বাসযোগ্য চট্টগ্রাম বিনির্মাণে করণীয়

প্রকৌশলী জাহিদ আবছার চৌধুরী

রবিবার , ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ at ৮:২৭ পূর্বাহ্ণ
143

সাগর, নদী, বন আর পাহাড়ঘেরা চট্টগ্রামের নাম শুনলে এখন আর প্রকৃতির ‘সুন্দর রূপ’ ভেসে ওঠে না; বরং কল্পনায় ভেসে আসে ‘যানজট’ ‘পাহাড়ধসে বিপন্ন মানবতা’ ‘আবাসিক এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বাণিজ্যিক ভবন’ ‘জলাবদ্ধ’ এক নগরীর ছবি। হাঁটু থেকে কোমরপানি ডিঙিয়ে হাঁটছে মানুষ। ডুবে থাকা রাস্তায় খুব সাবধানে চলছে গাড়ি। এক দশকের বেশি সময় ধরে গণমাধ্যমে চট্টগ্রামের এমন ছবিই প্রাধান্য পেয়েছে। ব্যতিক্রম হয়নি এবারও। ভরা বর্ষায় প্রতিনিয়ত জলাবদ্ধতার আতঙ্কে থাকে নগরবাসী। বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে এই জনদুর্ভোগ।‘ডুবে থাকা’ চট্টগ্রাম নগরীর ছবি আগামী বর্ষায় আরও কয়েকবার দেখা যাবে সন্দেহ নেই।
সাম্প্রতিক সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় পাহাড়ধসের ঘটনা আমাদের ভাবিয়ে তোলে। পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় গত কয়েক বছরে ১৫০ জনের বেশি মানুষ মারা গেছেন। এখানকার মানুষের মধ্যে ভয়, আতঙ্ক কাজ করছে- যেকোনো সময় আবারও ভারী বৃষ্টি হতে পারে। আবারও এ ধরণের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে । কেন এ ধরণের ঘটনা ঘটছে? এটা কি শুধুই বৃষ্টিপাতের ফলাফল, নাকি অন্য কারণ আছে?
চট্টগ্রাম শহরের যানজট দিনদিন তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। এর ফলে একদিকে যেমন জনদুর্ভোগ অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে অন্যদিকে দেশের অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। ২০১৫ সালে আমার ব্যক্তিগত প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান হতে পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা গেছে যানজটের ফলে চট্টগ্রামের শুধুমাত্র একটি প্রধান রুটেই (কালুরঘাট, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, ২নং গেইট, জিইসি, ওয়াসা, টাইগার পাস, আগ্রাবাদ, বন্দর, পতেঙ্গা সী বিচ, রুট) বছরে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৪০০ কোটি টাকা।
উপরের বিষয় গুলো হতে আজ ‘আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক স্থাপনা – সমস্যা ও বর্তমান বাস্তবতার করণীয় নিয়ে আলোকপাত করতে চাই।
চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা বাণিজ্যিক ভবন সরিয়ে নেওয়ার একটি প্রক্রিয়া চলছে। অননুমোদিত স্থাপনা ও আবাসিক এলাকার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ তথা পরিপূরক নয় এমন স্থাপনাগুলো সরিয়ে আবাসিক এলাকার সুষ্ঠু সামাজিক পরিবেশ ফিরে আসুক, এটা সবারই চাওয়া। তবে সেটা করা উচিত নগর-পরিকল্পনার বর্তমান বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে।
আধুনিক নগর-পরিকল্পনায় আবাসিক এলাকা শুধু আবাসনের ব্যবস্থা নয়, বরং একটি ‘টেকসই সামাজিক’ পরিবেশ। বাসিন্দাদের চাহিদা অনুযায়ী সামাজিক সুযোগ-সুবিধা, গণপরিসর, প্রাত্যহিক কেনাকাটা, প্রাথমিক শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, বাজার ইত্যাদি সুবিধা থাকে। আমাদের পরিকল্পিত আবাসিক এলাকাগুলো নিয়ে কিছু প্রশ্ন থেকেই যায়। প্রথমত, আবাসিক এলাকাগুলো যে-সংখ্যক বাসিন্দার বিবেচনায় তৈরি করা হয়েছিল, সেই অনুপাতে সামাজিক সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছিল কি? অথবা, বর্তমানে যত মানুষ বাস করে, তাদের চাহিদা অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা আছে কি?
