বাহারি পোশাকের সমাহার মীরসরাইয়ের ঈদ বাজারে

মাহবুব পলাশ, মীরসরাই

বুধবার , ২২ মে, ২০১৯ at ৫:৩৯ পূর্বাহ্ণ
82

মাহে রমজানের শুরু থেকেই এবার মীরসরাই উপজেলার বাজার গুলাতে কেনাকাটা শুরু হয়েছে। তবে প্রায় বাজার ঘুরে দেখা যায় পুরুষের থেকে মহিলাদের কেনাকাটা বেশি। বলা যায় মহিলাদের ঈদ কেনাকাটা শুরু থেকেই চলছে। আবার গ্রামীন জনপদে সম্প্রতি পুরুষদের চেয়ে মেয়েরাই কেনাকাটায় বেশ এগিয়ে। আর ঈদ যতোই ঘনিয়ে আসছে বেড়ে চলছে ঈদের সকলেরই কেনাকাটার ধুম। ক্রেতা-বিক্রেতাদের মতে রোজার শুরু দশ (১০ দিন) দিনে বাজারে নতুন মাল নিয়ে আসে শুরুতে তাই দেখে ক্রয় করতে পারি। দিনে দিনে ক্রেতা বেড়ে যাওয়ার কারনে সকলেই সেরা ও আনকমন পোষাকটিই কিনে নিতে চায় সবার আগে।
মীরসরাইয়ে উপজেলার মীরসরাই বাজার, বারৈইয়ার হাট বাজার, জোরারগঞ্জ বাজার, মিঠাছড়া বাজার, নিজামপুর বাজার সহ প্রতিটি বাজার এখন মার্কেট ফুটপাত ঘিরে জমে ওঠেছে আসন্ন ঈদের কেনাকাটা।
মীরসরাইয়ে বিভিন্ন মার্কেটে এখন শিশু আর মহিলা ক্রেতাদেরই বেশী দেখা যাচ্ছে । দাকানগুলোতে আলোকসজ্বা সহ বিভিন্ন বাহারি সাজে শাড়ি, থ্রীপিচই বেশী সাজানো। আর তাতে ক্রেতারা ভিড় করছেন পছন্দের পোশাক খুঁজতে। এদের মধ্যে অনেক বিক্রেতারা বলেন, ঈদের কেনাকাটা বেশ ভালোই জমে ওঠেছে । মিঠাছরা বাজারের আলআমিন সেই প্রাচীন কাল থেকেই দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত মানুষের ভরসা। এবার ও এর ব্যতিক্রম নয়। একই বাজারে আলআমিনের এখন একাধিক শোরুম ও । এই পুরোনো বাজারের পুরোনা সওদাগর হাসান বলেন শুরু থেকেই আমরা সাধারন মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বিবেচনাতেই পন্য সাজাই। এবার ও একইভাবে চলছে বেচাকেনা। উপস্থিত জনৈক ক্রেতা ফাহমিদা আক্তার বলেন আমার বাবা, মা এর পর আমরা ও এখানকার ক্রেতা। এবার ও নতুন নতুন কালেকশান দেখতে পাচ্ছি। ফ্যাশন এর চেয়ে আমরা সাশ্রয়ী মূল্য ও একদামের জন্যই আলআমিন সেরা। একই বাজারের উদীয়মান অপর ব্যবসায়ী খাজা ক্লথ ষ্টোর সাম্প্রতিক বছরগুলোতো নিত্যনতুন বাহারী পোশাকের সমাহারের জন্য বেশ আলোচিত। উক্ত দোকানের ব্যবসায়ী হাজী সাইদুল হক বলেন , গেল বছরগুলোতে ভারতীয় কালেকশান এর প্রতি ঝোঁক ছিল এবার সকল শ্রেণীর পোষাকের প্রতিই আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। তাই একমুখি ঝোক না থাকায় বিক্রেতারা ও ক্রেতাদের পছন্দে ভূমিকা রাখতে পারছে।
ঈদের কেনাকাটা করার জন্য মিঠাছরা বাজারে খাজা মার্কেটে আসা মাকসুদা আক্তার পিংকি বলেন, ঈদের এখনও অনেক দিন বাকি। তবু এখনও যে কয়টা দোকানে গিয়েছি তার প্রত্যেকটি দোকানেই ক্রেতাদের প্রচুর ভিড়। বিক্রেতারাও সেবা দিতে প্রস্তুত। “স্যার কোনটা পছন্দ হয় দেখেন। সাইজ দেওয়া যাবে বলে সেলসম্যান প্রস্তুতই থাকে”।
বারইয়াহাটের অন্যান্য দোকানের চেয়ে বরাবরই লাকী ক্লথ এর উপর ঝোঁক থাকে সমসময়ই। এবার ও এর ব্যতিক্রম নয়, মীরসরাই সদরে পান্না ক্লথ। তবে নতুন নতুন অনেক দোকান এবং গড়ে উঠায় মাকের্টে বেশ প্রতিযোগিতা ও লক্ষনীয়। এতে ক্রেতাগনই লাভবান হচ্ছে।
সব মিলিয়ে উপজেলার সকল হাটবাজারেই জমে উঠেছে ঈদের বাজার।
এছাড়াও মীরসরাই উপজেলার বিভিন্ন মার্কেটে গিয়ে দেখা যায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য পুরো মার্কেট সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত করছেন প্রতিটি দোকানদার। কোনো রকম অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সে দিকে সর্বদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে প্রতিটির মার্কেটের দোকানদার।

x