বান্দরবানে ভান্তের বিরুদ্ধে খ্রিস্টান মিশনের জমি দখলের অভিযোগ

বান্দরবান প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার , ১৩ জুন, ২০১৯ at ৫:১৬ পূর্বাহ্ণ
8

বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে রামজাদীর প্রতিষ্ঠাতা বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরু উচহ্লা ভান্তের বিরুদ্ধে খ্রিস্টান ক্যাথলিক মিশনসহ ২০ জনের নামীয় একশ’ একর বিভিন্ন শ্রেণির জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বুধবার দুপুরে বান্দরবান শহরের একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা এমন অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ভুক্তভোগী বান্দরবান ফাতিমা রাণী ক্যাথলিক মিশন গীর্জার ফাদার জেরোম ডি’রোজারিও, বান্দরবান বোমাং সার্কেলের মৌজা হেডম্যান রাজপুত্র নংমংপ্রু মারমা, জেলা বড়ুয়া কল্যাণ সমিতির প্রেসিডেন্ট দিলীপ বড়ুয়া, পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ফিলিপস ত্রিপুরা, আমেনা বেগম প্রমুখ।
ফাদার জরোম ডি’রোজারিও অভিযোগ করে বলেন, ‘উচহ্লা ভান্তে একজন ধর্মীয় গুরু। তারপরও তিনি কী ভাবে আরেকটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জমি জোরপূর্বক দখল করে নেন, বিষয়টি আমার বোধগম্য হয় না। ক্যাথলিক মিশনের ৫.৫৭ একর জমি উচহ্লা ভান্তের পিতার কাছ থেকে কেনা হয়েছিল। এই জমি থেকে উৎপাদিত ধান দিয়ে চলতো মিশনের শিশুদের খাওয়া খরচ। ২০১৪ সালে রাতের আঁধারে এসব জমি দখল করে নেয়া হয়। অবৈধ দখল উচ্ছেদ করতে আদালতে একটি মামলাও চলমান রয়েছে।’
হেডম্যান রাজপুত্র নংমংপ্রু বলেন, ‘আমার পিতা প্রয়াত রাজা মংশৈপ্রু চৌধুরীর আমল থেকেই জমিটি আমাদের দখলে ছিলো। ৮ একর জায়গায় আমাদের ধানের চাষাবাদ ছিলো। কিন্তু গভীর রাতে জমি দখল করে নিয়েছেন উচহ্লা ভান্তে। শুধু আমার জমি নয়, পার্শ্ববর্তী ২০ জনের নামীয় প্রায় একশ’ একর জমি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন তিনি। আমরা জমি ফিরে পেতে আদালতের আশ্রয় নিয়েছি।’
জেলা বড়ুয়া কল্যাণ সমিতির প্রেসিডেন্ট দিলীপ বড়ুয়া বলেন, ‘রামজাদীর প্রতিষ্ঠাতা উচহ্লা ভান্তে একজন বৌদ্ধ ধর্মীয় গুরু। ধর্মীয় নেতা হিসাবে আমরা তাকে সম্মান করি। কিন্তু ধর্মীয় নেতা হওয়ার পরও তিনি বড়ুয়া সমিতিসহ ২০ জনের জমি অবৈধভাবে দখল করে নিয়েছেন। যে কারণে তার সঙ্গে নিজের ধর্মের লোকজনের বিরোধ চলছে। ইতোপূর্বে ওই জায়গায় ১৪৪ ধারা বলবৎ ছিলো, কিন্তু তিনি সেটিও অমান্য করেছেন। উচ্ছেদ অভিযানে যাওয়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ওপরও হামলা চালায় তার অনুসারীরা। বিষয়গুলো নিয়ে আদালতে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে তার বিরুদ্ধে।’

x