ধরা যাক, নাসিরাবাদ আবাসিক এলাকার কথা। কেমন ছিল এর পরিকল্পনা? ১৯৬০ সালে চট্টগ্রাম কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি প্রায় ৪৫ একর জমির উপর উচ্চবিত্তদের আবাসনের জন্য নাসিরাবাদ এলাকায় প্রায় ১৭৫ টি প্লট তৈরি করে। মূলত সরকারি আমলা, মন্ত্রী, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন পেশাজীবী ও সমিতির সদস্যদেরকে এসব প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়। শুরুতে এক বিঘার একেকটি প্লটের সামনে বাগানসহ দোতলা বাড়ির কথা বিবেচনা করে এই আবাসিক এলাকা ৫ থেকে ৬ হাজার মানুষের জন্য পরিকল্পনা করা হয়। সেখানে ৭৪ শতাংশ ভূমি আবাসিক প্লট, ৫ দশমিক ১ শতাংশ উন্মুক্ত স্থান, ১৮ শতাংশ রাস্তা, ১ দশমিক ৭ শতাংশ মসজিদ এবং ২ দশমিক ২ শতাংশ স্কুলের ব্যবস্থা রেখে পরিকল্পনা করা হয়। সে সময় অন্যান্য সামাজিক সুযোগ-সুবিধা অথবা প্রাত্যহিক জীবনের চাহিদা অনুযায়ী কেনাকাটা, সামাজিক কর্মকাণ্ড এখানে বিবেচনায় আনা হয়নি। বিশুদ্ধ আবাসিক এলাকার এই ধারণা বর্তমানে অচল, একে নিরুৎসাহিত করা হয়। কারণ, এতে সোশ্যাল সেগ্রিগেশন বাড়ে, বৈষম্য তৈরি হয়, শহরের রাস্তার ওপর মাত্রাতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়।
আবাসিক এলাকায় অনিয়ন্ত্রিত ও অপরিকল্পিতভাবে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের কারণে কী ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, তা নিয়ে প্রচুর গবেষণা হয়েছে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) গবেষণা জার্নালে এ বিষয়ে, গবেষণালব্ধ যেসব ফলাফল এসেছিল তার মধ্যে নিচের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ।
প্রথমত, দফায়-দফায় সরকারি সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কারণে আবাসিক এলাকার প্লট বিভক্ত হয়েছে। বেশির ভাগ এক বিঘার প্লট ভাগ হয়ে পাঁচ কাঠার প্লটে পরিণত হয়েছে, ইমারতের উচ্চতা দুই তলা থেকে ছয় তলায় রূপান্তরিত হয়েছে। এতে এলাকায় পরিবারের সংখ্যা ও মোট জনসংখ্যা বেড়েছে। কিন্তু গণপরিসর ও নাগরিক সুবিধা আনুপাতিক হারে বাড়েনি বরং অনেক ক্ষেত্রে কমেছে। আজ নাসিরাবাদ আবাসিক এলাকার পঁচিশ হাজার মানুষের জন্য আইনত সেই পরিমাণ সুযোগ-সুবিধা আছে, যা পাঁচ হাজার মানুষের জন্য ছিল।
দ্বিতীয়ত, কোনো গবেষণা ছাড়া এলাকার সত্যিকার চাহিদা নিরূপণ না করে দুই নম্বর গেইট অভিমুখী মূল সড়কের ধারে অসংখ্য প্লট কোনো ধরনের নীতিমালা ছাড়াই বাণিজ্যিক প্লট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে এমন ধরনের ভূমি বা ভবন ব্যবহার করা হয়েছে, যা আবাসিক এলাকার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ভূমি বা ভবন ব্যবহারের ধরণ এমন যে শহরের অন্যান্য এলাকা থেকেও মানুষ ও গাড়ি আসতে উৎসাহিত করে। এই রাস্তাগুলো ধারণক্ষমতার তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি গাড়ি বহন করে। প্রধান সড়কে দেখা যায়, ৫৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ গাড়ি এলাকার বাইরে থেকে আসে।
তৃতীয়ত, একটা গবেষণা থেকে দেখা যায়, ৪০ দশমিক ৬৮ শতাংশ প্লটে পার্কিং থাকলেও তা অনুমোদিত পার্কিংয়ের তুলনায় কম, পার্কিংয়ের স্থান বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত হয়। শুধু ১২ দশমিক ১৭ শতাংশ প্লটে বেসমেন্ট পার্কিং আছে আর ৪৬ দশমিক ৬১ শতাংশ প্লটের আইনসম্মত পার্কিং ছিল না।
