বাড়ছে তেল চিনির দাম

মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের দুই মত

জাহেদুল কবির

শনিবার , ২৪ আগস্ট, ২০১৯ at ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ
185

খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে বেড়েই চলেছে ভোজ্য তেল ও চিনির দাম। একদিনের ব্যবধানে পাম তেলের দাম বেড়েছে মণপ্রতি ২৫০ টাকা। এছাড়া চিনির দাম বেড়েছে প্রতি মণে ১০০ টাকা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ সংকট কিংবা বাজেটে শুল্ক বাড়ার অজুহাত দেখিয়ে আমদানিকারকরা পণ্য দুটির দাম বৃদ্ধি করে যাচ্ছেন। তবে, অজুহাতের বিষয়টি নাকচ করে দিয়ে আমদানিকারকরা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে বিশেষ করে পাম তেলের মণপ্রতি বুকিং রেট ৮০ ডলার বেড়েছে। এছাড়া শুল্ক বাড়ানোর প্রভাবে তেল ও চিনির দাম বাড়ছে।
ভোগ্যপণ্যের বৃহৎ পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গতকাল পাইকারিতে প্রতি মণ (৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) চিনি বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৩০ টাকায়। অপরদিকে মণপ্রতি পাম তেলের দাম ২৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৩৪০ টাকায়।
দাম বৃদ্ধির কারণ জানতে চাইলে খাতুনগঞ্জের তেল এবং চিনির আমদানিকারক আর এম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আলমগীর পারভেজ দৈনিক আজাদীকে বলেন, আমদানি শুল্ক বাড়ার প্রভাবে তেল ও চিনির দাম বাড়ছে। এর মধ্যে পাম তেলের বুকিং রেট ৮০ ডলার পর্যন্ত বেড়েছে। তবে, চিনির দাম তুলনামূলকভাবে বাড়েনি। সিন্ডিকেট কিংবা কোনো ধরনের কারসাজি এখানে হচ্ছে না। খাতুনগঞ্জের তেল ব্যবসায়ী মেসার্স দ্বীন সিন্ডিকেটের স্বত্বাধিকারী জামাল উদ্দিন দৈনিক আজাদীকে বলেন, শুল্ককর বাড়ার পর থেকে চট্টগ্রামের বড় বড় আমদানিকারকরা তেল বিক্রি করছেন না। এছাড়া অনেক আমদানিকারক প্রচুর পরিমাণ তেল মজুদ করে রেখেছেন। এসবের কারণে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়েছে। আবার মিল মালিকরাও কম দামে তেল বিক্রি করছেন না। মিল মালিকরা চাইলে দাম কমে যাবে।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন দৈনিক আজাদীকে বলেন, তেল-চিনির দাম বাড়ার পিছনে একটিই কারণ, তা হলো সিন্ডিকেট। ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন সময় নানা ধরনের অজুহাতে দাম বৃদ্ধি করে যান। তারা এখন বলছেন, শুল্ক বেড়েছে তাই দামও বাড়ছে। শুল্ক ২ টাকা বাড়লে তারা দাম বাড়িয়ে দেন ১০ টাকা। এসব বিষয়ে আবার প্রশাসনেরও কোনো নজরদারি নেই। যেমন, গত কোরবানির আগে যখন মশলার দাম বাড়ছিল, তখন প্রশাসন বিভিন্ন জায়গায় সিগারেটের দোকানে অভিযান চালায়। এছাড়া শুধুমাত্র অভিযান চালালে হবে না, একইসাথে ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও কথা বলতে হবে। তাদের সমস্যাগুলো শুনতে হবে। তারপর সমাধানের পথ খুঁজতে হবে।
উল্লেখ্য, বাজেটে অপরিশোধিত চিনির টনপ্রতি আমদানি শুল্ক ২ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ হাজার টাকা করা হয়েছে। এছাড়া নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক ২০ শতাংশ বাড়িয়ে করা হয়েছে ৩০ শতাংশ। পরিশোধিত চিনির আমদানি শুল্ক দেড় হাজার টাকা বাড়িয়ে ৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। অন্যদিকে, আগে তেল পরিশোধনকারীরা তিন পর্যায়ে ৫ শতাংশ করে ভ্যাট আমদানি পর্যায়ে দিতেন। এখন সেই সুবিধা তুলে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এখন থেকে তিন পর্যায়ে ১৫ শতাংশ হারে ভ্যাট দিতে হচ্ছে।

x