বান্দরবানের ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজগুলোর সংস্কার জরুরি

শুক্রবার , ৯ আগস্ট, ২০১৯ at ৬:২৭ পূর্বাহ্ণ
32

বান্দরবানের রুমা উপজেলায় ৬২টি বেইলি ব্রিজের মধ্যে ৫৪টিই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে বলে আজাদীতে প্রকাশিত সংবাদে জানা গেছে। ৪৫ কিলোমিটার সড়কে এই ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজ দিয়ে লোকজন যাতায়াত করছেন। ১৯৮০ সালে তৈরি করা এসব ব্রিজের কোনো সংস্কার কাজ কারো চোখে পড়েনি। যাত্রীদের দাবি, তাঁরা প্রতিদিন মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। গত ৭ আগস্ট ‘৬২ বেইলি ব্রিজের ৫৪টিই ঝুঁকিপূর্ণ’ শীর্ষক প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, প্রতিবছর বর্ষায় ৪৫ কিলোমিটার সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এবারও পাহাড় ধস, ছোট-বড় খানাখন্দ আর অসংখ্য গর্তের কারণে সড়কটি ভেঙে গিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। তাছাড়া এই সড়কে পর্যটকবাহী গাড়ির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে চিম্বুক ওয়াইজংশন তিনরাস্তা মোড় থেকে রুমা পর্যন্ত ২৯ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের জন্য ৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। আর জেলা সদর থেকে চিম্বুক পর্যন্ত ২৬ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল ৩ কোটি টাকা। এবারের বর্ষায় ওয়াইজংশন থেকে রুমা পর্যন্ত ২৬ কিলোমিটার সড়কে প্রায় ৩ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন মানে মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি ত্বরান্বিত হওয়া। যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নতি হলে মানুষ আপন গতিতে ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারে। যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নকে কোনো দেশের সার্বিক উন্নয়নের চাবিকাঠি বলা হয়। যোগাযোগ প্রতিবন্ধকতা উন্নয়নকে শুধু ব্যাহতই করে না, দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ প্রযুক্তি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ গুরুত্বপূর্ণ সব খাতে দেখা দেয় মন্থরগতি। বর্তমান সরকার তাই যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নেই সবেচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। গত আট বছরে বাংলাদেশের সড়ক, রেল, লঞ্চ ও আকাশপথের যোগাযোগে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। উন্নত দেশের মতো বড় বড় প্রকল্প হাতে নিয়ে সফলতার সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে যোগাযোগ খাত। বর্তমানে এ খাতে ১৫টিরও বেশি বৃহৎ প্রকল্প চলমান রয়েছে। সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ ছিল দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর সংযোগ স্থাপনে পদ্মা সেতু নির্মাণ। প্রকল্পটির ৬০ শতাংশেরও বেশি কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়ে গেছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি বলেছেন, গত ১০ বছরে সারাদেশে সড়ক যোগাযোগে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। এই উন্নয়ন আমরা অব্যাহত রাখবো। ঢাকা শহরের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।
এদিকে, গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে বিদেশি সহায়তাও অব্যাহত রয়েছে। গত জানুয়ারিতে দেশের গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ২০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ সহায়তার একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা।
এডিবির পক্ষে বাংলাদেশ আবাসিক মিশনের কান্ট্রি ডিরেক্ট মনমোহন প্রকাশ বলেছিলেন, বাংলাদেশ সরকারের গ্রামীণ এলাকায় শহুরে পরিষেবা দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি, তা বাস্তবায়নে এডিবি এ সহায়তা দিচ্ছে। এডিবি চায় গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হোক। এর ফলে গ্রামে বাস করা ৫ কোটিরও বেশি মানুষ সুবিধা ভোগ করবে। তাদের সামাজিক সেবা বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক বাজারে সরাসরি অংশগ্রহণ বাড়বে। শুধু তাই নয়, এ পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নের কারণে নতুন করে প্রায় ৩১ লাখ ৩০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে, উচ্চ প্রযুক্তির মাধ্যমে রোড মাস্টার পরিকল্পনা করা হবে। ফলে এখানকার গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে সড়কের নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতা তৈরি হবে।
এ পরিপ্রেক্ষিতে বান্দরবানের রুমা উপজেলায় ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজগুলোর সংস্কার জরুরি হয়ে পড়েছে। পাহাড়ের আঁকাবাঁকা সড়কটিও যেহেতু বিপজ্জনক, সেহেতু সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে হবে। রুমা উপজেলার দৃষ্টিনন্দন ট্যুরিস্ট স্পট বগালেক, রিজুক ঝর্ণা, ক্যাওক্রাডং, জাদিপাই ঝর্ণাসহ দর্শনীয় স্থানগুলো ভ্রমণে আসা পর্যটকরা যাতে নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে, তারজন্য ব্যবস্থা নিতে হবে। রুমা-চিম্বুক সড়কের জন্য নতুন বরাদ্দ প্রয়োজন। দেশের সড়ক ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হবে দেশ-তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আমরা প্রত্যাশা করি, সংকট নিরসনে অনতিবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

x