নগর-পরিকল্পনার সূচক অনুযায়ী, ১২ হাজার ৫০০ মানুষের জন্য কমপক্ষে তিনটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রয়োজন হবে। সুতরাং নাসিরাবাদ আবাসিক এলাকায় পঁচিশ হাজার মানুষের জন্য শুধু স্থানীয় প্রয়োজন মেটাতে ৬ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় দরকার।
বিশুদ্ধ আবাসিক এলাকা উন্নয়নের ধারণাটি এখন সেকেলে হিসেবে বিবেচিত। এখন একে নিরুৎসাহিত করা হয়; অন্ততপক্ষে ৩০ শতাংশ প্লটের অনাবাসিক-মিশ্র ব্যবহারকে উৎসাহিত করা হয়। তবে সেসব ব্যবহার অবশ্যই আবাসিক ব্যবহারের সঙ্গে পরিপূরক হতে হবে। আধুনিক নগর-পরিকল্পনায় স্মার্টসিটি, টিওডি ইত্যাদি ধারণাও মিশ্র ভূমি ব্যবহারের কথা বলে। এর কারণ কী? গাড়িশিল্প বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে উন্নত বিশ্বে একসময় ব্যক্তিগত গাড়িনির্ভর শহর তৈরি করা হতো। ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ‘একক-কার্যভিত্তিক (গড়হড়- ভঁহপঃরড়হধষ)’এলাকা গড়ে তোলার মাধ্যমে নগর-পরিকল্পনা করা হতো। ফলে আবাসিক, বাণিজ্যিক, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, বিনোদন, কেনাকাটার জন্য মার্কেট, বাজার, শিল্প, প্রাতিষ্ঠানিক ইত্যাদি প্রতিটি এলাকা আলাদা করে পরিকল্পনা ও উন্নয়ন করা হতো। ফলে মানুষের আবাসিক এলাকা তার কর্মক্ষেত্র, সামাজিক ও দৈনন্দিন ব্যবহার্য কাজের জায়গা থেকে আলাদা হয়ে যায়। প্রতিদিনের কাজ সম্পাদনের জন্য মানুষ সড়ক ও গাড়িনির্ভর হয়ে পড়ে।
আধুনিক নগর-পরিকল্পনায় পরস্পর পরিপূরক এমন ধরনের ভূমি ব্যবহারগুলোকে কাছাকাছি রেখে ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা প্রণয়ন করাকে উৎসাহিত করা হয়ে থাকে। এতে গাড়ি ব্যবহারের উপর নির্ভরতা কমে এবং নগরকে পথচারীবান্ধব হিসেবে গড়ে পরিকল্পনা ও উন্নয়ন করা হয়। বর্তমানে পথচারীবান্ধব শহর, জ্বালানি সাশ্রয়ী যোগাযোগ ব্যবস্থা, মিশ্র ভূমি ব্যবহার ইত্যাদি স্মার্ট সিটির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
আবাসিক এলাকায় অননুমোদিত ভূমি ভবন ব্যবহার বন্ধ হোক, এটা আমরা সবাই চাই। কিন্তু আবাসিক এলাকায় বসবাসকারী জনগণের কিছু সামাজিক ও নিত্যদিনের প্রয়োজন আছে, যা ওই এলাকায় স্থানীয়ভাবেই মেটাতে হবে। আবাসিক এলাকায় পরস্পরের পরিপূরক ভূমি ব্যবহারগুলোকে কাছাকাছি রেখে ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা প্রণয়ন করাকে আধুনিক নগর-পরিকল্পনা উৎসাহিত করে থাকে।
চট্টগ্রাম শহরে আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের চাহিদার কথা চিন্তা করে বিভিন্ন নাগরিক সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, খেলার মাঠ বা জলাশয়, উন্মুক্ত স্থান, উপাসনালয় ও নাগারিক সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ধরণের তালিকাও রয়েছে। এমনকি কোন ধরণের সুবিধা কী পরিমাণে রাখতে হবে তা জনসংখ্যার অনুপাতের সূচকের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। এর জন্য ভূমি বা ভবন ব্যবহার কত বর্গমিটার হবে, তা-ও উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকারের প্রণীত ‘বেসরকারি আবাসিক এলাকার ভূমি উন্নয়ন বিধিমালা ২০০৪’ -তে এলাকার সর্বোচ্চ জনসংখ্যা বিবেচনায় নিয়ে সামাজিক সুযোগ-সুবিধা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা, উন্মুক্ত স্থান, বাসিন্দাদের কেনাকাটার স্থান ইত্যাদির সূচকসহ তফসিল করে দেওয়া হয়েছে। সরকারী আবাসিক এলাকা এর ব্যতিক্রম হওয়ার কোনো কারণ নেই।
