বান্দরবানে ঐতিহ্যবাহী রাজপুণ্যাহ শুরু

বান্দরবান প্রতিনিধি

শুক্রবার , ৮ মার্চ, ২০১৯ at ৬:৪১ অপরাহ্ণ
161

বান্দরবানে বোমাং সার্কেলের শত বছরের ঐতিহ্যবাহী রাজপুণ্যাহ উৎসব (পইংজ্রা) শুরু হয়েছে।

আজ শুক্রবার (৮ মার্চ) সকালে ঐতিহ্যবাহী রাজকীয় পোষাক পরিধান করে রাজবাড়ী থেকে রাজকীয় বাঁশির সুরে স্থানীয় রাজার মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানস্থলে নেমে আসেন বান্দরবান বোমাং সার্কেল চিফ ১৭তম রাজা প্রকৌশলী উচপ্রু চৌধুরী।

এসময় তার সৈন্য-সামন্ত, উজির-নাজির, সিপাহশালাররা রাজাকে গার্ড দিয়ে রাজবাড়ি থেকে অনুষ্ঠানস্থল মঞ্চে নিয়ে আসেন।

বোমাং রাজা সিংহাসনে উপবিষ্ট হলে বান্দরবান জেলার ৭টি উপজেলার ৯৫টি মৌজা এবং রাঙ্গামাটি জেলার কাপ্তাই ও রাজস্থলী দুটি উপজেলার ১৪টি মৌজাসহ মোট ১০৯টি মৌজার হেডম্যান, ৮ শতাধিকেরও বেশি কারবারী, রোয়াজারা রাজাকে সারিবদ্ধভাবে কুর্নিশ করে জুমের বাৎসরিক খাজনা ও উপঢৌকন রাজার হাতে তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে কৃষি সচিব নাসিরুজ্জামান, বান্দরবান সেনা রিজিয়ন কমান্ডার বিগ্রেডিয়ার জেনারেল খন্দকার মো. শাহিনুর এমরান, জেলা প্রশাসক মো. দাউদুল ইসলাম, পুলিশ সুপার জাকির হোসেন মজুমদারসহ সরকারি-বেসরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বান্দরবানে ঐতিহ্যবাহী রাজপুণ্যাহ উৎসবে বোমাং রাজা সহ অতিথিরা

বোমাং পরিবার জানায়, তিন দিনব্যাপী জুমের বাৎসরিক খাজনা আদায়ের অনুষ্ঠান ঐতিহ্যবাহী রাজপুণ্যাহ উৎসব শুরু হয়েছে।

এবারের রাজপুণ্যাহ হচ্ছে বংশ পরম্পরায় ১৪১তম রাজপুণ্যাহ উৎসব।

১৮৭৫ সালে ৫ম বোমাং রাজা সাক হ্ন ঞো’র আমল থেকে বংশ পরম্পরায় ধারাবাহিকভাবে প্রতি বছর ঐতিহ্যবাহী রাজপুণ্যাহ উৎসব হয়ে আসছে।

প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবার রাজপুণ্যাহ মেলার অনুমতি না দেয়ায় মেলা করা যায়নি। তবে যথারীতি জুমের খাজনা আদায় অনুষ্ঠান চলবে তিনদিন।

এদিকে মেলার অনুমতি না দেয়ায় দূরদূরান্ত থেকে মেলায় স্টল এবং দোকান-পাট বসাতে আসা ব্যবসায়ীরা ফিরে গেছে।

প্রসঙ্গত, বংশ পরম্পরায় বোমাং রাজ প্রথা অনুযায়ী রাজ পরিবারের সবচেয়ে বয়জ্যেষ্ঠ পুরুষ রাজা নির্বাচিত হন।

ঢাক-ঢোল পিটিয়ে রাজকীয় পদ্ধতিতে দুর্গমাঞ্চলগুলোতেও পুণ্যাহ মেলার বার্তা পৌঁছিয়ে দেয়া হয়েছে রাজপরিবারের পক্ষ থেকে।

x