বায়েজিদে শ্রমিক বিক্ষোভে পুলিশের লাঠিচার্জ

ফটো সাংবাদিক লাঞ্ছিত, এএসআই ক্লোজড

আজাদী প্রতিবেদন

বৃহস্পতিবার , ১৪ মার্চ, ২০১৯ at ৬:৩৮ পূর্বাহ্ণ
256

নগরীর বায়েজিদ থানাধীন বালুচরার একটি পোশাক কারখানার সামনে বিক্ষোভের সময় শ্রমিকদের লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। তবে লাঠিচার্জের ছবি তোলার সময় পুলিশের হাতে লাঞ্ছনার শিকার হন দৈনিক প্রথম আলোর স্টাফ ফটোসাংবাদিক জুয়েল শীল। এসময় কয়েকজন পুলিশ সদস্য জুয়েলের শার্টের কলার চেপে তার ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে সব ছবি মুছে দিয়ে ক্যামেরা ফেরত দেয়। গতকাল বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এদিকে সাংবাদিক লাঞ্ছনার ঘটনায় অভিযুক্ত এএসআই শরীফুলকে গতরাতে ক্লোজড করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি কারখানার এক নারী পোশাক শ্রমিকের আত্মহত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাস্তায় বিক্ষোভ করে শ্রমিকরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিকেল ৩টার দিকে কয়েকটি দাবিতে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কের বালুচড়া এলাকায় সড়ক অবরোধ করে ফোর এইচ গ্রুপের মালিকানাধীন ফোর এইচ অ্যাপারেলের শ্রমিকরা। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিক্ষোভরত নারী শ্রমিকদের ওপর এক দল পুলিশ এসে চড়াও হয়। এসময় প্রথম আলোর ফটোসাংবাদিক লাঠিচার্জের ছবি তুললে পুলিশ তার সাথে দুর্ব্যবহার করে এবং তার ক্যামেরাটি ছিনিয়ে নেয়। জানতে চাইলে সাংবাদিক জুয়েল শীল দৈনিক আজাদীকে বলেন, বালুচরা এলাকায় পোশাক কারখানার শ্রমিকদের আন্দোলনের খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে সাড়ে তিনটার দিকে পৌঁছি। কিছুক্ষণ পরে কিছু আন্দোলনরত নারী শ্রমিকের ওপর এলোপাতাড়ি লাঠিচার্জ করতে থাকে পুলিশ। আমি কয়েকটি ছবি তোলার পর বায়েজিদ থানার এএসআই শরিফুল আমাকে বলেন, ‘ওই শালারপুত! ছবি কেন তুলিস’। আমি তাকে বললাম, আপনি আমার সাথে এভাবে কথা বলছেন কেন? তারপর কয়েকজন পুলিশ আমাকে ঘিরে ফেলে আমার শার্টের কলার ধরে ক্যামেরাটি ছিনিয়ে নেয়। পরে তারা আমার ক্যামেরার সব ছবি মুছে দিয়ে ক্যামেরাটি ফেরত দিয়েছে। ছবি তোলা আমার পেশাগত দায়িত্ব। আমার একটাই দাবি এই ঘটনা তদন্ত করে এএসআই শরিফুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হোক।
এ ব্যাপারে বায়েজিদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান দৈনিক আজাদীকে বলেন, কিছুদিন আগে একজন নারী শ্রমিক তার বাসায় আত্মহত্যা করে। তবে কারখানায় গুজব ছড়িয়ে পড়েছে কারখানার কর্মকর্তাদের খারাপ আচরণের কারণে ওই নারী আত্মহত্যা করেছে। তাই শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে সড়ক অবরোধ করে রাখে। এতে যান চলাচল ব্যাহত হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে তাদের সরিয়ে দিয়েছে। সাংবাদিক জুয়েল শীলের ওপর হামলার বিষয়ে ওসি বলেন, এটি একটি ভুল বুঝাবুঝি। এছাড়া ঘটনাস্থলে শুধু পুরুষ পুলিশ সদস্য ছিলো বিষয়টিও ঠিক নয়।
এদিকে ফটোসাংবাদিক জুয়েল শীলের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে), বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে), চট্টগ্রাম ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন চট্টগ্রাম। চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি নাজিমউদ্দিন শ্যামল ও সাধারণ সম্পাদক হাসান ফেরদৌস, বিএফইউজের সহ-সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী ও যুগ্ম মহাসচিব মহসিন কাজী, চট্টগ্রাম ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দিদারুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রব এবং বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন চট্টগ্রামের সভাপতি মনজুরুল আলম মনজু ও সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান পৃথক বিবৃতিতে ফটোসাংবাদিক জুয়েল শীলের ওপর হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে সাংবাদিক জুয়েল শীলের ওপর হামলার ঘটনায় গতকাল রাতে নগরীর চান্দগাঁও থানায় সিএমপির সিনিয়র সহকারী কমিশনার (বায়েজীদ জোন) সোহেল রানার সাথে বৈঠকে বসেন সিইউজের নেতারা। বৈঠকে হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত এএসআই শরিফুলকে ক্লোজড করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এছাড়া এ ঘটনায় এক সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে আছেন সিনিয়র সহকারী কমিশনার (বায়েজীদ জোন) সোহেল রানা। গতকাল রাতে দৈনিক আজাদীকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিইউজে সভাপতি নাজিমুদ্দীন শ্যামল।

x