস এম সাইফুল আলম দৈনিক আজাদীকে বলেন, খসরু ভাই কোন আসন থেকে নির্বাচন করবেন সেটা এখনো ঠিক করেননি। তবে চট্টগ্রাম১১ তো আছেই। পাশাপাশি চট্টগ্রাম১০ আসনের লোকজনও চাচ্ছেন।

আসন সম্পর্কিত তথ্য

চট্টগ্রাম১০ আসনটি চসিকের ৮, ১১, ১২, ১৩, ১৪, ২৪, ২৫ ও ২৬ নং ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আসনটি সৃষ্টি হয়। নগরীর পাহাড়তলী, ডবলমুরিং খুলশী, হালিশহর ও পাঁচলাইশ (আংশিক) অংশ বিশেষ নিয়ে এ আসনটি গঠিত। এর আগে সংসদ নির্বাচনগুলো আলোচ্য এলাকাগুলো ছাড়াও পতেঙ্গা ও বন্দর নিয়ে নিয়ে চট্টগ্রাম৮ সংসদীয় আসন হিসেবে পরিচিত পেত। পরবর্তীতে এসব এলাকাকে বিভক্ত করে চট্টগ্রাম১০ ও চট্টগ্রাম১১ আসন করা হয়।

১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে এ পর্যন্ত ছয়টি নির্বাচনের মধ্যে এখানে চারবার জিতেছে বিএনপি, দুইবার জিতেছে আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে ১৯৯১ সালে এই আসন থেকে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা ইসহাক মিয়াকে পরাজিত করে জয়ী হন। পরে উপনির্বাচনে বিএনপির আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী জয়ী হন। এরপর ৯৬ সাল এবং ২০০১ সালের নির্বাচনে এই আসন থেকে জয়ী হন আমীর খসরু। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ডা. আফছারুল আমীন ১ লাখ ৩৭ হাজার ১০৬ ভোটে বিজয়ী হন। সেবার আবদুল্লাহ আল নোমান ৯ হাজার ২৯১ ভোটের ব্যবধানে হেরে যান। ২০১৪ সালে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেয়নি। সেবার নির্বাচিত হন ডা. আফছারুল আমীন।

x