বান্দরবানে মারমা সম্প্রদায়ের ৪দিন ব্যাপী সাংগ্রাই উৎসব শুরু

বান্দরবান প্রতিনিধি

রবিবার , ১৪ এপ্রিল, ২০১৯ at ৭:৩৮ পূর্বাহ্ণ
13

বৈসাবী উৎসবে যেন রং লেগেছে পাহাড়ে। পাহাড়ের ক্ষুদ্র-নৃজনগোষ্ঠীদের প্রধান সামাজিক উৎসবকে ঘিরে নতুন সাজে সেজেছে পাহাড়ি পল্লীগুলো। গতকাল শনিবার বান্দরবানে মারমা সম্প্রদায়ের ৪দিনব্যাপী সাংগ্রাই উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্ধোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি।
উদ্বোধনের পর স্থানীয় রাজারমাঠ থেকে “সাংগ্রাই উৎসবে মিলবো আমরা সকলে একত্রিত হয়ে, শুদ্ধ হবো মৈত্রী বারি বর্ষণে: প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রায় মারমা, তঞ্চঙ্গ্যা, চাকমা, ত্রিপুরা, ম্রো, চাক, খেয়াং, খুমী, বম, লুসাই, পাঙ্খোয়া’সহ ক্ষদ্র-নৃ-গোষ্ঠী বিভিন্ন সম্প্রদায়ের তরুণ-তরুণী এবং শিশু-কিশোর’সহ নারী-পুরুষেরা নিজস্ব সাজসজ্জা, পোষাকে ব্যানার ফেস্টুন, প্লেকার্ড নিয়ে অংশ নেয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে স্থানীয় রাজারমাঠে মারমা সম্প্রদায়ের বয়স্ক নারী-পুরুষদের প্রণাম করা বয়স্ক পূজা এবং শিশুদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং বলেন, ধর্ম যার যার, কিন্তু উৎসব সবার। সাংগ্রাই মারমা সম্প্রদায়ের সামাজিক উৎসব হলেও এ উৎসবে সবগুলো পাহাড়ি জনগোষ্ঠী অংশ নেয়। পাহাড়ি-বাঙালি সকলে উৎসবটি দেখতে ভীড় জমায়। এ উৎসবের মাধ্যমে পাহাড়ের মানুষ পুরনো বছরের সকল দুঃখ কষ্ঠগুলো ভুলে গিয়ে ধূয়ে মূছে নতুন বছরকে বরণ করে।
সাংগ্রাই উৎসব উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক কোকোচিং মারমা বলেন, উৎসবের দ্বিতীয়দিন রোববার দুপুরে উজানী পাড়াস্থ সাঙ্গু নদীচরে হবে পবিত্র বুদ্ধমূর্তি স্নান অনুষ্ঠান। রাজগুরু বিহার থেকে সারিবদ্ধভাবে বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরুরা (ভান্তেরা) কষ্টি পাথর এবং স্বর্ণের বৌদ্ধ মূর্তি সহকারে পায়ে হেটে নদীচরে গিয়ে সমবেত হবে। সেখানে সম্মলিত প্রার্থনায় বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ এবং তরুণ-তরুণী, শিশু-কিশোররা অংশ নেয়। রাতে পাহাড়ি পল্লীগুলোতে চলবে তরুণ-তরুণীদের পিঠা তৈরির প্রতিযোগিতা। আগামী ১৫ ও ১৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে মৈত্রী পানি বর্ষণ পানি খেলা। সাংগ্রাই উৎসবের মূল আকর্ষণ- জলকেলী উৎসবের মাধ্যমে পাহাড়ি তরুণ-তরুণীরা সর্ম্পকের সেতু বন্ধন তৈরি করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। ঐদিন সন্ধ্যায় রাজবাড়ি মাঠে অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এছাড়াও বৌদ্ধ বিহারগুলোতে চলবে হাজারো মঙ্গল প্রদ্বীপ প্রজ্বলন এবং ধর্মীয় প্রার্থণা।
প্রসঙ্গত: বাংলা নববর্ষ বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠানকে পাহাড়ি সম্প্রদায়েরা ভিন্ন ভিন্ন নামে পালন করে আসছে বহুবছর ধরে। মারমা ভাষায় সাংগ্রাই, ত্রিপুরা ভাষায় বৈসু, তঞ্চঙ্গ্যা ভাষায় বিসু এবং চাকমা ভাষায় বিজু’র সংক্ষেপিত রূপ হচ্ছে বৈসাবী। পাহাড়ী চার সমপ্রদায়ের প্রধান এই সামাজিক উৎসবকে সমষ্টিগত ভাবে বৈসাবি বলা হয়। পাহাড়ে বর্ষবরণ উৎসব চলবে আগামী ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত।

x