বান্দরবানে ডিসি-ইউএনওসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মাদরাসা অধ্যক্ষের স্ত্রীর মামলা

বান্দরবান প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার , ১০ অক্টোবর, ২০১৯ at ১০:৩২ পূর্বাহ্ণ
17

বান্দরবানে জেলা প্রশাসক কর্তৃক বিচার নিষ্পত্তির জন্য গ্রহণ এবং নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) তদন্তের নির্দেশ বেআইনি দাবি করে মাদরাসা অধ্যক্ষের দ্বিতীয় স্ত্রী রোজিনা আক্তার বাদী হয়ে আদালতে মামলা করেছেন। মামলায় অন্য আসামিরা হলেন- আবু ইউনুছ, সৈয়দ নুর, মো: ইসমাইল, আলমগীর, আবদুল হাকিম, মুহাম্মদ আবু বক্কর ছিদ্দিক। এদের মধ্যে মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সদস্য, অভিভাবক, সচেতন নাগরিক রয়েছে।
জানা গেছে, জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি মদিনাতুল উলুম মাদরাসার ‘দুর্নীতিবাজ’ অধ্যক্ষ সৈয়দ হোসেনের দ্বিতীয় স্ত্রী রোজিনা আক্তার গত ৩০ সেপ্টেম্বর বান্দরবান সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে ৬ অক্টোবর বিবাদীদের কাছে নোটিশ পাঠান। আগামী ৩০ অক্টোবর মামলার পরবর্তী তারিখে বিবাদীদের আদালতে উপস্থিত হয়ে বাদীর আনীত অভিযোগের উত্তর দিতে নির্দেশনা জারি করেছেন আদালত।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদরাসায় সংঘাত ও অনিয়ম, দুর্নীতির ঘটনা তদন্তের উদ্যোগ নেওয়ায় নাইক্ষ্যংছড়ি ইউএনওকে এবং অভিযোগ যাতে বিচার নিষ্পত্তি না করেন তার জন্য জেলা প্রশাসককে আসামি করে ৮ জনের বিরুদ্ধে অধ্যক্ষের পরামর্শে দ্বিতীয় স্ত্রী আদালতে এ মামলা করেছেন। অন্য আসামিরা ইতিপূর্বে অধ্যক্ষ সৈয়দ হোসেনের অনিয়ম, দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছিলেন। অভিযোগের কারণে বাদী রোজিনা আক্তার ও তার স্বামী সৈয়দ হোসেনের সম্মান ক্ষুণ্ন এবং আইনানুগ অধিকার খর্ব হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করেছেন।
এদিকে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ সৈয়দ হোসেন নিজের অনিয়ম, দুর্নীতি ধামাচাপা দিতে কৌশল হিসেবে দ্বিতীয় স্ত্রীকে দিয়ে মামলা করানোয় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সহকর্মী শিক্ষকবৃন্দ। মামলার আসামি আবদুল হাকিম, সৈয়দ নুর বলেন, প্রত্যেক নাগরিক আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। বিজ্ঞ আদালতে হাজির হয়ে অধ্যক্ষ সৈয়দ হোসেনের অনিয়ম, দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরা হবে। অধ্যক্ষ সৈয়দ ইতোপূর্বে দুটি তদন্তে দোষী প্রমাণিত হয়েছেন। বর্তমানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আরো একটি অভিযোগ তদন্তাধীন রয়েছে। সেই তদন্তে ফেঁসে যাচ্ছেন জেনে অধ্যক্ষ সৈয়দ দ্বিতীয় স্ত্রীকে দিয়ে আদালতে মামলাটি দায়ের করিয়েছেন।

মদিনাতুল উলুম মডেল ইনস্টিটিউট আলীম মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা আবু বক্কর ছিদ্দিক বলেন, ইতোপূর্বে জেলা প্রশাসকের পত্র জালিয়াতি করেও ক্ষান্ত হননি অধ্যক্ষ সৈয়দ। মাদরাসার অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে দ্বিতীয় স্ত্রী রোজিনাকে বাদী করে ডিসি, ইউএনও’সহ ৮জনের বিরুদ্ধে মামলা করায় শিক্ষক, অভিভাবকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে অধ্যক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গত, অধ্যক্ষ সৈয়দ হোসেনের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, শিক্ষকদের সাথে গ্রুপিং তৈরি, ছাত্রদের উস্কানি দিয়ে অন্যান্য শিক্ষকদের ওপর হামলাসহ নানান অভিযোগ করে আসছিলেন শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়রা।

x