বাড়ছে পাহাড়ি লেবুর কদর

পড়ছে গরম-আসছে রমজান

মনজুর আলম : বোয়ালখালী

সোমবার , ৬ মে, ২০১৯ at ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ
99

মুসলমানদের সিয়াম-সাধনার মাস পবিত্র রমজান দোরগোড়ায়। মাসটি আসলেই মনে পড়ে যায় বোয়ালখালীর ঐতিহ্যবাহী রসালো লেবুর কথা। ইফতারিতে একগ্লাস লেবুর শরবত কিংবা এক ফালি লেবু না থাকলে যেন কি অপূর্ণতাই থেকে যায়। এর উপর গত কয়েকদিন যাবৎ ধরে পড়ছে ভ্যাপসা গরম। দিনরাত সূর্যের অকৃপণ তাপ ও অস্থানীয় গরমে অসহ্য হয়ে যাচ্ছে মানুষের জীবনযাপন পদ্ধতি। রোদ-বৃষ্টির লুকোচুরি খেলায় মাঝে মাঝে বৃষ্টির দেখা মিললেও গরমের উত্তাপ একটুও কমছে না বরং বেড়ে যাচ্ছে প্রতিদিন। একটানা কয়েকদিন অসহনীয় গরমে মানুষ ও অন্যান্য প্রাণিকুলের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ধনী ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ এই প্রচণ্ড গরমে একটু শান্তির জন্যে প্রযুক্তির আশ্রয় নিলেও তাতে পরিত্রাণ পাওয়া যাচ্ছে না কোনভাবেই। একটানা অসহ্য এ গরমে মানুষ এক গ্লাস লেবুর শরবতে ক্ষণিকের জন্যে হলেও প্রশান্তি পাওয়ার চেষ্টা করছেন। এতেও প্রাধান্য পাচ্ছে বোয়ালখালীর করলডেঙা ও জৈষ্টপুরা পাহাড়ি এলাকার লেবু।
বোয়ালখালী সদরে বাজার করতে আসা রেহেনা খাতুন নামের উপজেলার সৈয়দনগরের এক গৃহিণী জানান, আগে দশ টাকায় একজোড়া লেবু পাওয়া যেত। এখন সে দাম দ্বিগুণ হাঁকাচ্ছে বিক্রেতারা। উপায় নেই গরমে আর ইফতারে পরিবারের সবাই লেবু ও লেবুর শরবত পছন্দ করে বেশি। তাই বেশি দাম দিয়ে চাহিদার তুলনায় কম লেবু নিতে হলো আমাকে। তিনি ক্ষোভের সাথে বলেন-
রমজান ও গরমের উত্তাপ লেবু’র গায়েও ছড়িয়ে পড়লো আর কি। এর জবাবে আবু ছিদ্দিক নামের এক খুচরা বিক্রেতা বলেন, একদিকে প্রচণ্ড গরম ও আসন্ন রমজানকে সামনে রেখে এর চাহিদা বেড়ে যাওয়া অন্যদিকে অত্যধিক মজুরি খরচের কথা বলে বাগান মালিকরাই আগে- ভাগেই এর দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন তাই আমরা সস্তায় বিক্রি করবো কেমনে!
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার একেবারে পূর্ব সীমান্তে অবস্থিত বিশাল বিস্তীর্ণ আমুচিয়া, জ্যৈষ্ঠপুরা ও করলডেঙ্গা পাহাড় এবং পাহাড়ের পাদদেশে বিগত বেশ কয়েক বছর যাবৎ ধরে ব্যাপক চাষ হচ্ছে লেবুর । এবারও তার বার্ত্যয় ঘটেনি। এবার তা আরো বেড়েছে বলে জানা গেছে।
চাষিরা জানিয়েছে এবার ফলনও হয়েছে প্রচুর। অন্যবারের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি। এবার একদিকে উষ্ণ আবহাওয়ার অন্যদিকে রমজান মাস সামনে থাকায় চাষিরা দাম পাচ্ছে চাহিদামত। সব মিলিয়ে এখানকার লেবু চাষিদের এখন পোয়াবারো।
এখনকার এসব পাহাড়ে বেসরকারিভাবে ছোটবড় প্রায় ৩ শতাধিক বাগান গড়ে উঠেছে। এসব বাগানে এলাকার শত শত বেকার লোকের কর্মসংস্থান হচ্ছে। প্রতি দিন গড়ে ১০/১২ গাড়ি লেবু এসব বাগান হতে সরাসরি চলে যাচ্ছে চট্টগ্রাম, ঢাকা, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন পাইকারী বাজারে। তবে অভিযোগ রয়েছে, বোয়ালখালীর পাহাড়ি এলাকায় এসব চাষিরা লেবু চাষের মধ্যেদিয়ে কৃষিতে নীরব বিপ্লব ঘটিয়ে গেলেও স্থানীয় কৃষি বিভাগ তাদের কোন খোঁজ খবর নেয়ার গরজ মনে করেন না। অভিজ্ঞ মহল মনে করেন এদের জন্য একটু উন্নত প্রশিক্ষণ ও এখানে একটি হিমাগার তৈরিসহ সরকারি বিভিন্ন সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করতে পারলে এখানকার এসব চাষিরাই সারা দেশের জন্য মডেল হয়ে উঠবে।

x