বর্তমান বাস্তবতা ও আধুনিক নগর-পরিকল্পনার ধারণা বিবেচনায় নিয়ে আবাসিক এলাকাগুলোর ভূমি ও ভবন ব্যবহারের জন্য পেশাজীবীদের পরামর্শে নীতিমালা প্রণয়ন করা প্রয়োজন। বর্তমানে উন্নত বিশ্বের শহরগুলো মিশ্র ভূমি ব্যবহারকে প্রাধান্য দিয়ে পরিকল্পনা করে থাকে। গণপরিবহন, পথচারীবান্ধব নিরাপদ ফুটপাত, সামাজিকভাবে দেখা হওয়ার মত স্থানসহ নানা ধরনের সুযোগ-সু্‌িবধা সৃষ্টি করার মতো পরিকল্পনা করে। কোনো কোনো শহরে আইন করে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অনাবাসিক ভূমি ব্যবহারের কথা বলে দেওয়া হয়। সেই পরিমাণটি ওই শহরের স্থানীয় সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে বেঁধে দেওয়া হয়। শুধু প্রশাসনিক আদেশ দিয়ে সমস্যার সমাধান করা যাবে না, বরং সমস্যা আরও বাড়বে। তাই বর্তমান বাস্তবতায় যে বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে হবে তা হলো-
আবাসিক এলাকার সঙ্গে পরিপূরক নয় এমন অননুমোদিত ভূমি ও ভবন ব্যবহার বন্ধ করা: এলাকায় বর্তমানে বসবাসরত মানুষের চাহিদা অনুসারে এবং আবাসিক এলাকার সঙ্গে পরিপূরক এমন প্রাত্যহিক প্রয়োজনীয় কাজ ও সামাজিক কাজের সুযোগ রেখে নীতিমালা প্রণয়ন করা এবং এই কাজে নগর-পরিকল্পনাবিদ, স্থপতি, প্রকৌশলীসহ অন্যান্য পেশাজীবীর সাহায্য নেওয়া। মাঠ পর্যায়ে প্লট-টু-প্লট জরিপ করার মাধ্যমে এবং প্রস্তাবিত সূচকের আলোকে এই নীতিমালা প্রণীত হবে।
প্রস্তাবিত নীতিমালার আলোকে প্রয়োজনীয় সামাজিক সুযোগ-সুবিধার সংস্থান করতে হবে। বর্তমানে অনুমোদনহীন অথচ নীতিমালা অনুসারে আবাসিক এলাকার জন্য প্রয়োজন এমন স্থাপনাকে প্রচলিত নিয়ম অনুসারে অতিরিক্তি ফি প্রদানের মাধ্যমে অনুমোদন করা যেতে পারে।
সেবা প্রদানের স্থানগুলো যেমন স্বাস্থ্যসেবা, উপদেষ্টা ফার্ম ইত্যাদি আবাসিক এলাকায় প্রয়োজন আছে, সেক্ষেত্রে তার জনবল, সেবা গ্রহণকারীর সংখ্যা ও প্রতিষ্ঠানের স্পেস নির্দিষ্ট করে দেওয়া। তবে সেবা গ্রহণের জন্য অন্য এলাকা থেকে মানুষ আসবে এমন ধরনের বড় স্থাপনা তৈরির জন্য ভূমি ব্যবহার অনুমোদন না দেওয়া।
প্লটের অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী বেসমেন্ট বা ভূতলের গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা সুনিশ্চিত করা, তার স্থলে অন্য কোনো কাজে ব্যবহৃত হলে সেগুলোর ব্যাপারে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া।
বর্তমান ‘মহানগর ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ২০০৮’-এর মান নিয়ে নতুন করে গবেষণা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বর্তমানে সার্বিক কারণে আবাসিক এলাকার জনসংখ্যার সার্বিক জনসংখ্যার ঘনত্ব অনেক বেশি হয়ে যায়, যা সব ধরণের সামাজিক ও নাগরিক সেবার উপর মাত্রাতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।
শেষ কথা হচ্ছে, আবাসিক এলাকার সঙ্গে পরিপূরক নয় এমন বাণিজ্যিক স্থাপনাসমূহ সরিয়ে নেওয়ার সাথে সাথে অননুমোদিত ভূমি বা ভবন ব্যবহার বন্ধ করতে হবে, তেমনি আবাসিক এলাকাগুলোকে সামাজিকভাবে টেকসই করার জন্য সে এলাকার জনগণের চাহিদা বিচার-বিশ্লেষণ করে সামাজিক সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করতে হবে। এটাই পথ।
লেখক: প্রকৌশলী, নগর পরিকল্পনাবিদ ও প্রকৌশলী সংগঠক।

x