বাড়িতে ভূতের ভয়

আরিফ রায়হান

বুধবার , ২১ আগস্ট, ২০১৯ at ১০:৫৩ পূর্বাহ্ণ
192

গভীর রাত। ঘরে একা অঘোর ঘুমে মগ্ন এক লোক। এমন সময় হঠাৎ ঘরের কোনো এক কক্ষে বিকট শব্দ হলো। তখন সে শব্দে ঘুম ভেঙে গেল তার। শরীরে শুরু হলো কাঁপুনি। এ কীসের শব্দ? পাশের কক্ষে গিয়ে তা দেখার সাহসটুকু পাচ্ছেন না কিছুতেই। ভয়ে কেবল হিম হয়ে আসছে শরীর। কে এলো ঘরে? ভূত-টুত নয়তো? এভাবে ভয়ে ভয়ে কেটে গেল রাত। ভোরে সূর্যের আলো ছড়িয়ে পড়লো ঘরে। বুকে একটু একটু সঞ্চার হলো সাহস। এবার কৌতূহল নিয়ে ধীরে ধীরে এই কক্ষ সেই কক্ষ দেখা হলো ঘুরে ঘুরে। কই কোন কিছুই তো চোখে পড়ছে না। সবই তো ঠিকঠাক। তাহলে শব্দটি ছিল কিসের? তারপর থেকে তিনি এই বাড়িতে অস্বস্তি বোধ করেন। বিশেষ করে রাতের বেলা মনের মধ্যে ভয় ভয় কাজ করে। মনে হচ্ছে অস্বাভাবিক কিছু ঘটতে চলেছে।
আসলে উল্লিখিত ঘটনার সাথে মিলে যায় অনেকের। আবার প্যারানর্মাল বিশেষজ্ঞরাও বিষয়টিকে কোনভাবে হেলা করেন না। তারা বলেন, ব্যাপারটা মোটেও অবহেলা করার মতো নয়। হতে পারে আপনার ঘরে অশরীরী কিছুর আনাগোনা থাকতে পারে। এটা শুনে তো আবার হাসিও পাচ্ছে। কেননা বিজ্ঞানের এই যুগে ভূত! আবার অতিলৌকিক বিশেষজ্ঞ জন এল টেনি বলেছেন, আপনি নতুন বাড়িতে উঠেছেন, তখন কয়েকটি বিশেষ দিকে নজর রাখবেন। এর আলোকে পাঁচটি বিষয় তুলে ধরেছেন তিনি। যেমন : হঠাৎই আপনার মনে হল, পেছন দিক থেকে কেউ আপনার পিঠ স্পর্শ করছে। ফিরে দেখলেন, কেউ নেই। তখন একটু ভয় তো আপনি পাবেনই। দ্বিতীয়ত, যদি মনে হয় ঘরের আসবাবপত্র নিজে থেকেই স্থান পরিবর্তন করছে, তা হলে শুধু শুধু ভয় পাবেন না। টেনি বলছেন, এমন ক্ষেত্রে ব্যাপারটা ভৌতিক না-ও হতে পারে। কোন এক সময় আপনি নিজেই হয়তো সরিয়েছেন। যা পরে আপনি ভুলে গেছেন। আবার যদি দেখেন আপনার বিছানা তছনছ হয়ে গেছে অথবা চেয়ারটি উল্টে আছে, তাহলে ভয় তো পেতেই হবে আপনাকে। তৃতীয়ত নতুন বাসায় উঠে যদি শোনেন, এখানে কেউ আগে মারা গিয়েছেন অথবা এই জায়গায় আগে কবরস্থান কিংবা শ্মশানঘাট ছিল, তাহলে ভয় পাবেন না। কেননা মৃত্যু একটা স্বাভাবিক বিষয়। তবে ভয়ের বিষয় হলো পাপি ব্যক্তির আত্মা ওই স্থানেই ঘোরাঘুরি করে। এক্ষেত্রে বাসার স্থানটিতে কোন পাপি ব্যক্তির কবর কিংবা শ্মশান হয়ে থাকে, তাহলে তার অতৃপ্ত আত্মা সেখানে ঘোরাফেরা করতে পারে। চতুর্থত কোন এক নিস্তব্ধ দুপুরে আপনি বাড়িতে একা। এসময় থেমে থেমে বিদঘুট সব আওয়াজ শোনা যাচ্ছে বাড়িতে। তখন নিশ্চিত হতে পারেন, এটা ইঁদুর কিংবা ছুঁচোর শব্দ কি না! সর্বশেষ সর্বশেষ যে কারণটার কথা বলব, তা হলো- হঠাৎ করে ঘরে কোন বিশেষ গন্ধ পাচ্ছেন। এটা মোটেই সুবিধের মনে হচ্ছে না। প্রথমে খুঁজে দেখুন রান্না ঘরে কোন ‘আনকমন’ খাবার রান্না হচ্ছে কি না। যদি তা না হয়ে থাকে, তাহলে বুঝতে হবে গন্ধটার মধ্যে একটা ঘাপলা আছে! ভালো করে চিন্তা করে দেখুন এই গন্ধ মৃত কোন পরিচিত জনের গায়ের গন্ধের সাথে মেলে কি না?
এদিকে ভূত নিয়ে এতসব কথা বলা হলেও বিজ্ঞান কি বলে? এবার জেনে নিই ভূত নিয়ে বিজ্ঞানের কথা। আসলে ভূত তত্ত্ব নিয়ে মানুষ চিন্তা করেছে সভ্যতার আদিকাল থেকে। মৃত্যুর পরে আত্মার অস্তিত্ব বিদ্যমান থাকে কি থাকে না, তা নিয়ে দর্শনশাস্ত্র যতটা না ভেবেছে, তার চেয়ে অনেক বেশি ভেবেছে ভৌতিক গল্পের লেখকরা। আর পাঠকরাও যুগের পরে যুগ ধরে পড়ে গেছে ভূতের গল্প। কিন্তু শেষে একটাই প্রশ্ন ছিল ভূত কি সত্যিই আছে? বিজ্ঞানমনস্ক যুক্তিবাদীরা কোন সময়ই পাত্তা দেননি ভূতের অস্তিত্বে। তারা জোর দিয়ে বলেছেন, ভূত যে রয়েছে, তার প্রমাণ কি ? এর উত্তরে ভূতবাদীরা উল্টো প্রশ্ন করেছেন ভূত যে নেই, তারই বা প্রমাণ কি? এভাবে তর্কে বিতর্কে কেটে গেছে কালের পর কাল। এ ব্যাপারে বিশ্বখ্যাত পদার্থবিদ ব্রায়ান কক্স জানিয়েছেন, ভূতের অস্তিত্ব নেই। যদি তা থাকত, তা হলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় ধরা পড়ত। অতএব ভূত নেই এটাই সত্যি।

x