বান্দরবানে ডিসি-ইউএনও সহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মাদরাসা অধ্যক্ষের স্ত্রীর মামলা

অধ্যক্ষের দুর্নীতির ঘটনা তদন্তে উদ্যোগ

বান্দরবান প্রতিনিধি

বুধবার , ৯ অক্টোবর, ২০১৯ at ৮:৫৭ অপরাহ্ণ
438

বান্দরবানে জেলা প্রশাসক কর্তৃক বিচার নিষ্পত্তির জন্য গ্রহণ এবং নাইক্ষ্যছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-এর তদন্তের নির্দেশ বেআইনী দাবি করে মাদরাসা অধ্যক্ষের দ্বিতীয় স্ত্রী রোজিনা আক্তার বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন।

মামলায় অন্য আসামীরা হলেন আবু ইউনুছ, ছৈয়দ নুর, মো. ইসমাইল, আলমগীর, আব্দুল হাকিম, মুহাম্মদ আবু বক্কর ছিদ্দিক। তাদের মধ্যে মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সদস্য, অভিভাবক রয়েছেন।

জানা গেছে, জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি মদিনাতুল উলুম মাদরাসার দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষ সৈয়দ হোসেনের দ্বিতীয় স্ত্রী রোজিনা আক্তার গত ৩০ সেপ্টেম্বর বান্দরবান সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলাটি দায়ের করেন।

আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে ৬ অক্টোবর বিবাদীদের কাছে নোটিশ পাঠায়।

আগামী ৩০ অক্টোবর মামলার পরবর্তী তারিখে বিবাদীদের আদালতে উপস্থিত হয়ে বাদীর আনীত অভিযোগের উত্তর দিতে নির্দেশনা জারি করেছে আদালত।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদরাসায় সংঘাত ও অনিয়ম, দুর্নীতির ঘটনা তদন্তের উদ্যোগ নেয়ায় নাইক্ষ্যংছড়ি ইউএনওকে এবং অভিযোগ যাতে বিচার নিষ্পত্তি না করা হয় তার জন্য জেলা প্রশাসককে আসামী করে ৮ জনের বিরুদ্ধে অধ্যক্ষের পরামর্শে দ্বিতীয় স্ত্রী আদালতে মামলা করেছে।

অন্য আসামীরা ইতিপূর্বে অধ্যক্ষ সৈয়দ হোসেনের অনিয়ম, দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছিলেন। অভিযোগের কারণে বাদী রোজিনা আক্তার ও তার স্বামী সৈয়দ হোসেনের সম্মান ক্ষুণ্ন এবং আইনানুগ অধিকার খর্ব হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

এদিকে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ সৈয়দ হোসেন নিজের অনিয়ম, দুর্নীতি ঢাকতে দ্বিতীয় স্ত্রীকে দিয়ে মামলা করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সহকর্মী শিক্ষকবৃন্দ।

মামলার আসামী অবদুল হাকিম, সৈয়দ নুর বলেন, প্রত্যেক নাগরিক আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। বিজ্ঞ আদালতে হাজির হয়ে অধ্যক্ষ সৈয়দ হোসেনের অনিয়ম, দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরা হবে। অধ্যক্ষ সৈয়দ ইতোপূর্বে দুটি তদন্তে দোষী প্রমাণিত হয়েছেন। বর্তমানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আরো একটি অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। সেই তদন্তে ফেঁসে যাচ্ছেন জেনে অধ্যক্ষ সৈয়দ দ্বিতীয় স্ত্রীকে দিয়ে আদালতে মামলাটি দায়ের করেছেন।

মদিনাতুল উলুম মডেল ইন্সটিটিউট আলীম মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা আবু বক্কর ছিদ্দিক বলেন, ‘ইতোপূর্বে জেলা প্রশাসকের পত্র জালিয়াতি করেও ক্ষান্ত হয়নি অধ্যক্ষ সৈয়দ। মাদরাসার অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে দ্বিতীয় স্ত্রী রোজিনাকে বাদী করে ডিসি, ইউএনও সহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা করায় শিক্ষক, অভিভাবকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

এ বিষয়ে অধ্যক্ষ সৈয়দ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, অধ্যক্ষ সৈয়দ হোসেনের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, শিক্ষকদের সাথে গ্রুপিং তৈরি, ছাত্রদের উসকানি দিয়ে অন্যান্য শিক্ষকদের ওপর হামলাসহ নানান অভিযোগ করে আসছিলেন শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়রা।

x